somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মামার কান্ড কারবার:

১০ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ৮:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার মামা অত্যন্ত করিৎকর্মা। যখন তিনি সৈনিক ছিলেন তাকে আমরা জলপাই মামা ডাকতাম। এখন মামা সিভিল জীবনে ফিরে এসেছেন তাই ভুলেও সেই নামে ডাকি না। মামার নাম ছিল আমাদের জন্য ত্রাস। ছোটবেলায় বেয়াড়াপনার জন্য মা মামাকে ডাকার কথা বললেই সুড়সুড় করে সিধা হয়ে যেতাম। তিনি আবার চ্যাংদোলা করে নিয়ে যেতেন গন্তব্যে। তাই তাকে ভয়ও পেতাম আবার শ্রদ্ধাও করতাম। চান্স পেলে যে মামার প্রতি ক্রোধটা জায়গা মতো লাগাতাম সেটা বলাই বাহুল্য। একবার স্কুলের পাশ দিয়ে মামাকে যেতে দেখলাম। গুলাই মেরে মামার মাথা ফুটিয়ে দিলাম। সেই ব্যথায় মামাকে কাতরাতে দেখে একটা অসুস্থ আনন্দ বোধ করেছিলাম। তারপর থেকে মামা আমাদের সাথে একটু রয়েসয়ে।

মামা হচ্ছেন আমাদের ভীতু পরিবারে একমাএ বীর ও সাহসী মানুষ। তাকে নিয়ে গর্বিত না হয়ে কি পারি? আমরা কখনও ভুলেও বলতাম না যে আমার নানা একমাএ মামার পেছনে কি পরিমাণ অর্থ সম্পদ অপচয় করেছেন। ক্যাডেট কলেজ থেকে শুরু করে কর্মজীবন পর্যন্ত মামার পেছনে সবচেয়ে বেশী অর্থ গুনেছেন নানা। সেটা নিয়ে অবশ্য আমার মা, খালা বা নানার মধ্যে কোন দু:খ ছিল না। বরং তারা চৌকস মামাকে নিয়ে গর্বিত ছিলেন। দেশ বিদেশের সার্টিফিকেট ও মেডেল শোভ বাড়াতো নানার ড্রইং রুমের দেওয়াল। সেটা দেখে নানার পরিবার সকল দারিদ্র ও দৈন্যের শোক ভুলে থাকতো।

সেই মামার কীর্তিকলাপ নিয়েই আজকের গল্প। ঢাকার অদূরে আমার নানার একটা বাগান আছে। ঢাকা শহর বাড়তে বাড়তে এখন এই গ্রামে এসেও ধাক্কা দিয়েছে। নানার বয়স হয়েছে। আমার মা ও খালারা তাদের নিজেদের হেঁশেল নিয়ে ব্যস্ত। তারাও এখন নানার সম্পওির চেয়ে নিজেদের পেট পরিবারের ধান্ধায় ব্যস্ত থাকেন। এদিকে বাগানের যত্ন আওি নেই। আম জাম, কাঁঠাল, শিল, কড়ই, গর্জন, নিম, সেগুন গাছ একটার সাথে একটা লেগে পুরো জঙ্গল হয়ে গেছে। এমনকি সেখানকার পাড়া প্রতিবেশীরাও বলা শুরু করলো যে বাগান বাড়ী নাকি ভুত পেত্নী আর জন্তুদের খোঁয়ার হয়েছে। তারাও নানাকে এসে হুমকি ধামকি দেওয়া শুরু করলো।

মামা তার ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে দেশে বিদেশে ব্যস্ত থাকেন। নানার বয়স হয়েছে। নিজেও হূদরোগী। মানুষের অভিযোগ আপওি শুনে তার মনও বিষিয়ে গেছে। বাগান বাড়ীটার একটা হিল্ল্লে হলে তিনিও আনন্দ পান। আমার মা খালারা অবশ্য বাগান বাড়ী বিক্রির পক্ষে। এটা কেনার জন্য লোকজনেরও ভীঁড়। কিন্তু নানা বলেন, এই বাগান আর জমি আমার অনেক রক্তের দামে তৈরী। না খেয়ে না পড়ে এটা আমি গড়েছি কারও কাছে বিক্রির জন্য না। নানার গোয়ার্তুমিতে মামাও বিরক্ত। মামার কথা হচ্ছে দুই দিনের দুনিয়া খেলাধুলা আর মউজ কইরা যাও। তাই এবার নানা মামাকে ডেকে বললেন বাগান বাড়ীর একটা বন্দোবস্ত করতে। মামা অতি উৎসাহে বললেন, কোন সমস্যা না। আমি সব ঠিক করে দিচ্ছি। তিনি মোবাইল ফোনে ব্যস্ত ত্রস্ত হয়ে বললেন আমি এখনই লোক ঠিক করছি। মায়ের কাছ থেকে শোনা যে এই বাবদ খরচ হিসেবে মামা এখন নানার কাছ থেকে লাখ তিনেক টাকা নিয়েছেন। আমরা যারা মামাকে চিনি তারা প্রমাদ গণতে শুরু করেছি।

গত শুক্রবারে আমরা নানার বাগান বাড়ী দেখতে গিয়ে আমাদের আক্কেল গুড়ুম। নানা বাকরুদ্ধ। মা আর খালাও বোবা। আমরা সবাই চুপচাপ। কারণ, সাথে মামা। বুড়ো বয়সে মামার হাতে চ্যাংদোলা হওয়ার কোন খায়েশ নেই। মামা পুরা বাগান বাড়ী ফকফকে সাদা করে ফেলেছেন। কোন গাছ নেই। শখের আম জাম, সেগুন গর্জন গাছ উধাও। স্বয়ং নানার মাথায় হাত। কিন্তু করিৎকর্মা মামাকে ডেকে কেউ কিছু বলবে সেই সাহস নেই। এমনকি বাগান বাড়ী বেরোবার সময় মসজিদের হুযুরও বলে গেলেন বাগানে রাখা তার ষোল টাকা দামের লোটা উধাও। হুযুর এখন নাপাকী থেকে বাঁচার জন্য কি খালি কুলুখ করবেন?

খালি বাগানে এখন মামা সারি করে সেগুন গাছের চারা লাগিয়েছেন। বাসায় ফিরে মায়ের কাছে যা শুনলাম তাতে আমারও আক্কেল গুড়ুম। মা খালি ফিসফিস করে বলল, বাগানের পেছনের জায়গাটা নাকি মামা দোকান তৈরীর জন্য দিয়ে দিয়েছে। আর গাছগুলো বিক্রি করে কতো টাকা লোপাট করেছেন তার কোন খবর নেই। তবে আমরা এখন অপেক্ষায় আছি, জঞ্জাল পরিস্কার বাবদ মামা নানার কাছে কতো হাঁকেন। তারপরও আমরা খুশী। মামার প্রশংসায় গদগদ। কারণ, আমরা ভীষণ অথর্ব। মা আর খালারা খুবই স্বার্থবাদী। তারা যদি মনোযোগ দিতো তাহলে বাগানের এই করুণ অবস্থা হতো না। এখন তারা খালি মাথা চাপড়াচ্ছে। গুণধর ভাইকে তো আর কিছু বলা যায় না। আসুন আমরা সবাই নীরবে বন্দনা করি জলপাই মামার

"কোলাহল তো বারণ হলো, এবার কথা কানে কানে
এখন হবে প্রাণের আলাপ কেবলমাএ গানে গানে
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×