somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চেনেন কি ডিসি আকবরকে?

১৭ ই এপ্রিল, ২০০৬ রাত ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার আগের পোস্টটির পাশাপাশি এটি পড়লে আমার বক্তব্য খুব সহজে বুঝতে পারবেন: "সাবেক ছাত্রদল ক্যাডার আলী আকবর খানই বন্দরের বর্তমান ডিসি। বদমেজাজের জন্য পুলিশ প্রশাসনে তার কুখ্যাতি থাকলেও গত এক বছরে রাজনৈতিক পরিচয় এবং অর্থের জোরে তিন দফা পদোন্নতি পান তিনি। গতবছর আরসিডি (রায়ট কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট) দাঙ্গা শাখায় ছিলেন তিনি। গত বছরের মাঝামাঝি মোটা অঙ্কের লেনদেনের বিনিময়ে ডিসি ট্রাফিকে বদলি হন। কয়েক মাস ওই পদে থেকে আট মাস আগে বন্দর থানার উপ-পুলিশ কমিশনার পদে বদলি হন। ডিসি (বন্দর) আলী আকবর খানের ঔদ্ধত্যের মূলে আছে অঢেল অর্থ। ডিসি ট্রাফিক পদে থাকাকালে উপকূলীয় চোরাকারবারিদের সঙ্গে 'সুসম্পর্ক' রেখে নামে-বেনামে কোটিপতি বনে যান তিনি।

সর্বশেষ গত 14 এপ্রিল অন্যের জায়গা ভূমিদসু্য দিয়ে দখল করার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। নগরীর আগ্রাবাদ শান্তিবাগ এলাকার গৃহিণী জাহানারা বেগম ও তার 6 মেয়ে নাসরিন আক্তার, তাহমিনা আক্তার, আয়শা আক্তার, তানজিনা সুলতানা, সাদিয়া আফরিন লিজা, ইয়াছিন আরাফাত ও ইয়ামিন আরাফাত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ডিসি (পোর্ট) আলী আকবর খানকে ব্যবহার করে ভূমিদসু্য মোহাম্মদ শাহজাহান তাদের পুলিশি হয়রানি করছে। নগরীর সরাইপাড়া এলাকায় 11 গন্ডা জায়গা দখল করে নিতে ডিসি (বন্দর) নগ্নভাবে সহযোগিতা করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে লিখিতভাবে উল্লেখ করেন ভুক্তভোগীদের পক্ষে মানবাধিকার বু্যরো চট্টগ্রামের সভানেত্রী মাসুদা বিলকিস।

পুলিশ প্রশাসনে যোগ দেওয়ার শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিলেন বর্তমান ডিসি (বন্দর) আলী আকবর খান। ঢাকায় থাকাকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সোহেল তাজকে রাজপথে বেধড়ক পিটিয়ে আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। চট্টগ্রামে পোস্টিং পেয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েন সাংবাদিকদের ওপর। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমীন স্টেডিয়ামে সাংবাদিক পেটানোর নেতৃত্ব দেওয়া ছাড়াও 2005 সালে হরতাল চলাকালে সাংবাদিক পেটানোর রেকর্ড আছে তার। নগরীর দারুল ফজল মার্কেটের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ফটো সাংবাদিকদের পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে নেন তিনি। তখন আরসিডিতে দাঙ্গা শাখায় কর্মরত ছিলেন তিনি।

সাংবাদিক পেটানোতে সিদ্ধহস্ত আলী আকবর খানের বিরুদ্ধে এতসব অভিযোগ থাকার পরও বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান তিনি। 2005 সালেও সাংবাদিকরা তাকে অপসারণের দাবি জানান। কিন্তু ঊধর্্বতন কতর্ৃপক্ষ তখন আশ্বস্ত করেও শেষ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপই নেয়নি তার বিরুদ্ধে। বরং কয়েক মাস পর ডিসি (ট্রাফিকের) লোভনীয় পদেই অধিষ্ঠিত হন তিনি।

নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ঊধর্্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তার এমন আচরণে হতবাক হয়ে যান স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার তিনেক দর্শক। প্রবীণ ফটো সাংবাদিক জহুরুল হককে রাইফেলের বাঁট দিয়ে আঘাত করেন ডিসি (বন্দর) নিজেই। আঘাত সইতে না পেরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আজকাল পত্রিকার ঢাকা বু্যরোর ফটোগ্রাফার এদেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় 'জহির ভাই'। কিন্তু আলী আকবরের হিংস্রতা তারপরও কমেনি। ডান হাত দিয়ে সজোরে ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দেন জহুরুল হকের। স্থানীয় দৈনিক পূর্বকোণের ফটো সাংবাদিক অনুরূপ টিটুকেও রাইফেলের বাঁট দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করেন ডিসি আলী আকবর নিজেই।

লাঞ্চ বিরতিকালীন মাঠজুড়ে ডিসি আকবরের এমন নারকীয় তান্ডবের কোনো কারণ খুঁজে পাননি সাংবাদিকরা। সারা বিশ্বে সরাসরি সম্প্রচারিত একটি খেলায় নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর এমন বর্বর আক্রমণে বিস্মিত হয়ে যান ম্যাচ ধারণ করতে আসা স্যাটেলাইট চ্যানেল ইএসপিএনের কর্মকর্তারাও"।
(সংগৃহীত আজকের সমকাল পএিকা থেকে)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৬ রাত ১২:৪৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মরীচিকা

লিখেছেন সামিয়া, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:২৮


তোমার চোখে আমি প্রতিবার দেখি ঝড়ের ঘূর্ণি। সেই ঘূর্ণির ভেতরে জমে থাকে এমন এক শঙ্কা, যার কাছে পৌঁছাতে গেলেই আমার নিজের বুকের ভেতরটাও কেমন অস্থির হয়ে ওঠে। তবু আমি প্রতিদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাহিনীটা কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৭

কাহিনীটা কী?
বিএনপিকে যারা ২৪ ঘণ্টা অভিশাপ দেয়, গালমন্দ করে, "বিএনপি দেশটা শেষ করে দিয়েছে- আর ছয়মাসও টিকবে না", তারাই আবার বিএনপি কাকে মন্ত্রী বানালো, কাকে উপদেষ্টা করলো- এই হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×