somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাথার উপর বিশাল আকাশ। সেই আকাশে বাবাকে খুজি

১৫ ই জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাবার আদর কখন কিভাবে পেয়েছি জানিনা।
আহ্লাদিত হয়ে তার গলাটি কখনো জড়িয়ে ধরেছি কিনা মনে পড়ে না তাও।
অত্যন্ত কঠোর হৃদয়ের মানুষটির সঙ্গে মৃত্যুপূরির শুনশান নিরবতা নিয়েই যেন বড় হয়ে উঠেছি।


স্বাধীনতার পর চুয়াত্তরের শেষ দিকে আমাদের সেই বাবা পরিবারের সকলকে নিয়ে মাগুরা ছাড়লেন।
অল্প বেতনের ছোট্ট চাকরি নিয়ে পাড়ি জমালেন আমাদের জেলা শহর যশোরে।

সংসারে চার ভাই একটি বোন।
পাহাড় সমান অভাব নিয়ে বাবার চেহারাখানা সব সময় যেন রুক্ষ হয়ে থাকে।
আমরা ভয়ে ভয়ে থাকি দূরে। আর আমাদের মা সেই অভাবি বাবাকে যেন আল্লাহর মতো ভয় পান।
অত্যন্ত শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় বাবার জন্য আমার মায়ের আপনি-তুমি দু’ধরণের সম্বোধন দেখে আসছি সেই না বোঝার বয়স থেকেই।

একবার টু-থ্রীতে পড়ি এমন সময়কার কথা। সেটি আশি বা একাশি সাল।
গায়ে প্রচণ্ড জ্বর।
মা সারাদিন মাথায় পানি ঢালেন। কিন্তু জ্বর কোন ভাবেই ছাড়ে না।
এমন অবস্থায় মায়ের সকরুণ আর্তিতে বাবা আমাকে কাঁধে তুলে নিলেন।

আমরা তখন থাকি যশোরের বাবলা তলা। স্টাফ কোয়াটারে।
সেখান থেকে ডাক্তার বাড়ি পুরাতন কসবা। পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের পথ।
এই দূরত্ব যেতে বাবা কখনো আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। কখনো মুখের খোচা খোচা দাড়ির সঙ্গে মুখটি ঘসেন পরম মমতায়। কখনো আবার কাধে তুলে নেন।
আর আমি আনন্দে আত্মহারা। শারীরের অসুস্থ্যতা ভুলে যাই নির্ণিমেষে। হাত দুটিকে প্রসারিত করে উড়তে থাকি পাখির মতো করে।
বাবা যেন সেদিন আমাকে দিয়েছিলেন এক আকাশ ভালবাসা। যে আকাশে আমি পরম আনন্দে ডুব সাতার খেলেছি। আর জলের স্পর্ষে তাকে ছুয়ে দেখেছি অত্যন্ত নির্ভরতায়। এই আমার বাবা, এই আমার নির্ভরতা আর নির্ভাবনার প্রতিমূর্তি।

এরপর বদলির কারণে বাবা চলে গেছেন আরো দূরে। আর মা আমাদের নিয়ে ফিরেছেন আবার মাগুরাতে।
সপ্তাহে, কখনো মাসে একদিন বাড়িতে ফিরেছেন বাবা। আর মা তার কোমল ডানার নিচে বড় করেছেন আমাদের।
কিন্তু জানি বাবা আছেন আমার নির্ভরতার সঙ্গী হয়ে।

........এ বছরের জানুয়ারিতে আমার সেই নির্ভরতা আমার বাবা ছেড়ে গেছেন আমাদের।
মাথার উপর এখনো বিশাল আকাশ। সেই আকাশে বাবাকে খুজি। আর ক্লান্ত হয়ে চোখ দুটি যেন কেবলই ঝাপসা হয়ে ফিরে আসে।
ঝাপসা হয়ে ফিরে আসে।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্ম শেখানোর সুযোগ পেলে কি শিখাবেন?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ৯:৪০








কিছুদিন আগে নানু মারা যাওয়ায় জানাযারর সময় নিয়ে সমস্যা হলো,তা ছিলো ঐ দিনই বাড়ির খুব পরিচিত মুখও ক্যান্সারে অনেক মাস যুদ্ধ করে মারা যায়।মাঠ যেহেতু একটাই,পরে ঠিক হলো সকাল ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবেসে লিখেছি নাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১২:৫৮









আকাশে রেখেছি সূর্যের স্বাক্ষর
আমার বুকের পাজরের ভাজে ভাজে
ভালোবেসে লিখেছি তোমারি নাম
ফোটায় ফোটায় রক্তের অক্ষর।

এক জীবন সময় যেন বড় অল্প
হাতে রেখে হাত মিটেনাতো সাধ
... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীলাঞ্জনার সাথে

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১:৪৩

ছবি :ইন্টারনেট


কেউ নিজের মতো অভিযোগ গঠন করলে (ঠুনকো)
বলি কী ,
তার ভেতরেই বদলানোর নেশা ,
হারিয়ে যাওয়ার নেশা।
ছেড়ে যেতে অভিনয় বেশ বেমানান,
এ যেন নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ আমার কবিতা পছন্দ করেছেন বলে মনে হয়

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৫:২৪



আল্লাহ

নিজে নিজে হয়েছেন আল্লাহ মহান
কারণ অসীম হয় নিজে হয় যারা
সসীম করবে তাঁকে ছিলো সেথা কারা?
শূন্য ছিলো তাঁর পূর্বে আর তিনি এক।
নিজে নিজে হয়েছেন শুধু একজন
কারণ আলাদা হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গত ৯ বছরে সামুর পোষ্টের মান বেড়েছে, নাকি কমেছে?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ৮:১৮



আমার ধারণা, গত ৮/৯ বছরে সামুর পোষ্টের মান বেড়েছে, অপ্রয়োজনীয় পোষ্টের সংখ্যা কমেছে। সব পোষ্টেই কিছু একটা থাকে; তবে, পোষ্ট ভুল ধারণার বাহক হলে সমুহ বিপদ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×