25 শে মার্চের কালো রাতের কথা কতবার শুনেছি আর বইয়ের পাতায় পড়েছি। ছোট বেলার স্মৃতি ঝাপসা ভাবে জেগে উঠে। রক্তে ভেজা মৃতদেহগুলো ভ্যানে করে নিয়ে যেতে দেখে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। এই অভাবনীয় হূদয়বিদারক দৃশ্য এখনও আমার অনুভুতিকে খুবই মারাত্মকভাবে নাড়া দেয়। মার্চের ভয়াবহ নৃশংসতা বইয়ের পাতায় আর স্মৃতির পাতায় সমানভাবে অম্লান হয়ে আছে।
ঢাকা শহরের মোহাম্মদপুরে মূলত: অবাঙ্গালীদের অভিবাসন ঘটে স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলাদেশে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পওন ঘটে মোহাম্মদপুরের। প্রতিটি সড়কের নামকরণ করা হয় মুসলিম শাসকদের অনুসরণে। এখনও সেই ঐতিহ্য বজায় রয়েছে। যেমন, বাবর বোড, হুমায়ন রোড, খিলজী রোড, নুরজাহান রোড, রাজিয়া সুলতানা রোড, তাজমহল রোড। এছাড়া ছিল কায়দে আজম রোড, যার বর্তমান নাম শহীদ সলিমুল্ল্লাহ রোড। এই মার্চে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় সলিমুল্ল্লাহ সাহেবকে। অপরাধ প্রথমত: তিঁনি বাঙ্গালী ও দ্বিতীয়ত: তিঁনি সংগঠিত করছিলেন বাঙ্গালীদেরকে স্বাধিকারের দাবীতে। বিহারীরা তা প্রত্যক্ষ করেই পরিকল্পিতভাবে এই মার্চে সলিমুল্লাহ সাহেবকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সে কথা আরেকদিন বলব।
সেই শহীদ সলিমুল্ল্লাহ সাহেবের নামকে অমর করার জন্য কায়দে আজম রোডের নাম পরিবর্তন করা হয়। মোহাম্মদপুরে গিয়ে কায়দে আজম রোডের কথা বললে কেউ এখন আর চিনবে না। সলিমুল্ল্লাহ সাহেবের ছেলেদের মধ্যে শিল্পী শিবলী মোহাম্মদ ও সাদী মোহাম্মদকে ক'জনে না চেনে? ইতিহাস নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতাকে কখনো ক্ষমা করেনি। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে সকল আত্মত্যাগ ইতিহাসে আর আমাদের গণমানসে চির ভাস্বর, মৃতু্যহীন আর অম্ল্লান। আপনার এলাকার কোন বীর শহীদের অনুসরণে নামকরণের ইতিবৃও নিয়ে আপনিও কিছু লিখুন যাতে আমরা ইতিহাসের মুখোমুখি হতে পারি গর্ব আর অহংকারের সাথে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



