আমি ভাবতে ভালবাসি। ভাবনায় বাস করি। তার মাঝেই আনন্দ খুঁজে পাই। কস্ট ভুলতে চাই। তার মাঝে ছুটির দিনে পহেলা বৈশাখ মনের ভাবনাকে ছুটি দেয় নিজের শেকড় খুজে নেয়ার জন্যে। প্রতি বছর ইংরেজী নববর্ষে অনেক রেজুলু্যশন নিয়ে ভাবি। কিন্তু, বাংলা নতুন বছরের জন্য তুলে রাখি একটু পান্তা ভাত, একটু শুটকী, একটু ভর্তা, একটু পুরনো আমেজ। তাই না? পুরনোর মধ্যে আনন্দ খোঁজা, ছন্দ খোঁজা অথবা ব্যতিক্রমী একজন বাঙ্গালী হওয়া চেস্টা করা। একটু গান-বাজনা। একটু সুর, একটু রং, একটু অন্যরকম।
মাংস-পোলাও থাকলে কি আবহমান বাঙ্গালী পান্তা-ভাত-শুটকীর মধ্যে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতো? আজকে অনেক আয়োজন করে পান্তাভাত-শুটকী-ভর্তা দিয়ে বাংলা নববর্ষ করব। বাঙ্গালী হ'ব। হাজার বছরের বাঙ্গালীর খাবারের সাথে একাত্ম করব নিজেকে। একাত্মতা এর উৎসবমূখরতায়, চিরায়ত বাঙ্গালীর সংগ্রামের সাথে নয়। যারা দু'মুঠো অন্নের যোগান দেয়ার জন্য আজন্ম সংগ্রাম করছে আজকের উৎসব শুধু তাদের জন্য। আমরা বাকীরা শোকেসের তোলা চাবি দেওয়া শহুরে পুতুল। দমফুরালেই আমাদের সংস্কৃতি-দেশজ ভাবনা নিস্তব্দ। সেজন্যই তো বাংলা নববর্ষ উদযাপন এতো অনবদ্য, এতো আবেদনমূলক আর শেকড়বিহীন। শেকড়ের সন্ধানে সংগ্রামী মানুষগুলোর জন্যে যারা অগি্নশিখার মতো প্রজ্জ্বলিত ও উৎসর্গিত, তাদের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও মঙ্গল কামনা।
"অগি্নশিখা, এসো এসো, আনো আনো আলো।
দু:খে, সুখে ঘরে ঘরে গৃহদীপ জ্বালো
আনো শক্তি, আনো দীপ্তি, আনো শান্তি, আনো তৃপ্তি,
আনো সি্নগ্ধ ভালোবাসা, আনো নিত্য ভালো
এসো পুণ্যপথ বেয়ে এসো হো কল্যাণী-
শুভ সুপ্তি, শুভ জাগরণ দেহো আনি।
দু:খরাতে মাতৃবেশে জেগে থাকো নিনির্মেষে
আনন্দ-উৎসবে তব শুভ্র হাসি ঢালো"
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


