যারা আমার ডিসেম্বরের 28 তারিখে প্রকাশিত "মৌলবাদ প্রতিরোধে সামাজিক ও রাজনৈতিক এজেন্ডা" পড়েছেন, তারা জানেন যে, মৌলবাদ প্রতিরোধকে রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে এনে সামাজিক এজেন্ডাতে রূপ দিতে হবে। গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন যাতে কোন রাজনৈতিক দল আর কখনো মৌলবাদী রাজনীতি পৃষ্ঠপোষকতার সাহস না করে। বাংলাদেশ আর্সেনিক দূষণ প্রতিরোধে সফল হয়েছে প্রতিবেশগত সচেতনতা সার্বজনীনভাবে ছড়িয়ে দেয়ার কারণে। মৌলবাদ হচ্ছে ধর্মীয় আর্সেনিক যা বিষাক্ত করছে আমাদের ধমর্ীয় ও সামাজিক জীবণকে। কলুষিত করছে আমাদের ধর্মবোধকে তা যে রূপে আর মুখোশেই আসুক না কেন। মারা যায় অবোধ শিশু, মারা যায় বিচারপতি, মারা যায় নিরীহ পথচারী, মারা যায় স্বাধীনতাকামী জনতা। সবাই শিকার হয় এই দুর্বোধ্য অথচ সুস্পস্ট মৌলবাদের নৃশংস থাবার কাছে। তারপরেও কিছু মানুষ নিস্পৃহ ও নিরুদ্বিগ্ন থাকতে চায়। নির্বাসন করতে চায় সকল যুক্তিবোধ ও মানবতাবোধকে যৌথভাবে। নীরবে ও নির্লজ্জভাবে লালন করে হিপোক্রেসীকে ।
তাই আমার প্রিয় লেখক আবু জাফর শামসুদ্দীনের লেখা (1988) থেকে তুলে দিতে চাই হিপোক্রেসীর সংজ্ঞা। "মনে হয়েছিল, 1971 সালের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার ফলে বুঝিবা বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণ মোহমুক্ত হয়েছে: (ধর্মান্ধ) কল্পনাকে যুক্তির কস্টিপাথরে যাচাই করে পদক্ষেপ করতে শিখেছে। কিন্তু আমাদের অনুমান ভুল প্রতিপন্ন হয়েছে। বাংলাদেশের উপর এখনও ওর্গানাইজড্ হিপোক্রেসীর আধিপত্য চলছে। বিদ্বান, বুদ্ধিজীবি, বিদগ্ধ প্রভৃতি ভূষণে ভূষিত আমাদের ন্যায় ব্যক্তিরাও এই ওর্গানাইজড্ হিপোক্রেসীর সঙ্গে শ্রেণীগত লালসা পূরণার্থে কখনও প্রত্যক্ষভাবে কখনও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছি। তবুও আমি আশাবাদী। পরিণামে যুক্তির জয় হবেই..."। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁর বক্তব্য অমোঘ সত্য। তাই আবেগ নয়, যুক্তির আশ্রয় দিয়ে মৌলবাদী ধর্মান্ধ চক্রকে প্রতিরোধ করতে হবে। প্রতিরোধ করতে হবে ওর্গানাইজড্ হিপোক্রেসীকে। মৌলবাদবিরোধী ভাবনার সামাজিকীকরণে এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০০৬ সকাল ৭:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




