(লখাটি প্রকাশ পেয়েছে আড্ডার ইংরেজী ভার্সনে 16'ই ডিসেম্বর। বাংলায় অনুবাদের চেস্টা ক্ষমা সুন্দর দৃস্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ।)
আমরা যে বিশ্বপল্লীতে বসবাস করছি তাতে বাংলাদেশ কোন না কোনভাবে সংবাদ শিরোণাম কেড়ে নেয়। সেই সংবাদ ভাল, খারাপ বা বেদনাবহ হোক - তাতে কিছু যায় আসে না। এ বিশ্বকে দেয়ার মতো ও তা নিয়ে অহংকার করার মতো আমাদের অনেক ভাবনা ও সম্পদ রয়েছে। "বাংলাদেশ সবার সেরা" এটা নিছক জাতীয়তাবোধের প্রকাশে কৌশলগত লেখনী নয়। অতীত ও বর্তমানকে মুখোমুখি করে আনন্দ-বেদনা ও অহংকারের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে নতুন ভবিষ্যত নির্মানে প্রেরণা দেয়ার জন্যে আমার এই লেখা। "বাংলাদেশ সবার সেরা"-এই লেখা আমি নিবেদন করব এদেশের সেই অদম্য সাহসী নতুন প্রজন্মের জন্য যারা এদেশকে পথ দেখাবে নতুন মিলেনিয়ামে। সমাজে পরিবর্তন আসে ভাবনার হাত ধরে আর অনর্দৃষ্টির মাধ্যমে। এই উপলদ্ধির ধারাবাহিকতায় আমাদের এই নতুন প্রজন্ম যে নতুন যুগ সৃস্টি করবে তা অবশ্যই আমরা আমাদের জীবনকালে প্রত্যক্ষ করব।
শিল্পীর তুলিতে আঁকা স্বপ্নের দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। জালের মতো বিস্তৃত শত শত নদীগুলো ব-দ্বীপবিশিষ্ট এদেশের প্রাণের উৎস। এদেশের নদীগুলো যে পরিমান পানি প্রবাহ করে তা সমগ্র ইউরোপের সমস্ত নদীগুলোকে একএিত করলেও তার সমান হবে না। বিশ্বে উষ্ণতার বৃদ্ধি ও গ্রীনল্যান্ডে বরফ গলার সাথে সাথে বাংলাদেশের মতো সমুদ্র উপকুলবতর্ী দেশগুলো যে হারিয়ে যাবে তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় এই বিশ্বকে রক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেতন ভাবে কাজ করতে হবে। প্রাচীন বাংলা থেকে আজকের বাংলাদেশের রূপানতর ঘটেছে নিজস্ব পরিচয় রায় তার অনন্য সংগ্রামের ধারায়। ইতিহাসের পাতায় দেখা যায়, এদেশের মানুষের জীবনধারা বিপর্যস্ত হয়েছে প্রকৃতির হাতে, ঔপনিবেশিক শত্রুর হাতে, আর আপনজনদের হাতে। তবুও, বাংলাদেশ গৌরবের সাথে ফিরে আসে তার হৃদয়ের কাছে তার মানুষের কষ্ট মুছে দিতে আর জীবনকে নতুন করে গড়ে তুলতে। সেজন্যই, বাংলাদেশ সবার সেরা।
বাংলাদেশে প্রকৃতি আর মানুষ একএিত হয়ে হাজার বছর ধরে বুনন করে আসছে চমকপ্রদ জীবনধারা। আমরা যখন জাতীয় সংগীত গাই, আমরা সমর্পন করি আমাদের হৃদয় ও আত্মাকে এদেশের অপূর্ব সৌন্দর্যের কাছে, ফাগুনের পাগল করা আমের বনের ঘ্রানের কাছে, অঘ্রানের শষ্যভরা মিষ্টি হাসির কাছে। এদেশের সুখ আর দুঃখ তাই ভীষণভাবে দোলায় আমাদের মনকে। প্রকৃতি আর মানুষ রচনা করেছে ছন্দময় এক জীবনধারা, অদম্য এক জাতি - যার নাম বাংলাদেশ।
পৃথিবীর সমস্ত বাধা অতিক্রমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের গৌরবগাঁথা ইতিহাস সত্যি অনন্য। সমপ্রতি প্রকাশিত এক তথ্যে দেখা যায়, সে সময়ের মার্কিন পররাস্ট্র সচিব হেনরী কিসিঞ্জার 1971 সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য দোষারোপ করছেন ভারতকে। তিনি উপেক্ষা করছিলেন পাকিস্তানী বাহিনীর বর্বোরচিত হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে এদেশের সাধারণ মানুষের স্বতস্ফুর্ত জাগরণকে, অস্বীকার করছিলেন এদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে। হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী ও তার দোসর জামাতী ও রাজাকাররা নয় মাসে হত্যা করে তিরিশ লক্ষ বাঙালীকে। কিন্তু তারা হত্যা করতে পারেনি এদেশের স্বাধীন চেতনাকে-মননকে। সত্যি কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে কখনো ন্যায় বিচার আসে না, যদিও আসে তা হয় অতি বিলম্বে। তাই, হানাদার বাহিনীর দোসর জামাতী ও রাজাকারদের বিচারের মুখোমুখি হতে হয় না, যেভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান নাজীরা নুরেমবার্গে বিচারের মুখোমুখি হয়েছিল । বাংলাদেশে বরং তারা পুনর্বাসিত হয় সামাজিক আর রাজনৈতিকভাবে। সম্ভবতঃ বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাএ দেশ যেখানে বিচারের পরিবর্তে যুদ্ধাপরাধীরা রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত হয়েছে, মন্ত্রিত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হয় 1971 সালের 16ই ডিসেম্বর। এদেশকে কেউ কখনো দমিয়ে রাখতে পারেনি। তাই, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে দু'বার। প্রথমবার পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাত থেকে, দ্বিতীয়বার এরশাদের সামরিক জান্তার হাত থেকে। এদেশবাসী এখন আবার সংগ্রাম করছে মৌলবাদী ধর্মান্ধতা, সন্ত্রাস ও দুনর্ীতির হাত থেকে বাচাঁর জন্যে।
এবছরের আগস্ট মাসের 17 তারিখে একযোগে সারাদেশে 459টি ছোট বোমা বিস্ফোরিত হয়। সরকার যখন এধরণের জঙী আক্রমন ঠেকাতে ব্যর্থ, এদেশ তখন তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারাচ্ছে। এধরণের ধমর্ীয় সন্ত্রাস এই জাতি কখনো দেখেনি। এ ধরণের জেহাদী মৌলবাদী বাঙালী জাতির অংশ নয়। এরা কখনো এদেশবাসীর মন ও আত্মার প্রতিফলন করে না। দেশবাসী একাওরের চেতনাকে সঙী করে রুখে দাঁড়াবে এসব ধর্মান্ধ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। জনগণ আর মোহাচ্ছন্ন ও স্বার্থান্ধ রাজিৈতক গোষ্ঠীকে সহ্য করবে না, যখন এদেশের হৃদয় ও আত্মা হচ্ছে রক্তাত্ব। বর্তমানে তাই প্রয়োজন, সর্বসম্মত এক অন্তবতর্ীকালীন সরকার যারা স্বাধীনভাবে, নির্ভয়ে ও সবের্াচ্চ শক্তি দিয়ে মুছে দিবে সন্ত্রাসীদের চিহ্ন চিরতরের জন্য।
বাংলাদেশে ইতিহাসের পুনরাবৃওি সত্যি লক্ষনীয়। সবচেয়ে ক্ষমতাশালী শক্তি ধুলিসাৎ হয়ে গেছে জাগ্রত জনতার পায়ের কাছে। তাকিয়ে দেখুন 1969 সালের দিকে, তাকিয়ে দেখুন 1971 সালের দিকে, তাকিয়ে দেখুন 1990 সালের দিকে। জাগ্রত জনতার চেতনাকে মোহাচ্ছন্ন ও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে, কবিতার পংক্তিমালা দিয়ে, সন্ত্রাসী শক্তির পেশীজোর দিয়ে। ঐসব অপচেস্টা নিশ্চিহ্ন হয়ে স্থান নিয়েছে ইতিহাসের আবর্জনায়। শক্তিশালী ভবন আর কবিতার পংক্তিমালা বিলীন হয়ে গেছে জাগ্রত জনতার রোষের কাছে। এদেশে আমরা খুঁজে পাই অদম্য এক জাতির অসীম শক্তির উজ্জল চিএ।
ক্রমশঃ....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

