somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অর্বাচীন পথিক
https://www.facebook.com/fresh.wayfarer nলেখার কোন অংশ লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা যাবে না। বানান ভুল পাওয়া যেতে পারে এর জন্য আগে থেকেই ক্ষমা চাই । ভুল বানান গুলো ধরিয়ে দিতে সাহায্য করলে সেটা ঠিক করে দেওয়া হবে। (ব্লগের লিংক ফেসবুক শেয়ার করা

আড়ালের অনুভূতি (পর্ব- ৬)

১৫ ই মার্চ, ২০১৫ সকাল ১০:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



উদ্দীপিত পাপনের ফোন পাবার একটু পর থেকেই রুমের মধ্যে পায়চারি করছে। শুধু মাএ অপেক্ষায় সময় তার এই অভ্যাস আছে অযাচিত হাঁটা হাঁটির।
হঠাৎ করেই রুমের দরজার লক খোলার শব্দ কানে এলো উদ্দীপিতের। বুঝলো পাপনেরই কাজ এটা। তার কাছে চাবি না থাকলে ও সে কোন না কোন ভাবে দরজার লক খুলে ফেলে। যাকে বলে চুরির বিদ্যা রপ্ত করা। তবে এই বাসার ক্ষেএে সেটা প্রযোজ্য না কারন এই বাসার চাবি তার কাছে আছে। এই বাসাটা উদ্দীপিত আর পাপনের ক্যাডেট কলেজের এক সিনিয়ার ভাইয়ের বাসা। এই বাসা অনেক টা সরাই খানার মতন। সবাই আসে, থাকে…… যাই। শুধু সিনিয়ার ভাই কে একটা ফোন বা ইমেইল দিলেই হল আর কোন সমস্যা নেই। তবে যারা সিনিয়ার ভাইয়ের কাছের মানুষ তাঁদের সবার কাছে এক একটা করে চাবি আছে। সেই কাছের মানুষের মধ্যে উদ্দীপিত আর পাপন ও আছে।

পাপন রুমে ডুকেই উদ্দীপিতের দিকে এমন ভাবে তাকালো যেন গতকালই দুইজনের দেখা হয়েছে। অথচ দুইজনের দেখা হচ্ছে প্রায় চার বছর পর।
পাপন তার হাতের প্যাকেট টা ডাইনিং টেবিলে উপর রাখতে রাখতে বলল
– কি রে কোন খবর না দিয়ে চলে এলি-যে ?
উদ্দীপিতের খুব মেজাজ খারাপ হচ্ছিল পাপনের ব্যবহার দেখে। উদ্দীপিত মেজাজ তিতিক্ষি করে উত্তর করলো
– তোকে দেখতে আসিনি এটা বুঝতে পারছিস তো
– হু, সেটা জানি তুই আমাকে দেখতে আসিস-নি।
– সকাল হতে না হতে কোথায় গিয়ে ছিলি তুই ??? খুব ঠাণ্ডা গলায় প্রশ্ন করলো উদ্দীপিত কে।
– খুব ভালই স্টাডি করে আসছিস আমার উপরে।
পাপন আবার ও একই প্রশ্ন করলো উদ্দীপিত কে
– বল কোথায় গেছিলি?
– শোন মন- মেজাজ ভাল নেই। আবার নতুন করে আর ও খারাপ করিস না।
হু বুঝলাম , স্যান্ডুইচ গুলো খেতে থাক, আমি কফি করে নিয়ে আসি। এটা বলে পাপন কিচেনের দিকে চলে গেল।

কফির কাপ হাতে নিয়ে কিচেন থেকে বেরিয়ে পাপন দেখলো স্যান্ডুইচ গুলো স্যান্ডুইচের জায়সায় পড়ে আছে আর সে সেখান থেকে নীরবেই প্রস্থান করেছে।

পাপন রুমে ডুকেই দেখলো উদ্দীপিত জানালার থাই গ্লাস খুলে দাঁড়িয়ে আছে।
সে কোন কথা না বলেই কফির কাপ টা উদ্দীপিতের দিকে বাড়িয়ে দিলো।
কয়েক মূহুর্ত পরে প্রশ্ন করলো “কি হয়েছে তোর ???”

উদ্দীপিত কোন উত্তর না করেই তাকিয়ে রইল বাসার পাশের গলিটার দিকে। যেখান থেকে ব্যস্ত শহরের দূষণের চিত্র ছাড়া আর কিছু দেখা সম্ভব না। কিন্তু সেটার মাঝে ও কি খুঁজতে চেষ্টা করছে বুঝতে পারছে না পাপন।

উদ্দীপিতের সাথে তার পরিচয় ক্যাডেটের প্রথম দিন থেকেই। সবাই বলতো। আমি কিভাবে তার সাথে তাল মিলিয়ে চলি। একটা প্রশ্ন করলো উত্তরের জন্য রীতিমত ধৈর্যজের পরীক্ষা দিতে হয়। তার পর ও আমাদের মাঝে গভীর একটা সম্পর্ক তৈরি হয় । আর আমরা হয়ে উঠি একে অপরের খুব কাছের বন্ধু।

- তোর মনে আছে ক্যাডেট কলেজে পড়ার সময় আমি একজনের কথা প্রায়ই তো কে বলতাম
– ঐ সেই কার্লি লং হেয়ার মেয়ে টা………? পাপন কফির কাপে এক চুমুক দিয়ে বলল।
– তোর কিভাবে মনে আছে তার কথা !!!!!!
– না মনে থাকার কি আছে। সারা জীবনে তোর মুখে দুইটা মেয়ে মানুষের গল্প শুনেছি। এক তোর বড় মা আর দুই সেই কার্লি লং হেয়ার মেয়েটা।

কাছের এক বন্ধুর মুখে এমন কথা শুনে উদ্দীপিতের একটু লজ্জা লাগতে লাগলো। আর এই সময় তার মনে হচ্ছিল তার বাম কান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে আর পাপন সেটা দেখতে পাচ্ছে। নিজেকে খুব নির্লজ্জ মনে হচ্ছিল তার নিজের কাছেই।

পাপন এবার খুব রাশভারী গলায় বলে উঠলো
– এত লজ্জা পাবার কিছু নেই। একটা বয়সে এই সব ব্যাপার সবারই থাকে। আমার ও ছিল……। এই সব কোন ব্যাপার না। এখন কি হয়েছে সেটা বল।
– আমি তার সাথেই দেখা করতে এসেছি।
পাপন একটু ও কৌতুহলি না হয়েই বলল
-ও ।
-ব্যাস …..!!!!! ও …… !!!! । আর কিছু জানতে চাস না, কখন কিভাবে তার খোঁজ পেলাম আমি।
– আমার প্রশ্ন করার কি আছে। তুই বল আমি শুনছি।

উদ্দীপিত খুব ভাল করেই জানে যে, সারা জীবনে সে কোন প্রশ্ন করবে না যদি না সে নিজে থেকে কিছু না বলে তাঁকে। বরাবরই ওর সব কিছুতে কৌতুহল কম। বিশেষ করে ব্যক্তি জীবনের ক্ষেএে।

উদ্দীপিত এবার বলতে লাগলো নিজে থেকেই



N.B: [আড়ালের অনুভূতি (পর্ব- ৬)- এর বাকী অংশ পরের পোস্টে]
N.B: [ যদি কোন বানান ভুল করে থাকি তবে আশা করি বানান টা ধরিয়ে দেবেন। আমি সেটা আমি ঠিক করে নিবো ]
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিএনপি একটি বেঈমান আর গাদ্দারদের দল।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫০

‘বিএনপি ৭৫এর যোদ্ধাদের রক্ষা করেনি, ২৪ এর যোদ্ধাদেরও রক্ষা করবে না।’ ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×