somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেসস্টাডী সাতকানিয়া:

১২ ই এপ্রিল, ২০০৬ রাত ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মৌলবাদী জামাতীদের নিয়ে প্রচুর লেখা হচ্ছে। অনেকের ধারণা যে, বিএনপি-কে অপদস্থ করার জন্য জামাতকে নিয়ে টানাটানি করা হচ্ছে। এটা হচ্ছে বিরোধী শক্তির কূটচাল। এধারণা ইদানীং মিথ্যে প্রমাণিত হচ্ছে। জামাত বিএনপি'র জন্য বিষফোঁড়া হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। অন্তত: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জামাত বিরোধী আন্দোলন বিএনপি'র তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু হয়েছে। এর কারণ মূলত: জামাতের প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধা। অন্তত: চট্রগ্রামের সাতকানিয়ায় সমপ্রতি জামাতী নেতার বিরুদ্ধে জুতা মিছিল মৌলবাদী জামাতী শক্তির প্রতি সাধারণ মানুষের ঘৃণার প্রকাশ বলে বিবেচনা করা যায়।

সমকাল এপ্রিলের 9 তারিখে রিপোর্ট করে, "সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-14 আসনের জামায়াত দলীয় সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিএনপির জুতা মিছিল ও কালো পতাকা প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামে তোলপাড় শুরু হয়েছে। শুক্রবার শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুতা মিছিল ও কালো পতাকা প্রদর্শনের ঘটনাটি সমকালসহ দেশের অন্যান্য জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। শনিবার সাতকানিয়ায় আসা সব দৈনিক পত্রিকার কপি সকালেই শেষ হয়ে যায়। কোনো কোনো এলাকায় পত্রিকার ফটোকপিও বিক্রি হয়।

এক সময় সাতকানিয়াকে জামায়াতের দুর্গ হিসেবে গণ্য করা হলেও সেই রমরমা অবস্থা এখন আর নেই। বিশেষ করে 2004 সালের 10 সেপ্টেম্বর জামায়াত ক্যাডার এওচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আহমদুল হক চৌধুরী (আহমদু) তার এক সহযোগীসহ র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হলে জামায়াতের দুর্গে বিপর্যয় নামে। আহমদু এমপি শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করে জামায়াত ছেড়ে 2004 সালের 15 জুলাই বিএনপিতে যোগ দেওয়ার 57 দিনের মাথায় তার বিশ্বস্ত সহচর মিনহাজসহ নিহত হয়। আহমদু ও মিনহাজ নিহত হওয়ার ঘটনার জন্য জামায়াত এবং এমপি শাহজাহান চৌধুরীকে দায়ী করে সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপি প্রকাশ্যে জামায়াতের বিরুদ্ধে মাঠে নামে। বিএনপি নেতৃবৃন্দ মিটিং, মিছিল, সমাবেশ করে জামায়াত প্রতিরোধের ঘোষণা দেন। শোনা যায়, এ সময় আওয়ামী লীগ নীরব সমর্থন দিয়ে বিএনপির ভূমিকাকে আরো জোরালো করে তোলে। আহমদু হত্যার ইসু্য নিয়ে বিএনপি যখন জামায়াতের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলছে, ঠিক সে সময় 2005 সালের 4 ফেব্রুয়ারি একদল সন্ত্রাসীর হাতে নিহত হয় আরেক জামায়াত ত্যাগী নেতা খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম। আমিনুল ইসলামও আহমদুর সঙ্গে একই তারিখে একই মঞ্চে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। বিএনপিতে যোগ দেওয়ার 6 মাস 24 দিনের মাথায় আমিন চেয়ারম্যানও নিহত হলে সাতকানিয়া বিএনপি তুমুল বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং এ হত্যাকান্ডের জন্যও জামায়াত এবং এমপি শাহজাহান চৌধুরীকে সরাসরি দায়ী করে। বিএনপি জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাঠে নামার পর থেকে জামায়াতের দুর্গে ফাটল ধরে। সমপ্রতি সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি প্রার্থীর কাছে জামায়াত প্রার্থীর গোহারা হারই তার প্রমাণ।

তিনটি হত্যাকান্ডের ঘটনা এবং পৌরসভা নির্বাচনে চরম বিপর্যয়, ইত্যাদি কারণে জামায়াত একটু ঝিমিয়ে পড়ে। সমপ্রতি আবার কোমর বেঁধে মাঠে নামে জামায়াত। ক্রসফায়ারে নিহত আহমদুর ইউনিয়ন এওচিয়ায় প্রথম কর্মী সমাবেশ আহ্বান করে তারা। সমাবেশ প্রতিরোধ করতে বিএনপিও মরিয়া হয়ে ওঠে। বিএনপির প্রতিরোধের মুখে জামায়াত কর্মী সমাবেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। এ সময় জামায়াত এমপি শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুতা মিছিল ও কালো পতাকা প্রদর্শিত হয়। 7 এপ্রিলের জুতা মিছিলের ঘটনা থকে অাঁচ করা যায়, জামায়াত আগামী নির্বাচনে আর আগের মতো একক আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ নাও পেতে পারে। জুতা মিছিল ও কালো পতাকা প্রদর্শনের ব্যাপারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সমকালকে বলেন, এটি জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে জোটের এমপি থেকে কাঙ্খিত উন্নয়ন না পাওয়ায় জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। তাছাড়া যাদের হাত ধরে তিনি এমপি হয়েছেন পরে তাদের কৌশলে হত্যা করার কারণে মানুষ জামায়াত থেক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সে কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, এটি তাদের (জোটের) অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমরা মাথা ঘামাতে চাই না..."।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ

লিখেছেন সামিউল ইসলাম বাবু, ০৬ ই মে, ২০২৬ ভোর ৫:৩৫

আমার ভালোলাগা কিছু ছবি নিচে শেয়ার করা হলো। একটা আায়াত জানলেও তা অপরের কাছে পৌঁছে দাও(আল-হাদিস

পৃথিবীতে কেও আপন নয়। একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা ব্যতিত। তাই ভালো মন্দ সকল বিষয়েই কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার বেঁচে আছে?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:০২





আপনার মা/বাবা বেঁচে থাকলে আপনি এখনো সৌভাগ্যবান -এরকম ভাবনা হয়তো ৯৮ ভাগ মানুষ ভাবে। মা/বাবা নিয়ে মানুষের ইমোশন, সংগ্রাম নিয়ে সবাই কিছু কিছু লিখতে পারবে, বা মুখে বলতে পারবে। গোর্কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×