দুধের মাছি কথাটি বাংলায় বেশ প্রচলিত। এর প্রাসঙ্গিকতা আপেক্ষিক, সময় ও স্থান কাল ভেদে। আমাদের দেশে দুধের মাছির কোন ঘাটতি নেই। সুযোগ বুঝে সুবিধা আদায় করে নেয়ার লোকজনের ঘাটতি এদেশে কোন কালেই অবশ্য কম ছিল না। তাই যখন যে থাকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, তাদের চারপাশে ঘিরে থাকে চাটুকারের দল বিভিন্ন জোব্বার আড়ালে। একসময় আমার এলাকার এক সাংসদকে জিজ্ঞেস করা হলো: বারবার তিনি দল পরিবর্তন করেন কেন? সেই ব্যবসায়িক রাজনৈতিক নেতার উওর ছিল বেশ স্পস্ট। তিনি বললেন, আমি তো দল পরিবর্তন করি না, আমি সবসময় সরকারী দল করি, বরং সরকারই দল পরিবর্তন করে। কি দুভর্াগা দেশ।
দুধের মাছিদের কি প্রবল প্রতাপ! দেশবাসীকে নিবের্াধ বানিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দল ক্ষমতায় আসে, তাতে ব্যক্তিগত প্রভাব প্রতিপওি মূখ্য। এতে নেই কোন ইসু্যভিওিক পরিমাপযোগ্য ও বিশ্বাস্য রাজনৈতিক এজেন্ডা। সমস্যাটা হচ্ছে শেকড়ে। এদেশে শেকড় কেটে আমরা গাছের বিস্তৃতি চাই। যে গাছের শেকড় কাটা আর নড়বড়ে, তার মহীরূহ হওয়ার সম্ভাবনা কোথায়? তাই, আবেগ নয়, যুক্তিশক্তি হোক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। দেশের লোকজন যখন দুধের মাছিদের চিনতে পারবে, তখনই বন্ধ করতে পারবে তাদের বিস্তৃতি, প্রতিরোধ করতে পারবে আগাছাদের। নিশ্চিহ্ন করতে পারবে আগাছা-পরগাছাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে। তাই যোগ দিন মুক্তচিন্তায়, দেশজ শেকড়ের সন্ধানে, আর ভৌতিক অপচ্ছায়াদের অপসারনে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

