(ভূতের ভয়ে যারা ভীত নয় তাদের জন্য) ভূতের ব্যাপার বড়ই ভয়াবহ। কে না শুনেছে ভুতের গল্প? বাবা-মা, ভাই-বোন বাদে যে আরেকজন সঙ্গী আমাদের চারপাশে অশরীরিভাবে ঘুরত সে হচ্ছে ভূত। মনে পড়ে, ভর দুপোর বেলা বল হাতে নিয়ে বাসা থেকে বেরোবার ফন্দি যখন আঁটছি, মা তখন চীৎকার করে বলছেন, "এই ভর দুপোর বেলা মাঠে গেলে তোকে ভূতে ধরবে"। ভূত আছে বলে বল খেলা হবে না, তা তো হয় না। যে ভুত থাকে গল্পের আসরে, রাতের আধাঁরে, ঘুম ঘুম চোখে- এধরণের অশরীরি ভূতকে অন্যরা ভয় পেতে পারে, কিন্তু আমাদের পাড়ার দামাল ছেলেরা নয়। তাই বলে আমরা তো আর ভূতের ভয়ে হৈচৈ করে বল না খেলে বিছানায় চুপটি করে মুরুব্বীদের কথায় ঘুমিয়ে থাকতে পারিনা। সেজন্যই তো সেই উচ্ছ্বলতায় ভরা দুপোর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত ফুটবল খেলা কান্ত বিকেলে ঠান্ডা একটা আইসক্রীমে কামড় দিয়ে বলতাম, "আজ দুপোরেও কোন ভূত আসল না রে"!! আহা কি অদ্ভূত সেই অনুভূতি।
মনে আছে, গ্রামে বেড়াতে গেলে ভূতের গল্পটা আরও জমত। কোন্ পাড়ার কাকে ভূতে ধরেছে, কে পাগলের মতো প্রলাপ বক্ছে, কবিরাজ কোন্ পাড়ায় কাঁসার বাটি, নিম পাতা, ঝাড়ু নিয়ে ঝাড়বে সে কথা আমাদের মুখে মুখে ঘুরতো। খুব আগ্রহ নিয়ে খুঁজি ভূতকে সশরীরে দেখার জন্য। কিন্তু ভূত এ জীবনে আর দেখা হয় না। জীবনে এতো বছর পার হয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ দেখি ভূতের আগমন। তাও আবার সশরীরে নয়, আমার ব্লগের পাতায় মন্তব্যের সারিতে। মন্তব্যের পর মন্তব্য আসছে ভূতের নামে। সেই একই বলন, প্রলাপ-রোদন, ভাঙ্গা গলায় কান্নার রোল। নিবের্াধ ভূতের তো নেই চিন্তার শক্তি বা বোধ, তাই একই কথা বারবার আওড়াতে থাকে। তার কথা একটাই আপনি ছেঁড়া গেঞ্জী না মুজিব কোটের ব্যবসা করেন ? কিন্তু এই ভূত বুঝবে কি করে, এর কোনটাই আমার জীবনের পুঁজি নয়, নয় ব্যবসার সামগ্রী। আমার ভাবনার পুঁজি হচ্ছে এদেশের লাখো শহীদের রক্তে ভেজা লাল শার্টের মতো উজ্জল রক্তিম পতাকার বৃও যার মাঝে বাস করে আমার অতি সামান্য জীবনের অঙ্গীকার। সেই প্রত্যয়ী চেতনার আঙ্গিনায় ভৌতিক ভাবনার যে কোন স্থান নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

