somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ ধর্মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিয়েছে। একবার বুড়িগঙ্গা নদীর ওই পারে এক গ্রামে গিয়েছি। ফেরার পথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলাম। শরীর খুবই খারাপ লাগছে। হয়তো প্রেসার বেড়ে গেছে। একজন ভদ্রলোক বললেন, আমার বাসায় আসুন কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন। আমার মনে হলো হ্যা আপাতত বিশ্রাম নেওয়াই উচিৎ। বিশ্রাম নিতে গিয়ে প্রায় অচেতন হয়ে গেলাম। অসুস্থ অবস্থায় সেবা দরকার। সেই সেবা কে করলো সেটা বড় কথা নয়।

একটা পরিবারকে কি বিপদে ফেলে দিলাম। তাও হিন্দু পরিবার।
আসলে মানুষ তো মানুষ। মনুষ্যত্বের কাছে ধর্ম তো কিছুই না। সেই হিন্দু পরিবার আমার অনেক সেবা করলো। রাতে তারা আমাকে ফিরতে দিলো না। মাথায় পানি দিয়ে দিলো। রাতে দুধ আর রুটি খেতে দিলো। সারারাত পরিবারটি আমার কাছেই থাকলে। ভোরবেলা আমি সুস্থ হলাম। দেখলাম, মহিলাটি পূজা করছেন। আগরবাতি জ্বালিয়েছেন। মিষ্টি গন্ধ! সুন্দর একটা দৃশ্য! একজন নারী ভোরবেলা স্নান করে এসে পূজা করছেন। সিদুর দিয়েছেন। মাথার ভেজা চুল শুকায়নি। ঠাকুরের চরনে ফুল দিচ্ছেন। আমি মুগ্ধ হয়ে পূজা করা দেখলাম। আমৃত্য দৃশ্যটা আমার সঞ্চয় হয়ে রইলো।

সকালের নাস্তা খেয়ে আমি বিদায় নিলাম।
মহিলাটি বললেন, আমি ঠাকুরের কাছে আপনার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছি। আমি মুসলমান। অথচ হিন্দু একটা পরিবার আমার সেবা যত্ন করলো। জাত-পাতের কোনো বালাই নেই। মুসলমানদের চেয়ে হিন্দুরা জাত পাত বেশি মানে। একজনের গ্লাসে আরেকজন পানি পর্যন্ত খায় না। অতীতে জাতপাত নিয়ে অনেক কঠোর ছিলো মানুষ। এখন কিছুটা নমনীয় হয়েছে। কলকাতায় রাস্তার ধারে এক দোকান থেকে চা খেয়েছি। মাটির ভাড়ে চা দিয়েছে। চা শেষ করে আমি মাটির ভাড়টা ময়লার ঝুড়িতে ফেলিনি। তখন দোকানি বলল, এটো আমি ফেলবো না। আপনি এটো টা ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিন দাদা। আমরা যেমন বলি, মামা চা দাও। মামা যাবে মতিঝিল। মামা সবজি কত করে? ওরা বলে, দাদা চা দাও, দাদা ভাত দাও, দাদা হাওড়া যাবেন?

একবার নমিতা নামের এক মেয়ের বাসায় গিয়েছি।
তার বইটা ফেরত দিতে। নমিতা হিন্দু মেয়ে। আমরা একই ক্লাসে পড়তাম। সেদিন নমিতাকে চুমু খেয়েছিলাম। মুসলমান মেয়েকেও আমি চুমু খেয়েছি। পার্থক্য তো কিছু লাগেনি। আসলে সব মানুষের রক্তই তো লাল। মূলত ধর্ম মানুষের সর্বনাশ করেছে। হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা তো কম হয়নি। মনুষ্যত্ব থাকলে ধর্মের প্রয়োজন হয় না। একবার এক মুসলমান বাড়ির সামনে মাথা ঘুরে পড়ে গেলাম। তারা আমাকে ধরলো না। একগ্লাস পানি পর্যন্ত দিলো না। বরং বলল, আপনি আমাদের দরজা থেকে সরে যান। অন্য কোথাও বসুন। দেখুন মুসলমানদের অবস্থা! মানুষ যদি সব সময় তার বিবেকটাকে জাগ্রত রাখতে পারে তাহলে ধর্মের প্রয়োজন পড়ে না। জ্ঞানী লোকেরা মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখে। বিধর্মী আবার কি! আমরা সবাই মানুষ। সৃষ্টির সেরা জীব। কলকাতার পুরোহিত ধুতি পরে। আমেরিকার পুরোহিত ধুতি পড়ে না। জাকির নায়েক পায়জামা পাঞ্জাবি পড়েন না। টাই কোট প্যান্ট পরেন।

আমার বন্ধু নরত্তম। হিন্দু ছেলে। চমৎকার গান গায়।
উদীচির শিল্পী। 'বধুয়া আমার চোখে জল এনেছে, হায় বিনা কারনে'... এই গানটা দারুণ গায়। স্কুল জীবনের বন্ধু। এখনো সম্পর্ক আছে। নরত্তম বাসায় যেতাম প্রত্যেক পুজোয়। নরত্তমের মা খুব আদর যত্ন করতেন। পুজোর খাবার দিতেন। অনেক আগ্রহ নিয়ে খেতাম। নরত্তমের মা ডাল, তরকারি সব কিছুতে পাচফোড়ন দিতেন। মুসলমানরা ডালে বা তরকারিতে পাচফোড়ন দেয় না। শুধু আচারে দেয়। মাঝে মাঝে আমি মন্দিরে যাই। দেবী প্রতিমা দেখতে ভালো লাগে। পুজোর শেষে প্রসাদ দেয়। আমি ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি করে আমি প্রসাদ নেই। মিলাদের মিষ্টিও আমি আগ্রহ নিয়ে খাই। আমি ভাই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করি না। মানবিক এবং হৃদয়বান মানুষ হতে চাই। আমি ধর্ম দিয়ে মানুষকে ভাগ করতে চাই না।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের আগের আর পরের জামাত এখনও এক

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০২ রা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮


গোলাম পরওয়ার বলেছে একাত্তরের জামাত আর বর্তমান জামাত এক নয়। অথচ এক। স্বাধীনতার আগের জামাত আর পরের জামাত একই রকম।
একাত্তরের আগে জামাত পাকিস্তানের গো% চাটতো এখনও তাই চাটে। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনার ধানে নোনা জল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:১২



হঠাৎ একটা তীক্ষ্ণ শব্দে রেদোয়ানের ঘুম ভাঙল। না, কোনো স্বপ্ন নয়; মেঘের ডাক আর টিনের চালে বৃষ্টির উন্মত্ত তান্ডব। বিছানা ছেড়ে দরজায় এসে দাঁড়াতেই এক ঝলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×