somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেখার আছে অনেক কিছুঃ নায়িকারা সাবধানঃ নায়িকা জরিনার শেষ ঠিকানা হলো বৃদ্ধাশ্রমের কবরস্থান

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রূপালী পর্দার জরিনা সুন্দরীর (৯০) অবশেষে শেষ ঠিকানা হলো বৃদ্ধাশ্রমের কবরস্থানে। সেখানে আড়াই শতাধিক কবরের পাশে একটি কবর জরিনার। সবুজ ছায়াঘেরা পরিবেশে বৃদ্ধাশ্রমের কবরস্থান ছিল জরিনার খুবই পছন্দের। বৃদ্ধাশ্রমের কক্ষের কাছে এই কবরস্থান। প্রতিদিন কবরস্থানের দিকে তাকিয়ে আপনজনের নিপীড়ন-নির্যাতনের চোখের পানিতে জবাব দিতেন। সেই কবরস্থানে জরিনা সুন্দরী চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। তার দ্বিতীয় স্বামী ধনাঢ্য ব্যক্তি। ছেলে-মেয়েরা সবাই বিত্তশালী। দ্বিতীয় স্বামী বেঁচে আছেন। কিন্তু জরিনাকে দাফন করার জন্য আপনজন কেউ আসেনি। তবে মারা যাওয়ার এক মাস পর ২৬ রমজান স্মৃতি হিসাবে জরিনার ব্যবহূত কাপড় ও জিনিসপত্র নাতির শাশুড়ি এসে নিয়ে যান বলে বৃদ্ধাশ্রম সূত্রে জানা যায়। গত ১০ জুন জরিনা মারা যান। ষাটের দশকের চলচ্চিত্র জগতের সাড়া জাগানো নায়িকা ছিলেন জরিনা ওরফে জরিনা সুন্দরী। ঐ সময় অন্যান্য নায়ক-নায়িকার সঙ্গে জরিনা সুন্দরীর অভিনয় মাতিয়ে তুলেছিল সারাদেশ। তাকে দর্শকশ্রোতা এক নামে চিনতো। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বহু নাটকে অভিনয় করেছেন। ষাটের দশকে জরিনা সাত ভাই চম্পা, গুনাই, রূপবান, জরিনা সুন্দরী, সাগর ভাসা, আপন দুলাল ও বেহুলা ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। ইত্তেফাকের এই প্রতিনিধি গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে গাজীপুর বিশিয়া কুড়িবাড়ি বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে জরিনা সুন্দরীর সঙ্গে আলাপকালে তিনি জীবনের সুখ-দুঃখের কাহিনী তুলে ধরেন। ঐ সময় ঘণ্টাব্যাপী আলাপকালে স্বামী-সন্তান কর্তৃক নিপীড়ন-নির্যাতনের নির্দয় আচরণের কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে জরিনা মেঝেতে হেলে পড়েন।

জরিনা জানিয়েছিলেন ষাটের দশকে অভিনয়ের সময় তাকে বিয়ে করার জন্য পাকিস্তানি এয়ারফোর্সের এক শীর্ষ কর্মকর্তা অস্থির হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ঐ সময় লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে জরিনাকে বিয়ে করেন পাকিস্তানি অফিসার। বিয়ে করার কয়েকমাস পর জরিনাকে নিয়ে যান করাচিতে। সেখানে ঐ অফিসারের প্রথম স্ত্রী ছিল। জরিনার বিয়ে অফিসারের প্রথম স্ত্রী মেনে নিতে পারেনি। তার উপর চালায় নির্যাতন। দুই বছর নির্যাতন সহ্য করেছিলেন স্বামীর সংসারে থাকার আশায়। দুই বছর পর স্বামী ও সতীন মিলে তাকে নির্যাতন চালিয়ে বাধ্য করে স্বদেশে আসতে। এদেশে এসে জরিনা এক আত্মীয়ের বাসায় ঠাঁই নেন। জরিনা সুন্দরীর ওপর চোখ পড়ে পুরনো ঢাকার লালবাগের এক ধনাঢ্য ব্যক্তির। এই ব্যক্তি জরিনাকে বিয়ে করার জন্য পাগল। এক পর্যায়ে জরিনা সুখের নীড়ের আশায় বিয়ে করেন উক্ত ধনাঢ্য ব্যক্তিকে। এই ব্যক্তিরও এটা দ্বিতীয় বিয়ে। আবার সতীন ও তার সন্তানদের নির্যাতন নেমে আসে জরিনার ওপর।

এ স্বামীর ঘরে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয় জরিনার। স্বামী ও সতীনের পৈশাচিক নির্যাতন চলে জরিনার ওপর। অবশেষে দ্বিতীয় স্বামী তাকে বের করে দেয় বাসা থেকে। ছেলের ঘরে ৪ নাতনী ও এক নাতি রয়েছে। এছাড়া আরো রয়েছে নামি-দামি ও বিত্তশালী আত্মীয়স্বজন। শেষ ঠিকানা হিসাবে জরিনা বেছে নেন গাজীপুরের বৃদ্ধাশ্রম।

খতীব আব্দুল জাহিদ মুকুলের প্রতিষ্ঠিত বৃদ্ধাশ্রমে এসে তিনি মুগ্ধ হন। এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবা-যত্নে তিনি অতীতের সব দুঃখ-কষ্ট ও নির্যাতনের কথা ভুলে যান বলে জরিনা কান্না-বিজড়িত কণ্ঠে জানান। চলচ্চিত্রে রূপে-গুণে ও অভিনয়ে খুবই সফল হলেও সংসার জীবনে তিনি হন পরাজিত।

চলচ্চিত্র জগতে অভিনয়কালে যৌবনে দর্শক-শ্রোতাদের মত আপনজনরাও ঐ সময় জরিনাকে একটু কাছে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকতেন। স্বামী, সংসার, সন্তান ও আপনজনের কাছে কতই না মমতা আর সম্মান পেয়েছিলেন। যৌবনের শেষে বৃদ্ধ বয়সে স্বামী ও আপনজনদের সেই মায়া-মমতা ও সম্মান যেন গুড়েবালি। তার জীবনটাই ছিল আসলে অভিনয়। অতি ভালবাসা, অতি ধন-সম্পদ ও অতি বিলাসিতা অন্তিমকালে বড় বেদনাদায়ক বলে চোখ মুছতে মুছতে জরিনা সুন্দরী এই প্রতিনিধিকে বিদায় জানান।

দৈনিক ইত্তেফাক , রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১১, ২০ ভাদ্র ১৪১৮
লেখক: আবুল খায়ের |
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×