(সকল বিশ্বাসের পাঠকদের জন্য)
ঈদ আসলেই আমরা খুশী খুশী একটা ভাব নিয়ে আসি। সবচেয়ে গোমরা ও ভয়ংকর মুখেও ভাসে এক চিলতে হাসি। গরীব-ধনী, কেরানী-সেক্রেটারী, চোর-বাটপার, গরুর ব্যাপারী, র্যাব-সন্ত্রাসী, ধান্ধাবাজ-আড়তবাজ সবাই খুশী। চারপাশে হাসি আর আনন্দের ছড়াছড়ি। চারপাশের জীবনে নতুনত্ব। নতুন সাজে, বিউটী পালর্ারের সুবাদে, কাপড়ের বাহারে, মেহেদীর রংগে, পোশাকের ঢংগে, বাঁকা চোখের চাহনীতে সর্বএ বিরাজ করবে স্বগর্ীয় আনন্দ। এক টুকরো গোশতের ভাগ পেয়ে দরিদ্র ভিখিরীর মহা উল্লাস। সত্যি স্বগর্ীয় আনন্দ।
একই ভবনে থাকি। কথা বলিনি কোনদিন। আজ দেখা হয়ে গেলে সালাম দিয়ে পেটে পেট ঠেকিয়ে কোলাকুলি করে এক চিমটে হাসি ঠোঁটে লাগিয়ে "বাসায় আসবেন" বলে মেকী নেমন্তন্ন। কি চমৎকার আয়োজন। কি ভীষণ অন্ত:সারশূণ্য জীবণ-যাপন। খোলসের ভেতরে বসবাস, তাতেই আনন্দ আর তৃপ্তির ছড়াছড়ি। মিথ্যে কি বলেছি? তাহলে বলুন, এবার ঈদের মাংসের সবটুকু দিয়ে এসেছি গ্রামের নিরন্নদের জন্য। শীতার্ততার মধ্যে যাদের একটু প্রোটিন সংযুক্তির প্রয়োজন। আমরা যারা পড়ি, লিখি, অভিনয় করি, টাকা কামাই, ঘুস খাই, গাড়ি হাঁকাই, গরু কিনতে গিয়ে গরু হযে যাই তারাই মনোপলি করে রেখেছি ঈদের আনন্দ। বাকীদের জন্য রেখেছি ছিঁটেফোটা। তারপরেও তৃপ্তি, তারপরেও আনন্দ, তারপরেও ঈদ। একটি ব্যতিক্রমী ঈদের প্রত্যাশায় ঈদ মোবারক।
নজরুলের কবিতার ক'টি লাইন মনে পড়ে:
"..মনের মাঝে পশু যে তোর
আজকে তারে কর্ জবেহ্
পুলসেরাতের পুল হতে পার
নিয়ে রাখ্ আগাম রশিদ.."

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

