somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নতুন মোবাইল ফোন

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ৭:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মোবাইল ফোনের প্রতি আমার বাড়তি কোন আকর্ষণ বা আসক্তি নেই। যখন দরকার, শুধু খবরটা জানবার বা জানাবার জন্য ফোনটার ব্যবহার। কিন্তু মোবাইল ফোনের সুবিধার পাশাপাশি এর বিপওি যে কতো বেশী তা বুঝাই কি করে। মিথ্যে বলার হাতেখড়ি ও কসরৎ দেওয়া হয় মোবাইল ফোনে। অধিকাংশ সময় ফোন করলেই বলে, "এই তো আর পাঁচ মিনিট"। "এই তো চলে আসছি"। "না এখনও মিটিং-এ"। "সরি, জ্যামে পড়ে গেছি, আজকে তোমার সাথে দেখা হবে না"। "সরি, ফোনে চার্জ দিতে ভুলে গিয়েছিলাম"। আরও কতো কি? ভুক্তভোগীরা আরও চমৎকার চমৎকার উদাহরণ দিতে পারবেন।

ইদানীং আমি একটা কল্ পাচ্ছিলাম, ফোন তুললেই জিগ্যেস করে, "ভাই, এডা কোনহানে"? যখনই জিগ্যেস করি, কাকে চান? ফোন রেখে দেয়। আবার কিছুক্ষণ পরে ফোন করে বলে, "ভাই, এডা কোনহানে"? লোকটা কাকে চায় সেটা বলবে না। জিগ্যেস করলেই ফোন রেখে দেয়। এ কি যন্ত্রণা!!! শেষ পর্যন্ত আমি বলা শুরু করলাম, "আমি যেহানে ফোনডাও সেইখানে"। লোকটাকে কি করে বুঝাই যে মোবাইল ফোনের কোন স্থায়ী ঠিকানা নেই।

তার ক'দিন পরে শুরু হলো, আরেকজনের ফোন। ফোন করেই জিগ্যেস করে, "ভাই, এই সীম কার্ডটা কি আপনার"? আমি উওর দিলাম, "আমার না হলে তো সীমটা আপনার কাছেই থাকতো"। অন্যদিক থেকে উওর দেয়, "কাগজ আছে তো"? এবার দেখি, মহা ফ্যাসাদ। ভাই, আপনার কাছে কাগজ থাকলে যান না ফোনের দোকানে। মেজাজ এবার সত্যি গরম। রাগ করে ফোন করলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ভাগ্নেকে, "এই সীম কার্ডটা কার"? অন্যদিক থেকে ভাগ্নে হাসতে হাসতে উওর দেয়, "কেন মামা কোন সমস্যা? আপনি এখন কোথায়? আপনার জন্য আরেকটা সীম কার্ড নিয়ে আমি এখনই আসছি"। ততক্ষণে মেজাজ আমার ভীষণ বিগড়ে গেছে। বললাম, "সীম কার্ড আনতে হবে না, আজকে তোর মাথা ভাঙ্গব"। বলে ফোনটা বন্ধ করে দিলাম।

এর পর যখন ফোনটা অন করলাম, শুধু দেখায় আউট অব সার্ভিস। ভাগ্নী হাসতে হাসতে বলে, "মামা, আপনার সীম কার্ড বাতিল হয়ে গেছে"। ওর ফোনটা দিয়ে দোস্তকে ফোন করে বললাম, "আমি বসুন্ধরা সিটিতে আসছি। তুই আয়"। ভাগ্নী এলবাম থেকে আমার একটা পাসপোর্ট সাইজের পুরনো ছবি বের করে বলল, "এটা নিয়ে আরেকটা ছবিসহ আইডি কার্ড নিয়ে যান। নতুন সীম কার্ড পাবেন"। বসুন্ধরা সিটিতে ফোনের দোকানে গিয়ে ছবি দেওয়ার পর দোকানদার বলে, "ছবিতো আপনার 2 কপি লাগবে। এক কপিতে হবে না"। দোস্ত বলে, "অসুবিধা নাই, আমি ছবি নিয়ে আসছি"। আমি বলি, তোর ছবি দিয়ে কি হবে? বলে, "ছবি হলেই হলো"। করিৎকর্মা দোস্ত 5 মিনিটের মধ্যে ছবিসহ হাজির। নিজেই ফোনের ফর্ম ফিল আপ করে ছবি দিয়ে সীমকার্ড হাতে নিয়ে ফোন অ্যাক্টিভ করে দিল। না, পয়সাটা নিজের পকেট থেকেই দিলাম। শুধু নামটা আর ছবিটা জানী দোস্তের। হাসতে হাসতে বলে, "এক্সট্রা ছবি সবসময়ই রাখি, বন্ধুদের উপকার করার জন্য"। বড়োই উপকারী বন্ধু আমার। শুধুহাসতে হাসতে সে বলল, "ফোনটা সামলে রাখিস্ । কালা জাহাঙ্গীরের হাতে পড়লে র্যাব কিন্তু আমারে ক্রসফায়ারে ফেলবে"।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০০৭ সকাল ৭:০৪
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাংবাদিক নারীরা কি টিপিক্যাল, চিন্তার গভীরতা কি ওদের কম??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



সাংবাদিক নারী বা সাংবাদিকতার সাথে সম্পর্কিত পেশায় জড়িত মেয়েরা কি একটু টিপিক্যাল টাইপের হয়??
আমার তো তা-ই মনে হয়! এছাড়া, চিন্তার গভীরতা ওদের একটু কমও মনে হয়েছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×