সবাই পুলিশকে দোষ দিয়ে একের পর এক পোস্টিং করে যাচ্ছেন। কিন্তু এই নিরীহ পুলিশ ভ্রাতাদের কি কোন দোষ আছে? থাকলে তো এতোক্ষণে কিছু পুলিশের সাসপেন্ড হওয়ার কথা ছিল। রাজনৈতিক নেতা-নেএীদের পেটাতে পেটাতে এদের হাত সবসময়ই নিশপিশ করে। তাই, ভুলেই হাত উঠে। মানুষ মাএই তো অভ্যাসের দাস। তার চেয়েও বড়ো কথা, বলুন তো, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ম্যাচের প্রথম দিনে নিরাপওার জন্য পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের কি কোন দরকার ছিল? বেচারী পুলিশদের এখানে দু'পয়সা কামানোরও কোন সুযোগ নেই। তাই মাঠের গরমে এদের মেজাজও ছিল অতি তুঙ্গে। পুলিশী ভাষ্যমতে, 'দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদেরকে পিটিয়ে সামান্য আহত করেছে মাএ দু'জনকে' (দৈনিক ইওেফাক)।
ভাগ্যিস, গুলি-টুলি করেনি। অন্তত: কানসাট থেকে ফেরত আসার পর তাদের এখন আর গোলাগুলিতে তাদের মন টানে না। তাই, তারা নিজেদের হাত-পায়ের কাজ বেশ দেখাল। আমরা তাদের পুলিশী তান্ডবে মুগ্ধ। ডিসি আকবর সাহেবকে বয়োবৃদ্ধ সাংবাদিককে পেটাতে বেশ করিৎকর্মা মনে হলো। ভদ্রলোকের পরবর্তী পদন্নোতি বোধ হয় খুব সামনেই। এই অকর্মার দেশে পুলিশ বাহিনীর এই কর্মকান্ডের ছবি দেশী-বিদেশী সবাই প্রত্যক্ষ করল। জ্যান্ত ছবিগুলো ঘটনার সাক্ষী দিচ্ছে। কাওকে আলাদা করে লিখতে হবে না। এই মরার দেশে পুলিশ বাহিনীর দরকার কি? র্যাব দিয়েই তো চলছে। তাই না?
আবারও জিগ্যেস করি, আদৌ পুলিশ বাহিনীর কি কোন দরকার আছে? দেশের শান্তি শৃংখলার দায়িত্ব আমাদের সুযোগ্য রাজনৈতিক ক্যাডারদের হাতে দিয়ে দিলেই তো হয়। দু-চারটা হুমকি-ধামকি ও চাঁদাবাজি করে সব অপরাধী-নিরপরাধীদের একেবারে ঠান্ডা করে রাখবে। আমার বিশ্বাস, রাজনৈতিক ক্যাডাররা আরও ভাল আইন-শৃংখলা রক্ষা করতে পারবে। দেশের মানুষের হাঁড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের পয়সা (বেতন ও আলগা ইনকামসহ) দিয়ে এদেশের পুলিশ আর আমলাদের ফুটানি চলে। বৃটিশরা দেশ ছেড়ে বহুবছর আগে চলে গেছে। কিন্তু রেখে গেছে সুযোগ্য উওরাধিকারী যারা ঔপনিবেশিক অত্যাচারী বাহিনীকেও হার মানায়। পুলিশ নিজেও জানে এই দেশে যতদিন রাজনীতির অসুস্থ ধারা চলবে ততদিন পুলিশ বাহিনীও বহাল তবিয়তে থাকবে। কারণ, ক্ষমতাসীদের বড়ই দরকার এই পুলিশ নামক পোষ্য বাহিনীর। এখানে সৎ কর্মকর্তা যে একেবারে নেই তা নয়, কিন্তু তাদের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।
তাই অকর্মার ধাড়ি এই পুলিশ বাহিনীকে সাজাতে হবে নতুন করে। না, কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়। যদি বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ করা হয়, তাহলে পুলিশ বাহিনীকে ন্যস্ত করা হোক স্বাধীন বিচার বিভাগের অধীনে। রাজনীতির দাবার আসরের বাইরে। পুলিশের কাজ মানুষের নিরাপওা ও সেবা দান। তাদেরকে তাই রাজনৈতিক সরকার ব্যবস্থার বাইরে এনে নতুন করে সাজাবার দরকার। কারণ, অধিকাংশ পুলিশেরই জনগণের প্রহরী ও সেবক হিসেবে কাজ করার কোন যোগ্যতা নেই। তার প্রমাণ এরা আবার চট্রগ্রামে দিয়ে দিল। এখনও কি আপনাদের বুঝার বাকী আছে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


