
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই কি বাংলাদেশকেও ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?
আজ প্রশ্নটা আর তত্ত্বের নয়- বাস্তবতার।
জামায়াত-বিএনপির সম্মতিতে তথাকথিত উন্নয়নের নামে যে চুক্তিগুলো করা হচ্ছে, তা আসলে দেশের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার নীলনকশা। কৃষি, অবকাঠামো, জ্বালানি- সব খাত একে একে তুলে দেওয়া হচ্ছে বিদেশি কর্পোরেটের হাতে। ক্ষুদ্র কৃষক? তারা এই খেলায় শুধু বলি।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আচরণ এখন আর কূটনৈতিক সীমার মধ্যে নেই- বরং সরাসরি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের মতো। এক মাসে দুই ডজনের বেশি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক- মন্ত্রী, উপদেষ্টা, এমনকি তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গেও! এটা কি কূটনীতি, নাকি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা?
৩৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য আমদানির চাপ —এর মানে কী? দেশের কৃষককে ধ্বংস করে বিদেশি পণ্য ঢুকিয়ে বাজার দখল। এর সঙ্গে আইএমএফ- বিশ্বব্যাংকের চাপ- ভর্তুকি তুলে নেও, কৃষিকে দুর্বল করো, তারপর বাজার খুলে দাও বহুজাতিকদের জন্য। এই চক্রটা খুবই পরিচি- —এটাই অর্থনৈতিক দখলদারিত্ব।
এরই মধ্যে হাজার হাজার কোটি টাকার বোয়িং উড়োজাহাজ চুক্তি - যার সুবিধা আসবে ২০৩১ সালে, কিন্তু টাকা দিতে হবে এখন থেকেই! জনগণ না খেয়ে থাকবে, আর অগ্রিম টাকা যাবে বিদেশে- এটা কি উন্নয়ন, নাকি পরিকল্পিত অর্থপাচার?
জ্বালানি খাতেও একই চিত্র - বিদেশি কোম্পানির জন্য দরজা খুলে দেওয়া, উচ্চমূল্যের এলএনজি চুক্তি, গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি আধিপত্য। প্রশ্ন হলো- দেশের সম্পদ কার জন্য?
সব মিলিয়ে একটা বিষয় পরিষ্কার - বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে। যেখানে সিদ্ধান্ত হবে বাইরে, আর ভুগবে দেশের মানুষ।
আজ যদি এই চুক্তিগুলোর বিরুদ্ধে প্রশ্ন না ওঠে, তাহলে আগামী প্রজন্মের কাছে জবাব দেওয়ার মতো কিছু থাকবে না। সার্বভৌমত্ব কাগজে থাকবে, বাস্তবে নয়।
এই নীরবতা একদিন বুমেরাং হয়ে ফিরবে- রাষ্ট্রের ওপর, সরকারের ওপর, আর সবচেয়ে বেশি সাধারণ মানুষের ওপর।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ৮:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

