somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জনাব সজিব ওয়াজেদ... জামায়াতের দোষে ‘কালেমা’ কেনো দুষ্ট হবে?

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নিজের প্রিয় জন্মভূমিকে জঙ্গি সন্ত্রাসীরাষ্ট্র প্রমান করতে কোনো ব্যাক্তি বা গোষ্ঠী এতটা মিথ্যাচার করতে পারে কিংবা এতটা উঠেপড়ে লাগতে পারে, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘটনা আছে কিনা আমার জানা নেই!!

ক্ষমতায় টিকতে নিজের জন্মভূমিকে ধ্বংস করতে হলে তাও করতে একপায়ে খাড়া এই ঘৃণ্য সম্প্রদায়!!!

তৎকালিন চার দলীয় জোট সরকারের আমলে বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশকে জঙ্গিরাষ্ট্র প্রমানে যেভাবে উঠে পড়ে লেগেছিলেন শেখ হাসিনা।

তখন জঙ্গি প্রচারণা চালিয়েছিলেন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য, আর এখন চালাচ্ছেন ক্ষমতায় থাকার জন্য। একই ইসুকে কিভাবে বহুমুখি স্বার্থে কাজে লাগানো যায়, সেটাতে আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার তুলনা নেই।

এখানে জঙ্গি আটক, সেখানে জঙ্গি আটক, ওখানে ব্লগার খুন, ওখানে আনসারুল্লাহর প্রধান আটক..... দুদিন পরেই আবারও শুনি আনসারুল্লাহর প্রধান আটক, অমুক জঙ্গি সংগঠনের প্রধান আটক। কিরে ভাই একই সংগঠনের কয়জন প্রধান থাকেন?? দুদিন পর পরই শুধু প্রধানরাই আটক হন কোথা থেকে??

আসলে সবই মনিরুলদের(ডিএমপি মিডিয়া উইং) তেলেসমাতি। একজনকে ধরেই তাকে এই সেই জঙ্গি সংগঠনের প্রধান বানিয়ে মিডিয়ায় প্রচার করেন তারা!!

এসব সবই মুলত পশ্চিমাদের কাছে বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র প্রমানের চেষ্টা মাত্র!! জঙ্গিরাষ্ট্র প্রমান করে পশ্চিমাদের সহায়তায় ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা। যেহেতু তারা সেকুলার, তাদের দ্বারাই জঙ্গি দমন সম্ভব!! বিএনপিসহ বাকিগুলা মৌলবাদি দল!!

দেখা গেলো, এত জঙ্গি নাটকও কাজে দিচ্ছে না। তাই এবার পশ্চিমাদের দ্বারস্ত হয়েছেন পুত্রকে দিয়ে। এর প্রথম ধাপ হিসেবে পশ্চিমা পত্রিকায় ‘Unmasking terrorists in Bangladesh’ তথা ‘বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদীদের মুখোশ উন্মোচন’ চেষ্টা!!!

খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত আমেরিকান এই পত্রিকাটিতে এর আগে খালেদা জিয়ার কথিত একটি নিবন্ধ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

জামায়াতের কথিত মুখোশ উন্মোচন করে তিনি নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদীদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন!!

জামায়াতের সন্ত্রাসী মুখোশ উন্মোচন করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশের পুলিশ সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় দুই তলা বিশিষ্ট একটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে অবিস্ফোরিত ২০টি বিস্ফোরকের ডিভাইস, ২৫টি বাঁশের লাঠি এবং জামায়াতে ইসলামীর সাথে সংশ্লিষ্ট উগ্রপন্থী সাহিত্য জব্দ করেছে।”

ভাঙ্গা মোবাইলও তো ইদানিং বিষ্ফোরক ডিভাইস হিসেবে উদ্ধার করে আমাদের গোপালী পুলিশ!! প্লাষ্ঠিকের পাইপকে উদ্ধার করে পাইপগান হিসেবে!! তা এই ভয়ংকর বিষ্ফোরক ডিভাইস নিয়েতো বাংলাদেশের ‘বিটিভিগুলা’তেও তেমন প্রচারণা দেখলাম না?? আর বাঁশের লাঠি?? এটাও যদি সন্ত্রাসবাদীদের ভয়ংকর অস্ত্র হয়, তাহলেতো ২৮ অক্টোবরের লগি বৈঠা বাহিনীই বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়ংকর সন্ত্রাসবাদী দল!!

এসব আলোচনা বাদই দিলাম। জামায়াতের সব অপরাধ ধরুন মেনেই নিলাম। যেই কালেমা পড়ে মুসলমানরা তাদের মুসলমানিত্বের স্বীকৃতি দেয়, সেই কালেমা কি দোষ করলো?? সেই কালেমাকে তেলাপোকার গায়ে অঙ্কন করে মুসলমানদের কলিজায় আঘাত দিলেন কেনো??

পশ্চিমাদের কাছে নিজেকে খাটি নাস্তিক তথা সেক্যুলার প্রমান করতে এমন ধর্মীয় অবমাননাকর কাজ করতে আপনার দিলে একটুও বাধলোনা?? আপনি নাস্তিক হতে পারেন, আপনার মা তো এখনো নাকি তাহাজ্জুত মিস করেন না। প্রতিদিন সকালে কোরআন পড়েন!!!

জনাব জয় সাহেব, বাংলাদেশে বোরকা-পর্দার হার বাড়ছে বলে আপনি সঙ্কিত!! মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধের ব্যপারে উঠে পড়ে লেগেছেন!! আপনাকে নতুন করে ইসলাম বিদ্ধেষী কিংবা নাস্তিক প্রমান করার নিশ্চই প্রয়োজন পড়েনা!! সেই আপনি মুসলমান মাত্রই সন্ত্রাস বলে আখ্যায়িত করবেন, জঙ্গি ট্যাগ দিবেন এটাই স্বাভাবিক।

আপনি তেলাপোকার গায়ে কালিমা না লিখে জামায়াতের নাম লিখতে পারতেন। কিন্তু তা না করে আপনি কালেমার অবমাননা করলেন(যদিও পরবর্তিতে সমালোচনার মুখে ছবিটা সরিয়ে ফেলেছেন)। এর মাধ্যমে আপনার লুকানো ইসলাম বিদ্ধেষী চরিত্রটা সবার সম্মুখে ফুটে উঠেছে।

তাই আপনার মুখে কোনো ইসলামী দল সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য আসাটা খুবই স্বাভাবিক। বরং না আসাটাই অস্বাভাবিক।

জামায়াত কেমন দল, এতদিনে পশ্চিমাদের সেটা জানতে বাকি নেই। তাই জামায়াতকে জঙ্গি জঙ্গি বলে পশ্চিমাদের যতই পদলেহন করেন না কেনো, কোনো লাভ হবেনা, এতে কেবল জিহ্বারই ক্ষয় হবে আর বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মুসলমানের সম্মুখে আপনার তথা আপনাদের লুকায়িত চরম ইসলাম বিদ্ধেষী চরিত্রটাই ফুটে উঠবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৪৯
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে ইসলামপন্থা বনাম গণতন্ত্র: মানুষ যখন নাগরিক থেকে অনুসারী হয়ে উঠছে!

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩


কিছুদিন আগেও আমরা বলতাম, "দয়া করে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাবেন না"। সরল এই কথাটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোধ ছিল - ধর্মীয় বিশ্বাস আর রাজনীতি এক জিনিস নয়। গত দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×