somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈদ এবং ঈদ

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট বেলায় গরু কেনা হত ঈদের কম হলেও তিন দিন আগে। গরু একটা বাড়িতে ঢুকলেই হত কার গরু কার কি দেখার সময় ছিল না। গরু এনেছে, গরু এনেছে বলতে বলতে আমরা বাচ্চারা পড়ি মরি করে দৌড়। আশেপাশের বাড়ির কলাগাছগুলো ন্যাড়া করে কলাপাতার স্তূপ করতাম গরুর সামনে। গরুকে একটা কলাপাতা খওয়ানোর সুযোগ পেলে গর্ব হত। মায়েরা রাতের বেলা জমিয়ে রাখা ভাতের মাড় নিয়ে গরুর সামনে জর হয়ে আলাপ সালাপ করতেন। তখন দিনের প্রধান কাজ ছিল গরুর সামনে বসে তার রূপ দেখা। মাঝে মা এসে খাবার জন্য ডেকে নিয়ে গেলেও কষ্ট হত। একটা হাম্বা ডাক শোনার আমরা উৎকণ্ঠিত হয়ে আপেক্ষা করতাম। কুরবানির গরু তখন যতটা যত্ন পেত তা দেখলে বোধয় এখনকার নতুন জামাইরা গরু হয়ে জন্মালোনা বলে আফসোস করত। ঈদের আগের দিন রাতে আমরা চাপা কান্নায় বালিশ ভেজাতাম। সকালে আবার নিষ্ঠুরের মত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাটাকুটি দেখতাম। প্রথম রান্না গোশতের টুকরো হাতে নিয়ে ঘুরে ঘুরে খেতাম। কুরবানি দিক না দিক সবার ঘরেই গোশত পাঠানো হত।

কাল কুরবানি। বিকেলে বাবাকে জিজ্ঞেস করে শুনলাম গরু নাকি কেনা হয়েছে। কত দাম, চেহারা সুরত কেমন, কালো না ফরসা, স্লিম না হেলদি এখনও দেখিনি। ঝামেলা এড়ানোর জন্য এবার লাস্ট মোমেন্টে উনাকে আনা হয়েছে। সুযোগ হলে একবার দেখা করে আসব, না হলে এই জনমে আর হয়ত দেখা হবে না। কাল দুপুর নাগাদ দেখব বাবা কোথাও থেকে গামলা গামলা গোশত আনবেন। ছোট বোনটাকে ফকির মিসকিনের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে মা ফ্রিজ গোছাতে ব্যাস্ত হয়ে পরবেন। দুপুরে বিকেলে গোশতের আইটেম রান্না হবে। আমরা মুভি দেখতে দেখতে কিংবা ফেসবুকিং করতে করতে সেইসব খাব আর স্ট্যাটাস দিব।
দুইটাই ঈদের গল্প। কিন্তু , ঈদে ঈদে আকাশ পাতাল তফাৎ।

লেখাটি আমার ফেসবুকে পূর্ব প্রকাশিত।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"-.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০




"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"- বাংলা সাহিত্যের এই বহুল পরিচিত পঙ্‌ক্তির মর্মার্থ আমরা সবাই জানি। তবে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিশেষ করে শিশুদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত স্নেহ ও আন্তরিকতারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যে বলতে পারি না

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


ছবি নেট


মিথ্যে বলতে পারি না,
আজও আমি স্পষ্ট দেখি
ঘরের মেঝেতে এক টুকরো রোদ
জানি না কী করে যেতে হয় ভুলে
পুরনো সব রোগ
সেই ভালো হতো যদি মিশে যেতাম স্রোতে।

মিথ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন নিজে নিজে এআই দিয়ে, নেট ঘেটে ডাঃ জাহাঙ্গীর কবির স্যারের সব সত্যতা পাচ্ছে...!

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬

বারডেম সহ সকল ডাক্তারদের উচিত নন কমিউনিকেবল ডিজিজ গুলো বেশি বেশি ঔষধ দিয়ে, ছয় বেলার জায়গায় দরকার হলে আরো কয়য়েক বেলা মুড়ি, বিস্কুট, খই এর সাথে আরো কিছু যোগ করে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×