
রাত তখন পৌনে ২টা। নিউ ইস্কাটনের রোডে এই সময়েও বাধলো হালকা জ্যাম। জ্যামে আটকা পড়লেন নেশাখোর মাতাল দুষ্চরিত্র এক বড়লাট!!
এই সামান্য জ্যামও সহ্য হলোনা বড়লাটের!! উত্তেজিত মাথায় পকেট থেকে বের করলেন নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল। রাস্তায় জ্যামের মধ্যেই শুরু করলেন এলোপাথাড়ি গুলি!!
ফলাফল: একজন রিকশাচালক ও একজন সিএনজি চালক নিহত।
নাটক বা সিনেমার কাহিনী নয়, সত্য ঘটনা। গত ১৩ এপ্রিলের ঘটনা এটি।
এই বড়লাট হচ্ছেন মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের এমপি পিনু খানের ছেলে রনি!!
অনেক নয়ছয় এর পর দীর্ঘ দেড় মাস পর ৩১মে এই বড়লাটকে তার ড্রাইভারসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ!!
গ্রেপ্তারের পর মিডিয়ার সামনে পুলিশের ভাষ্য ছিলো, গুলি করার কথা সে এবং তার ড্রাইভার স্বীকার করেছে। তবে গুলিতে কেউ মারা গিয়েছিল কি না তা নাকি এই বড়লাটের জানাই ছিল না!!
বড়লাটের এত কিছু খেয়াল করার দরকার আছে? মেজাজ গরম হয়েছে, গুলি চালিয়ে মেজাজ ঠান্ডা করেছে। গুলি কোথায় লেগেছে, কোন ফকিন্নি মরেছে, এসব দেখে লাভ আছে??
সে যাই হোক, আওয়ামী এমপিপুত্র হওয়ায় এই চাঞ্চল্যকর ও নির্মম জোড়াখুনকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে কিছু দলবাজ পুলিশ।
রনির গুলিতেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা কিছুদিন আগে গণমাধ্যমকে জানালেও আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে তা লিখেননি। এটা না লিখা মানে, রনিকে নির্দোষ বানানোর চেষ্টা!!
রিকশাচালক আর সিএনজি চালকরা কি মানুষ না? এই বড়লাটরাই কেবল মানুষ? এজন্যই কি একমাত্র উপারযনক্ষম ব্যাক্তিকে হারিয়ে নি:স্ব দুই পরিবার বিচার পাবেনা??
পুলিশের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। গরিব অসহায় মজলুম দুই পরিবারের পাশে দাঁড়ান। সর্বোপরি গরিবের শোষিত টাকায় নেশাখোর দুষ্চরিত্র এসব বড়লাটদের স্বেচ্চাচারিতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন।
রাজপথে না হলেও অন্তত অনলাইনে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলুন। যাতে তারা সহজে এই নির্মম জোড়াখুনকে ধামাচাপা দিতে না পারে।
একসময় আপনার অবস্থাও যে গুলি খাওয়া ঐ দুই ব্যাক্তির মত হবেনা কিংবা আপনার পরিবারের অবস্থা যে এই দুই পরিবারের মত হবে না তারই বা গ্যারান্টি কি??
তাই সময় থাকতে সোচ্চার হোন।।।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১৫ দুপুর ১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




