somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক শনিবারের আড্ডা

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ কয়েক সপ্তাহ থেকে সবার সাথে আলাপ করেই আড্ডার দিনক্ষণ ঠিক হলো। নাগরিক জীবনের ব্যস্ততায় খালি ছোটাছুটি। আড্ডার ফুসরত কোথায়? তাই সবার সম্মতিতে ঠিক হলো শনিবার দিন ধানমন্ডির 27 নম্বর রোডে এক চাইনীজ রেস্টুরেন্টে বিকেল বেলা আমরা দু'ডজন বন্ধু বসব। যেমন কথা তেমন কাজ। শনিবার দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আমরা দুই বন্ধু যথাসময়ে হাজির। ঢুকেই বললাম, টেবিল লাগাতে। জিগ্যেস করল, ক'জন লোক। বললাম, দু'টো টেবিল এক করে 20 জনের মতো বসার আয়োজন করতে। ওয়েটারকে বললাম, এখানে যখনই গেস্ট আসে তখনই যাতে খাবার দেওয়া হয়।

সময় গড়ায়। বন্ধু বান্ধব সবাই আসছে। মোবাইল ফোনের দৌরাত্মের কারণে সবাই 15 মিনিটের মধ্যে চলে আসছে। যদিও বেশ ভাল করেই জানি, অনেকে বনানীতে বা মগবাজারে জ্যামের মধ্যে বসেও বলছে 15 মিনিটের মধ্যে আসছে। কি আর করা? কেউ আসল শুধু বউ নিয়ে। কেউ আসল বউ(দের?) ও বাচ্চাদের নিয়ে। কেউ আসলই না। কেউ হাজির হলো রাত নয়টার দিকে। ছেলেরা এক পাশে বসল। বউরা তাদের বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে আরেক পাশে। হঠাৎ করে সবার বয়স খুব কমে গেল। শুরু হয়ে গেল আগের মতো আড্ডা আর খিস্তি (অবশ্যই নীচু গলায়)। কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না। যারা অফিস আর ব্যবসায়িক কাজকর্মের কথা পাড়তে চাইলো তাদেরকে উওম মধ্যমের হুমকি দেওয়া হলো। তার মধ্যে এক বন্ধুর বাচ্চা বমি করাতে সে তার বউ বাচ্চা নিয়ে উধাও। আরেক বন্ধুর ছেলে আলু ভাজির (ফ্রেঞ্চ ফ্রাই) জন্য কান্না শুরু করলো। বাবা আর 4 বছরের ছেলে দু'জনেই বেশ গোঁ ধরে থাকাতে কিছুণের জন্য আড্ডার ব্যাঘাত ঘটলো। একজন খেতে চায় আর আরেকজন ভাবে ওতো বেশী খেলে বদহজম হবে।

ওয়েটার ভাবে এটা কি ধরণের আয়োজন? 4/5 জন করে আসছে। খাচ্ছে আবার চলে যাচ্ছে। টেবিলের এক দিকে জটলা করে আবার ক'জন আড্ডা মারছে। ও ব্যাটা বুঝবে কি করে যে, যুৎসই আড্ডা দেওয়ার জন্য এধরণের ওপেন চাইনীজ ছাড়া আর কোন বিকল্প আমাদের হাতে ছিল না। তার মাঝে ঢাকায় কয়েক ঘন্টার জন্য বিদু্য থাকে না। বাইরে গরম। তাই চাইনীজ খাওয়া হলো, ঠান্ডাও পাওয়া গেল। তারই ফাঁকে ফাঁকে যদ্দুর সম্ভব আড্ডা মেরে নেওয়া। চলল রাত 11টা পর্যন্ত। মন্দ না। দেশে যখন সময়ের ব্যাপারে সবাই খুব স্বাধীন, তাই বাঙ্গালীর আড্ডার জন্য অপেন আইটেম হিসেবে আড্ডার ব্যবস্থা করা হলো। সন্ধ্যা 7 টা থেকে রাত 11টার মধ্যে যদি কোন বন্ধু ঢুঁ মারতে না পারে তা হলে অবশ্যই ডাল মে কুছ কাল হ্যা। আড্ডা হয়েছে কি না জানি না, তবে সবাইকে জড়ো করতে পেরেছি আর তাদের দন্তবিকশিত বদনখানি দেখতে পেরেছি, সেটা কি আর কম আনন্দের(ক্লোজআপহাসি)?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম কি নারী নেতৃত্ব বিরোধী?

লিখেছেন রাশিদুল ইসলাম লাবলু, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ইসলামে নারী নেতৃত্ব জায়েজ কিনা এ বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নারী নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় মূলক বেশ কিছু পোষ্টও আমার চোখে পড়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামাত ক্ষমতায় এলে আমাদের যে বড় ক্ষতি হবে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩২


জামাত ক্ষমতায় এলে আমাদের সমাজে যে বড় ক্ষতি ও ক্ষত তৈরি হবে, তার কিছু নমুনা ইতিমধ্যেই দেখা গেছে। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো তারা ক্ষমতায় এলে প্রথম দিনেই সংবিধান ছিঁড়ে ফেলবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×