পাকিস্তান পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করার নিয়ম আর প্রথা রয়েছে। আর বাংলাদেশ ২য় হতে যাচ্ছে।
টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সন্ত্রাস দমনের খাতিরে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটাকে স্বাগত জানাই। কিন্তু জনগনের নিরাপত্তার বিষয়টাও তো বিবেচনায় রাখতে হবে। দেশের জনগনের আঙ্গুল ছাপ নেয়ার অধিকার শুধুমাত্র দেশের সরকারের আছে এবং সেটা সংরক্ষণ করার দায়িত্বও সরকারের। এটা এতটাই গোপনীয় যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও এই তথ্য থাকবে না আর Finger Print বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করার দায়িত্ব শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর উপর বর্তায়।
কিন্তু বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশন করলে আমাদের Finger Print বেসরকারী মোবাইল ফোন কোম্পানী এবং বিদেশীদের হাতে চলে যাবে। তাতে জনগনের নিরাপত্তার বিষয়টা হুমকির মুখে চলে যাবে। বাংলাদেশ সরকার চাইলে এই পদ্ধতির বিকল্প পথ ব্যবহার করেই সিম রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন, যেখানে জনগনের স্বার্থের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়টাও প্রাধান্য পাবে।
আমরা জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করার সময় আমাদের আঙ্গুলের ছাপ দিয়েছি। তাহলে জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়েই তো কাজ চালানো যায় কিন্তু সেটা করছে না। আসলে ইচ্ছা আর কৌশলের অভাব আছে। যদি সিম কোম্পানীগুলোকে সঠিকভাবে নির্দেশনা দেয়া হয় তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে। নির্দেশনা ঠিকমত পালন না করলে বড় অঙ্কের আর্থিক দণ্ড অথবা বড় ধরনের ক্ষতি হয় এমন শাস্তি দিতে হবে। বেশি না কয়েকটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। সব আপনার কন্ট্রোলে চলে আসবে। ক্ষমতা তো আপনার হাতে আছেই, শুধু মানব কল্যানে ব্যবহার করার একটু ইচ্ছা পোষণ করুন।
যেখানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির বিকল্প পথ আছে সেখানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে কেন বাংলাদেশে সিম রেজিস্ট্রেশন কেন করতে হবে? কেন দেশের মানুষকে সম্ভাব্য হুমকির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে?
শুধু একটাই দাবি, দেশের সাধারন মানুষের নিরাপত্তা। আমাদের নিরাপত্তা। রাস্ট্রের নিরাপত্তা।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



