সর্বশেষ গত 14 এপ্রিল অন্যের জায়গা ভূমিদসু্য দিয়ে দখল করার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। নগরীর আগ্রাবাদ শান্তিবাগ এলাকার গৃহিণী জাহানারা বেগম ও তার 6 মেয়ে নাসরিন আক্তার, তাহমিনা আক্তার, আয়শা আক্তার, তানজিনা সুলতানা, সাদিয়া আফরিন লিজা, ইয়াছিন আরাফাত ও ইয়ামিন আরাফাত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ডিসি (পোর্ট) আলী আকবর খানকে ব্যবহার করে ভূমিদসু্য মোহাম্মদ শাহজাহান তাদের পুলিশি হয়রানি করছে। নগরীর সরাইপাড়া এলাকায় 11 গন্ডা জায়গা দখল করে নিতে ডিসি (বন্দর) নগ্নভাবে সহযোগিতা করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে লিখিতভাবে উল্লেখ করেন ভুক্তভোগীদের পক্ষে মানবাধিকার বু্যরো চট্টগ্রামের সভানেত্রী মাসুদা বিলকিস।
পুলিশ প্রশাসনে যোগ দেওয়ার শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিলেন বর্তমান ডিসি (বন্দর) আলী আকবর খান। ঢাকায় থাকাকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সোহেল তাজকে রাজপথে বেধড়ক পিটিয়ে আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। চট্টগ্রামে পোস্টিং পেয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েন সাংবাদিকদের ওপর। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমীন স্টেডিয়ামে সাংবাদিক পেটানোর নেতৃত্ব দেওয়া ছাড়াও 2005 সালে হরতাল চলাকালে সাংবাদিক পেটানোর রেকর্ড আছে তার। নগরীর দারুল ফজল মার্কেটের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ফটো সাংবাদিকদের পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে নেন তিনি। তখন আরসিডিতে দাঙ্গা শাখায় কর্মরত ছিলেন তিনি।
সাংবাদিক পেটানোতে সিদ্ধহস্ত আলী আকবর খানের বিরুদ্ধে এতসব অভিযোগ থাকার পরও বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান তিনি। 2005 সালেও সাংবাদিকরা তাকে অপসারণের দাবি জানান। কিন্তু ঊধর্্বতন কতর্ৃপক্ষ তখন আশ্বস্ত করেও শেষ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপই নেয়নি তার বিরুদ্ধে। বরং কয়েক মাস পর ডিসি (ট্রাফিকের) লোভনীয় পদেই অধিষ্ঠিত হন তিনি।
নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ঊধর্্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তার এমন আচরণে হতবাক হয়ে যান স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার তিনেক দর্শক। প্রবীণ ফটো সাংবাদিক জহুরুল হককে রাইফেলের বাঁট দিয়ে আঘাত করেন ডিসি (বন্দর) নিজেই। আঘাত সইতে না পেরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আজকাল পত্রিকার ঢাকা বু্যরোর ফটোগ্রাফার এদেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় 'জহির ভাই'। কিন্তু আলী আকবরের হিংস্রতা তারপরও কমেনি। ডান হাত দিয়ে সজোরে ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দেন জহুরুল হকের। স্থানীয় দৈনিক পূর্বকোণের ফটো সাংবাদিক অনুরূপ টিটুকেও রাইফেলের বাঁট দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করেন ডিসি আলী আকবর নিজেই।
লাঞ্চ বিরতিকালীন মাঠজুড়ে ডিসি আকবরের এমন নারকীয় তান্ডবের কোনো কারণ খুঁজে পাননি সাংবাদিকরা। সারা বিশ্বে সরাসরি সম্প্রচারিত একটি খেলায় নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর এমন বর্বর আক্রমণে বিস্মিত হয়ে যান ম্যাচ ধারণ করতে আসা স্যাটেলাইট চ্যানেল ইএসপিএনের কর্মকর্তারাও"।
(সংগৃহীত আজকের সমকাল পএিকা থেকে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


