
আজকে সংবাদমাধ্যমের দুইটি নিউজ:
পাকিস্তানে শিয়াদের শোভাযাত্রায় বোমা হামলা, নিহত ২২
ঢাকায় শিয়া সমাবেশে বোমা হামলায় নিহত ১, আহত শতাধিক
পাকিস্তানে নিহত ২২ আর বাংলাদেশে নিহত ১ আহত শতাধিক। পাকিস্তানে এমন হামলার খবর অহরহই শোনা যায়। কিন্তু বাংলাদেশে শিয়াদের উপর বোমা হামলার খবর এই প্রথম। বাংলাদেশের সম্প্রতি পরিস্থিতির বিবেচনায় এই ঘটনা খুবই ভয়ানক এবং এর পিছনে রয়েছে ভয়ংকর ষড়যন্ত্র।
বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ মুসলিম দেশেই শিয়া- সুন্নি ক্যাচাল বিদ্যমান। এই ক্যাচাল এমনি এমনি কিংবা তারা নিজেরা লাগায়নি। এটা লাগানো হয়েছে খুব পরিকল্পিতভাবে। যারা চায়না মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হোক তাদের শক্তি বৃদ্ধি পাক, মুসলমানরা তাদের জন্য হুমকী হয়ে দাঁড়াক, তারাই এই ক্যাচালের হর্তাকর্তা। বাংলাদেশে শিয়াদের উপর বোমা হামলা তারই ধারাবাহিকতা!!!
পশ্চিমা দেশগুলোর সম্প্রতি বাংলাদেশে নিরাপত্তার অযুহাত, বিভিন্ন প্রোগ্রাম বাতিল করা, নাগরিকদের ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা কিংবা সতর্কতা জারি ইত্যাদি কার্যকলাপ দেখে আগেই আন্দাজ করেছিলাম বাংলাদেশের কপালে খারাবি আছে। এসবের পেছনে যেই দুই বিদেশি হত্যাকান্ড, সেটাও একই সূত্রে গাঁথা। সেটা দিয়েই শুরু!!
আজকের বোমা হামলার প্রেক্ষিতেও যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন বলে ফেলেছেন, শিয়া সমাবেশে হামলায় ‘আমি আতঙ্কিত’ অর্থাৎ তাদের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে!!
দুঃখের ব্যপার হচ্ছে, প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ, জেনে কিংবা না জেনে হোক আমাদের দেশের হর্তাকর্তারাই চক্রান্তকারীদের সহযোগিতা করে চলেছে। আমাদের দেশের হর্তাকর্তারা এসব ঘটনার অন্দরমহলে না গিয়ে তদন্ত না করেই সেই চিরাচরিতভাবেই রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষকে দায়ী করছেন!!
আর এটাই চক্রান্তকারীদের সুযোগ করে দিচ্ছে। তারা থেকে যাচ্ছে অন্দরেই!!
একজন প্রধানমন্ত্রী এবং তার পুত্র যখন বলেন বিদেশি হত্যাকান্ডের পেছনে বিএনপি জামায়াত জড়িত। তখন কোন তদন্ত কর্মকর্তার এত সাহস যে, সে তার তদন্ত প্রতিবেদনে বিএনপি জামায়াত ছাড়া অন্য কাউকে দোষী করে প্রতিবেদন দিবে?? সে তো এই ঘটানার তদন্তই করবে না!!

একইভাবে শিয়া সমাবেশে বোমা হামলায় একজন নিহত এবং শতাধিক আহতের মত ভয়ংকর ঘটনার পিছনেও নাকি স্বাধীনতা বিরোধীরা(!) জড়িত বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন আমাদের আইজিপি(ইন্সপেক্টর অব গোপালী পুলিশ) সাহেব!!
তদন্ত ছড়াই তিনি গায়েবীভাবেই জেনে গেছেন যে, এই কাজ স্বাধীনতা বিরোধীরাই করেছে!! বোমা হামলাকারীরা বাস্তবিকই এই দেশের স্বাধীনাতা বিরোধী। কারন এই দেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান কারী কেউ এই হামলা চালাতে পারেনা। কিন্তু আইজিপি সাহেবদের স্বাধীনতা বিরোধী মানে তো এই স্বাধীনতা বিরোধী নয়!! তারা স্বাধীনতা বিরোধী বলতে যে কাদেরকে বুঝায় সেটা আজকাল ক্লাস ওয়ানের বাচ্চাও জানে।
বাংলাদেশটা এখন আর মডারেট মুসলিম দেশ নেই। এটা হাসিনার সেক্যুলার দেশও নেই। এটা এখন সত্যিকারের মুসলিম দেশ হিসেবেই দেখছে পশ্চিমা এবং ভারতসহ তার দোষররা। সেটা যে কারনেই হোক।
দেশটাকে পাকিস্তানের মত অশান্ত আর অনিরাপদ বানাতে জঙ্গিদেশ বানাতে বর্তমান নির্বাচনবিহীন অবৈধ দখলদার সরকারের অনাচার আর দেশের অস্থিতিশীল পরিবেশকেই টার্গেট হিসেবে নিয়েছে তারা। আর সিরিয়াকে কেন্দ্র করে সারাবিশ্বব্যাপী মুসলিম দেশগুলোতে শিয়া সুন্নি যুদ্ধাংদেহি অবস্থাকে শান্তসিষ্ট বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দিতেই এই পরিকল্পনা। একটা মুসলিম দেশও শান্তিতে থাকুক, এটা কখনোই চায়না তারা।
বাংলাদেশ পাকিস্তান কিংবা আফগান কিংবা ইরাকের মত হবেই। তবে সেটা হয়তো ধীরে ধীরে হতো। কিন্তু সরকারের পাচাটা গোলামগুলোর বেফাঁস কথাবার্তা এটাকে আরো ত্বরান্বিত করবে।
অচিরেই হয়তো বিশ্বগনমাধ্যমে প্রচার হবে ‘বাংলাদেশে পুলিশের আইজিপি তার দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত’। তখন আশ্চর্য হওয়ার কিছুই থাকবে না। কারন পাকিস্তানে এসব অহরহই ঘটছে...।!!!!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ২:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


