somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছুটির দিনে নববর্ষ বরণ:

১৪ ই এপ্রিল, ২০০৬ রাত ১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সবাইকে নতুন বাংলা বছরের শুভেচ্ছা। প্রতি বছরের মতো বাংলা মাস ঘুরে বৈশাখ নিয়ে আসে নতুন বছরের বাতর্া। বাংলা সন গণনা আমাদের প্রাত্যাহিক জীবণে খুব একটা নাড়া দেয় না। নাড়া দেয় প্রতিবছরের 1লা বৈশাখ-শুভ বাংলা নববর্ষ। ঢাকার শহুরে জীবণে প্রাণজ বাংলার সংস্কৃতি ঝড়ো হাওয়ার মতো এদিনে যতটুকু দোলা দেয় আমাদের বাঙ্গালী সওাকে, তার চেয়ে অনেক বেশী দোলা দেয় আমাদের আনুষ্ঠানিকতাকে। আবার আমরা বাঙ্গালী হয়ে উঠি একদিনের জন্য। এই না পাওয়ার দেশে তা-ই আবার কম কি? না, না, আমি খাটো করতে চাই না, আমাদের আবহ বাংলার নববর্ষের উৎসবমূখরতাকে, তার স্বতস্ফূর্ত প্রকাশকে ও লৌকিকতাকে।

আমি ভাবতে ভালবাসি। ভাবনায় বাস করি। তার মাঝেই আনন্দ খুঁজে পাই। কস্ট ভুলতে চাই। তার মাঝে ছুটির দিনে পহেলা বৈশাখ মনের ভাবনাকে ছুটি দেয় নিজের শেকড় খুজে নেয়ার জন্যে। প্রতি বছর ইংরেজী নববর্ষে অনেক রেজুলু্যশন নিয়ে ভাবি। কিন্তু, বাংলা নতুন বছরের জন্য তুলে রাখি একটু পান্তা ভাত, একটু শুটকী, একটু ভর্তা, একটু পুরনো আমেজ। তাই না? পুরনোর মধ্যে আনন্দ খোঁজা, ছন্দ খোঁজা অথবা ব্যতিক্রমী একজন বাঙ্গালী হওয়া চেস্টা করা। একটু গান-বাজনা। একটু সুর, একটু রং, একটু অন্যরকম।

মাংস-পোলাও থাকলে কি আবহমান বাঙ্গালী পান্তা-ভাত-শুটকীর মধ্যে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতো? আজকে অনেক আয়োজন করে পান্তাভাত-শুটকী-ভর্তা দিয়ে বাংলা নববর্ষ করব। বাঙ্গালী হ'ব। হাজার বছরের বাঙ্গালীর খাবারের সাথে একাত্ম করব নিজেকে। একাত্মতা এর উৎসবমূখরতায়, চিরায়ত বাঙ্গালীর সংগ্রামের সাথে নয়। যারা দু'মুঠো অন্নের যোগান দেয়ার জন্য আজন্ম সংগ্রাম করছে আজকের উৎসব শুধু তাদের জন্য। আমরা বাকীরা শোকেসের তোলা চাবি দেওয়া শহুরে পুতুল। দমফুরালেই আমাদের সংস্কৃতি-দেশজ ভাবনা নিস্তব্দ। সেজন্যই তো বাংলা নববর্ষ উদযাপন এতো অনবদ্য, এতো আবেদনমূলক আর শেকড়বিহীন। শেকড়ের সন্ধানে সংগ্রামী মানুষগুলোর জন্যে যারা অগি্নশিখার মতো প্রজ্জ্বলিত ও উৎসর্গিত, তাদের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও মঙ্গল কামনা।

"অগি্নশিখা, এসো এসো, আনো আনো আলো।
দু:খে, সুখে ঘরে ঘরে গৃহদীপ জ্বালো
আনো শক্তি, আনো দীপ্তি, আনো শান্তি, আনো তৃপ্তি,
আনো সি্নগ্ধ ভালোবাসা, আনো নিত্য ভালো
এসো পুণ্যপথ বেয়ে এসো হো কল্যাণী-
শুভ সুপ্তি, শুভ জাগরণ দেহো আনি।
দু:খরাতে মাতৃবেশে জেগে থাকো নিনির্মেষে
আনন্দ-উৎসবে তব শুভ্র হাসি ঢালো"

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ

লিখেছেন সামিউল ইসলাম বাবু, ০৬ ই মে, ২০২৬ ভোর ৫:৩৫

আমার ভালোলাগা কিছু ছবি নিচে শেয়ার করা হলো। একটা আায়াত জানলেও তা অপরের কাছে পৌঁছে দাও(আল-হাদিস

পৃথিবীতে কেও আপন নয়। একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা ব্যতিত। তাই ভালো মন্দ সকল বিষয়েই কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার বেঁচে আছে?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:০২





আপনার মা/বাবা বেঁচে থাকলে আপনি এখনো সৌভাগ্যবান -এরকম ভাবনা হয়তো ৯৮ ভাগ মানুষ ভাবে। মা/বাবা নিয়ে মানুষের ইমোশন, সংগ্রাম নিয়ে সবাই কিছু কিছু লিখতে পারবে, বা মুখে বলতে পারবে। গোর্কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×