বলুন তো, এতো নির্বিকার ও নিস্পৃহ হয়ে কিভাবে বসে থাকি? অনুভূতির সূক্ষ্নতা অনেকদিন আগেই লুপ্ত হয়েছে। ভোঁতা হয়ে গেছে। চোখের আলো হারিয়ে গেছে অনেক আগে। তাই কোন ছবি এখন চোখে পড়ে না। কোন অশ্রু, বেদনা, মৃতু্য, অথবা রক্ত এখন আর মনকে নাড়া দেয় না। শিউরে উঠে না শরীর আর কোন নৃশংসতায়। সবই স্বাভাবিক, 'কি আর করব' ধরণের চিন্তা আচ্ছন্ন করে রাখে ক্লান্ত মস্তিস্ককে। হঠাৎ করে রূপান্তরিত একজন প্রস্তর মানব আমি, সমাজের রঙিন শোকেসে সাজানো। না হলে, কিভাবে আমি বসে আছি? স্থির দৃস্টিতে সামনের সাদা দেয়ালটার দিকে তাকিয়ে। খবরের কাগজের আর টিভির পর্দার ছবিগুলো এখন আর কোন আবেদন তৈরী করে না। তাদের সংবাদগুলো আমার ঘরের শূণ্যতায় প্রতিধ্বনি করে, জাগাতে পারে না এই পাথর মনকে। তাই নির্বিকার হয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকি। মনে হয়, আমার বিবেকবোধের ছিন্নভিন্ন মাংসপিন্ডগুলো সারি সারি পিঁপড়ে দেয়াল বেয়ে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে, তাই বসে আছি আমি, স্থির-নিশ্চল-স্পন্দনহীন।
এরকম শীতল অনুভূতিতে গুটানো ভাবনায় হঠাৎ একটা দমকা বাতাস মনের জানালা সশব্দে খুলে দেয়। মনে হয়, বাইরে খুব বিজলী চমকাচ্ছে। নিস্তব্দ ও শান্ত প্রকৃতি অশান্ত হয়ে উঠেছে। আসছে প্রচন্ড ঝড়-দমকা হাওয়া-সাইক্লোন। গুমোট হাওয়া বসে থাকে ঝড়ের অপেক্ষায়। পালাবার কোন সুযোগ নেই। ঝড়ের মতো মানুষগুলো যখন জেগে উঠে, কোন ভবন-প্রাসাদ-অট্রালিকা তখন তার প্রতিরোধের সামনে টিকে না। মিছিল এবার সচিবালয় থেকে বের হয়নি, বের হয়েছে কানসাট থেকে। এধরণের মিছিল কোন বাহিনী দিয়ে থামানো যায় না। নির্বোধ মস্তিস্কবিহীন মানুষগুলো তৈরী করে নিজের নিয়তি নির্বিকারভাবে। ঝড়ের সামনে সকল বাহিনী অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এরকম ঝড়ো হাওয়ায় বলুন তো আমি কিভাবে বসে থাকি? আলোর মিছিলে সারি সারি জনতার ধ্বনি সকল প্রস্তরের মধ্যে প্রাণ আনুক। এরকম অন্যমনস্ক ভাবনায় এখানে বিদায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ১:৫৫