সৌজন্যে: ভোরের কাগজ
জানুয়ারী 15, 2006
শাইখের নির্দেশ মানা ও সাঈদীর জেহাদি বই পড়া ছিল বাধ্যতামূলক : জেএমবি কমান্ডার মহম্মদের জবানবন্দি
চট্টগ্রাম অফিস : বিভিন্ন জেহাদি বই পড়েই নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্র মৌলবাদী জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের ক্যাডাররা ইসলামি হুকুমত কায়েমের জন্য সশস্ত্র বিপবের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। সংগঠনের প্রধান শাইখ আবদুর রহমানের নির্দেশ এবং এসব জেহাদি বই ছিল তাদের প্রেরণার উৎস। কয়েকটি ইসলামি দলের শীর্ষ নেতা এবং নিজ সংগঠনের মজলিশে শুরার সদস্যদের জেহাদ সম্পর্কিত লিখিত বই পড়া ছিল তাদের জন্য বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে জামাত নেতা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর বইও রয়েছে।
জেএমবি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কমান্ডার জাবেদ ইকবাল ওরফে মহম্মদ গত শুক্রবার আদালতে 164 ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে গিয়ে এ তথ্য উলেখ করে বলে জানা গেছে। বিশ্বসত্দ সূত্রে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির এ তথ্য পাওয়া গেলেও মামলার তদনত্দকারী র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন কিংবা আদালত সংশিষ্ট কোনো সূত্রই এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করছে না। তবে গত 13 ডিসেম্বর নগরীর পাহাড়তলী কাট্টলী কর্নেল হাট এলাকা থেকে মহম্মদকে গ্রেপ্তারের সময় তার আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকের সঙ্গে জামাত নেতা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর বিপুলসংখ্যক বই এবং ওয়াজের ক্যাসেটও উদ্ধার করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, র্যাব গত 13 ডিসেম্বর পাহাড়তলীর আসত্দানা থেকে জেএমবির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমান্ডার জাবেদ ইকবাল ওরফে মহম্মদ, কঙ্বাজারের আঞ্চলিক কমান্ডার নাইমুজ্জামান সোহাগ ওরফে জাফরকে গ্রেপ্তার করে। পরবতর্ী সময়ে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী র্যাব বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরো কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। এদের মধ্যে মহম্মদসহ চারজনকে র্যাব চার দফায় টানা 37 দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এর মধ্যে মহম্মদ এবং নাইমুজ্জামান সোহাগ গত শুক্রবার মহানগর হাকিম মোকছেদুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে 164 ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
আদালত সূত্র জানায়, প্রদত্ত জবানবন্দিতে মহম্মদ সংগঠনের প্রধান শাইখ রহমানের নির্দেশে আতাউর রহমান সানীর তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামে বোমা হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিল বলে দাবী করে। তার পাশাপাশি সে উলেখ করে, জেএমবিতে যোগ দেওয়ার পরে তাদের বিভিন্ন জেহাদি বই পড়তে দেওয়া হয়। এসব বই পড়ে তারা দেশে ইসলামি রাষ্ট্র কায়েমে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। পরবতর্ী সময়ে তাদের দেশেই সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হতো। র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা এসব জেহাদি বই পড়ে ইসলামি বিপবের প্রতি উদ্ধুদ্ধ হয়েছিল বলে স্বীকার করে।
বিশ্বসত্দ একটি সূত্র জানায়, মহম্মদ তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উলেখ করেছে, মজলিশে শুরার এক সদস্যের লিখিত জেহাদ সম্পর্কিত বই এবং জামাত নেতা সাঈদীর বিভিন্ন ইসলামি বই পড়া জেএমবি সদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। এ দুজনের বই পড়া এবং সংগঠনের প্রধান শাইখ আবদুর রহমানের নির্দেশ ছিল তাদের সব কিছুর মূল। এ দুটি বিষয় কোনোভাবে অগ্রাহ্য করা কোনো সদস্যের প েসম্ভব ছিল না। এছাড়া সে আরো স্বীকার করেছে, ঢাকায় আলিয়া মাদ্রাসায় পড়ার সময় সে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিল।
সূত্রমতে, মহম্মদ তার জবানবন্দিতে বলেছে, 2001 সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগে পড়ার সময় তার সঙ্গে আতাউর রহমান সানীর পরিচয় হলে সে জেএমবিতে যোগ দেয়। লাগাতার বোমা হামলার মাধ্যমে দেশজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা ছিল তাদের মূল ল্য। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মহম্মদ তাদের সংগঠনের প্রধান শাইখ আবদুর রহমান, আতাউর রহমান সানী, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাই ছাড়াও মোট 14 জন শীর্ষ নেতার নাম প্রকাশ করে। এর মধ্যে মজলিশে শুরার 7 সদস্যও রয়েছে। সে আরো জানায়, ইসলামি বিপবের জন্য তাদের প্রায় 2 হাজার এহসার এবং গায়ের এহসার সদস্য কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে তারা কিছুটা নিষ্ক্রিয় থাকলেও পরবতর্ী সময়ে অবস্থা বুঝে পুনরায় সক্রিয় হবে।
সূত্রমতে, মহম্মদের নেতৃত্বে 17 জন স্পট কমান্ডার গত 17 আগস্ট চট্টগ্রামে একযোগে বোমা হামলা চালিয়েছিল বলে সে স্বীকার করে। এছাড়া সে আরো জানায়, সানী ঢাকা থেকে এস এ পরিবহনের মাধ্যমে বিস্ফোরক পাঠানোর পর মিজান তার আসত্দানায় বসে বোমাগুলো তৈরি করেছিল। বাংলাভাইয়ের সঙ্গে তার অসংখ্যবার সাাৎ হলেও শাইখ রহমানের সঙ্গে দেখা হয়েছে মাত্র চারবার। আতাউর রহমান সানীই তাদের সব কাজের সমন্বয় করতো। সানী যখন ঢাকায় গ্রেপ্তার হয় মহম্মদ তখন তার সঙ্গে ছিল। কিন' সে কৌশলে পালিয়ে যায় বলে স্বীকার করে।
উলেখ্য, এর আগে অন্যান্য জঙ্গির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদানের েেত্র তেমন কড়াকড়ি করা না হলেও মহম্মদের স্বীকারোক্তির সময় র্যাব রহস্যজনকভাবে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এমনকি র্যাবের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাছেরকে সন্ধ্যা পর্যনত্দ আদালতে অবস্থান করতে দেখা গেছে। জঙ্গিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বিবরণ যাতে কোনো সংবাদ কর্মীদের হাতে যেতে না পারে সে ব্যাপারে আদালতের কর্মচারীদের প্রতি র্যাবের কড়া হুঁশিয়ারী ছিল বলে জানা গেছে।
সাঈদীর লেখা বিভিন্ন বই সম্পর্কে মহম্মদ যে জবানবন্দি দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে, সে ব্যাপারে জানার জন্য র্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংশিষ্ট কোনো কর্মকর্তাই এর সত্যতা স্বীকার করেননি। এদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊধর্্বতন কর্মকর্তা অবশ্য বলেন, মহম্মদতো আগেই বলেছে জেহাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য তারা এসব ইসলামি বই পড়তো। তবে সাঈদীর লিখিত বই এবং মহম্মদের জবানবন্দির ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে ঐ কর্মকর্তা বলেন, মহম্মদ তার জবানবন্দিতে সাঈদীর বই সম্পর্কে কোনো কিছু বলেনি।
এদিকে মহম্মদের আস্তানা থেকে উদ্ধারকৃত জামাত নেতা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর লেখা বই ও ওয়াজের ক্যাসেট মামলার জব্দ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

