(প্রথম প্রকাশ পায় এপ্রিল 3, 2005, আড্ডার ইংরেজী ভার্সনে) মানবিক সম্পর্ক নিয়ে লিখব তা বেশ ক'দিন থেকেই ভাবছি। বিষযটা একটু জটিল। এটা নিয়ে ভাববার সুযোগ আর সময় কারো হাতে নেই। আমি জানি, গত এক দশকে আমাদের সমাজে একটা ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। পরিবতর্নটা লক্ষণীয়ভাবে উপলদ্ধি করা গেলেও এটা নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা তেমন একটা দেখা যায় না। আমাদের বসবাস একটা পরস্পরনির্ভর সামাজিক জীবণধারায়। আমি সমাজ বিজ্ঞানী নই, মনোবিজ্ঞানীও নই। তারপরেও, চারপাশ তাকিয়ে সমাজে আমাদের মানবিক সম্পর্কের শিথিলতর ধারা প্রত্যক্ষ করে আমি আতংকিত হয়ে পড়ি। জানি, গত এক দশকে জীবণে ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুণ, মধ্যবিও জীবণধারায় জীবণ সংগ্রাম হয়েছে আরও জটিলতর। আমার ব্যক্তিগত উওরণও হয়েছে মধ্যবিও জীবণধারা থেকে। ওটা আমার শিকড়। আমার শিকড় আঁকড়ে রয়েছে আমার পরিচয় আর আমার ভিওি, যা অস্বীকার করলে আমি অসমপূর্ণ। তাই পরিচিত পরিসরে যখন বৈষয়িক ও আর্থিক সমৃদ্ধি সম্পর্কগত সানি্নধ্য ও উষ্ণতার নিণর্ায়ক হয়, তখন আমি অবাক হই না, উৎকন্ঠিত হয়ে পড়ি। কারণ, বৈষয়িক ও আর্থিক সমৃদ্ধির সমান্তরালে বাড়ছে সম্পর্কগত দুরত্ম ও মানসিক দারিদ্র।
প্রয়োজনভিওিক সম্পর্ক সৃস্টি করছে টানাপোড়নে সম্পর্ক। মানবিকবোধ অতি নীরবে জীবণ থেকে নির্বাসিত হচ্ছে। যান্ত্রিকতায় চোখ ঝলসানো সমৃদ্ধি থাকতে পারে, তাতে মানসিক শান্তি নেই। প্রয়োজনভিওিক মানবিক সম্পর্কে মানবিক উওরণের সুযোগ নেই, প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে তা নিছক মূল্যহীন হয়ে পড়ে। এটা যখন সবাই অনুভব করতে শুরূ করে, তখন তা হয়ে দাঁড়ায় বিলম্বিত মোহভঙ্গ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

