সমকাল এপ্রিলের 9 তারিখে রিপোর্ট করে, "সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-14 আসনের জামায়াত দলীয় সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিএনপির জুতা মিছিল ও কালো পতাকা প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামে তোলপাড় শুরু হয়েছে। শুক্রবার শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুতা মিছিল ও কালো পতাকা প্রদর্শনের ঘটনাটি সমকালসহ দেশের অন্যান্য জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। শনিবার সাতকানিয়ায় আসা সব দৈনিক পত্রিকার কপি সকালেই শেষ হয়ে যায়। কোনো কোনো এলাকায় পত্রিকার ফটোকপিও বিক্রি হয়।
এক সময় সাতকানিয়াকে জামায়াতের দুর্গ হিসেবে গণ্য করা হলেও সেই রমরমা অবস্থা এখন আর নেই। বিশেষ করে 2004 সালের 10 সেপ্টেম্বর জামায়াত ক্যাডার এওচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আহমদুল হক চৌধুরী (আহমদু) তার এক সহযোগীসহ র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হলে জামায়াতের দুর্গে বিপর্যয় নামে। আহমদু এমপি শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করে জামায়াত ছেড়ে 2004 সালের 15 জুলাই বিএনপিতে যোগ দেওয়ার 57 দিনের মাথায় তার বিশ্বস্ত সহচর মিনহাজসহ নিহত হয়। আহমদু ও মিনহাজ নিহত হওয়ার ঘটনার জন্য জামায়াত এবং এমপি শাহজাহান চৌধুরীকে দায়ী করে সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপি প্রকাশ্যে জামায়াতের বিরুদ্ধে মাঠে নামে। বিএনপি নেতৃবৃন্দ মিটিং, মিছিল, সমাবেশ করে জামায়াত প্রতিরোধের ঘোষণা দেন। শোনা যায়, এ সময় আওয়ামী লীগ নীরব সমর্থন দিয়ে বিএনপির ভূমিকাকে আরো জোরালো করে তোলে। আহমদু হত্যার ইসু্য নিয়ে বিএনপি যখন জামায়াতের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলছে, ঠিক সে সময় 2005 সালের 4 ফেব্রুয়ারি একদল সন্ত্রাসীর হাতে নিহত হয় আরেক জামায়াত ত্যাগী নেতা খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম। আমিনুল ইসলামও আহমদুর সঙ্গে একই তারিখে একই মঞ্চে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। বিএনপিতে যোগ দেওয়ার 6 মাস 24 দিনের মাথায় আমিন চেয়ারম্যানও নিহত হলে সাতকানিয়া বিএনপি তুমুল বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং এ হত্যাকান্ডের জন্যও জামায়াত এবং এমপি শাহজাহান চৌধুরীকে সরাসরি দায়ী করে। বিএনপি জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাঠে নামার পর থেকে জামায়াতের দুর্গে ফাটল ধরে। সমপ্রতি সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি প্রার্থীর কাছে জামায়াত প্রার্থীর গোহারা হারই তার প্রমাণ।
তিনটি হত্যাকান্ডের ঘটনা এবং পৌরসভা নির্বাচনে চরম বিপর্যয়, ইত্যাদি কারণে জামায়াত একটু ঝিমিয়ে পড়ে। সমপ্রতি আবার কোমর বেঁধে মাঠে নামে জামায়াত। ক্রসফায়ারে নিহত আহমদুর ইউনিয়ন এওচিয়ায় প্রথম কর্মী সমাবেশ আহ্বান করে তারা। সমাবেশ প্রতিরোধ করতে বিএনপিও মরিয়া হয়ে ওঠে। বিএনপির প্রতিরোধের মুখে জামায়াত কর্মী সমাবেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। এ সময় জামায়াত এমপি শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুতা মিছিল ও কালো পতাকা প্রদর্শিত হয়। 7 এপ্রিলের জুতা মিছিলের ঘটনা থকে অাঁচ করা যায়, জামায়াত আগামী নির্বাচনে আর আগের মতো একক আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ নাও পেতে পারে। জুতা মিছিল ও কালো পতাকা প্রদর্শনের ব্যাপারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সমকালকে বলেন, এটি জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে জোটের এমপি থেকে কাঙ্খিত উন্নয়ন না পাওয়ায় জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। তাছাড়া যাদের হাত ধরে তিনি এমপি হয়েছেন পরে তাদের কৌশলে হত্যা করার কারণে মানুষ জামায়াত থেক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সে কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, এটি তাদের (জোটের) অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমরা মাথা ঘামাতে চাই না..."।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


