somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রাইভেট জব

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গত পনেরো দিন ধরে নতুন ম্যাডাম ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন। ট্রায়াল ক্লাস। ম্যাডামকে এখনো কলেজে পারমানেন্ট করা হয়নি। উনি খুব একটা খারাপ পড়ান না।

আজকের ক্লাস শেষে ম্যাডামের মন খুব খারাপ।
খুব হতাশা নিয়ে বললেন, "তার সবচেয়ে কাছের বান্ধবী আজকে তার এই একই পোস্টে ভাইভা দিতে আসছে। যে বান্ধবীকে উনি পরীক্ষার আগে ধরে ধরে পড়াতেন! পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন মার্ক করে দিতেন, প্রশ্নগুলো সলভ করে দিতেন। একই মেসে থাকার কারণে নিজের হাতে কতদিন রান্না করে খাইয়েছেন, তার শেষ নেই! তার সেই বান্ধবী আজকে তার রিজিকে হাত দিতে আসছে।"

ম্যাডামের কথা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেলো।

ম্যাডাম আরও বললেন, "তার সেই বান্ধবী আগে তারই মতো বোরকা পরত, হিজাব পরত। অথচ ক্যান্ট পাবলিকের ম্যানেজমেন্টকে ইমপ্রেস করতে আজকে হিজাব, বোরকা সব ছেড়ে টাইট জামা পরে এসেছে।"

যা হোক, ম্যাডাম আমাদের জিজ্ঞাস করলেন, এই পনেরো দিন তিনি আমাদেরকে কেমন পড়িয়েছেন?

আমরা সবাই উত্তরে বললাম, "অনেক ভালো।"

উনি এবার আমাদেরকে অনুরোধ করলেন, "পরদিন তার সেই বান্ধবী আমাদের ট্রায়াল ক্লাস নিতে পারেন। আমরা যেন তার কথা ভুলে না যাই।"

গত পনের দিন ক্লাস করে সরল সোজা এই ম্যাডামের প্রতি সবারই একটা মায়া জন্মেছে। আমরা তাকে পজিটিভলি আশ্বস্ত করলাম।

পরদিন সকালে ম্যাডামের বান্ধবী ক্লাস নিতে এলেন।

সর্বনাশ!

নতুন ম্যাডাম হালকা গোলাপি রঙের টাইট ফিট জামার সঙ্গে পাতলা জর্জেটের ওড়না পরে এসেছেন ক্লাশ নিতে।

আধা ঘণ্টার ট্রায়াল ক্লাস বুলেটের গতিতে শেষ হয়ে গেল।

আসলেই কি আধা ঘন্টা শেষ হয়েছে?

মাথা নষ্ট!

এই ক্লাস শেষ হলো কেন?

ক্লাশ শেষে নতুন ম্যাডাম চলে যাচ্ছেন। ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ুয়া আমরা হা করে তার চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে আছি।

একটু পর প্রিন্সিপাল স্যার রুমে ঢুকলেন।

জিজ্ঞাসা করলেন, "দুই ম্যাডামের মধ্যে কে ভালো পড়ান? কাকে সিলেক্ট করা যায়?"

কি মনে হয়?
আমরা সেদিন কাকে সিলেক্ট করেছিলাম?

হুম, ঠিকই ভেবেছেন। আগের দিনের আমাদের সেই সরল-সোজা ম্যাডামের আবেগী মোটিভেশন ভুলে আমরা সবাই সেদিন নতুন ম্যাডামের পক্ষে ভোট দিয়েছিলাম।

যা হোক, কি যেন বিশেষ কারণে শেষমেশ দুই ম্যাডামের কাউকেই সেবার টিচার হিসেবে সিলেক্ট করা হয়নি।

গল্পের পেছনের গল্পঃ
প্রাইভেট চাকরির একেবারে শুরুর দিকে আমি এক কলিগকে পেয়েছিলাম। সরল-সোজা। ভালো মানুষ। কাজও অনেক ভালো বোঝে। কিন্তু সরল-সোজা হওয়ায় স্যারদের কাছে নিজের কাজ ভালোভাবে বুঝাতে পারতেন না। ফলাফল, ক্যারিয়ারে কাঙ্ক্ষিত গ্রোথ হচ্ছিল না।

হঠাৎ করে একদিন শুনি, ওই ভদ্রলোক চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

মনটাই খারাপ হয়ে গেল।

ওনার রিপ্লেসে যে ভদ্রলোক জয়েন করেছেন, লোকমুখে শুনলাম, তিনি সেই লেভেলের ত্যাঁদড়, ফাঁকিবাজ, চাপাবাজ।

নতুন ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই তার সম্পর্কে আমার মাথায় অনেক নেগেটিভিটি ঢুকে গেল।

ভদ্রলোকের সাথে যেদিন প্রথম দেখা হলো,
অবাক কান্ড, প্রথম দর্শনেই তার বাকপটুতায় আমি মুগ্ধ।

আমার অবজারভেশন হচ্ছে, প্রাইভেট সেক্টরে আসলে এই ভদ্রলোকের মত মানুষই দরকার।

ভদ্রলোক হয়তোবা আমার আগের কলিগের চেয়ে একটু কম জানে, কিন্তু এতটুকু জানে যে ম্যানেজমেন্ট কী চায়— এবং সেই অনুযায়ী কাজও করে। অনেক সময় উনি হয়তোবা ফাকিবাজিও করতে পারে কিন্তু ফাকিবাজি কিভাবে ট্যাকেল দিবে সেটাও জানে।

অনেক বেশি জানে, ভালো মানুষ, কিন্তু এক্সিকিউশন ভালো না -বলদ, এমন লোক দিয়ে আসলে প্রাইভেট সেক্টরে কোন কাজই হয়না?

প্রাইভেট সেক্টর রোলার কোস্টার রাইড। অসাধারণ। প্রতিদিন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসে, চ্যালেঞ্জ শেষে পুরস্কার থাকে, তিরস্কারও থাকে। কিন্তু দিন শেষে একটা এডভেঞ্চার-এডভেঞ্চার ফিল পাওয়া যায়।

গত প্রায় এক যুগের প্রাইভেট চাকরিতে, আমি যেমন ভালো মানুষ দেখেছি, সরল সোজা মানুষ দেখেছি, তেমনি দেখেছি বলদ, বাটপার, ইতর রগচটা কিংবা বাই*ঞ্চোদ টাইপের ত্যাঁদড় মানুষ।

গল্পটা লেখা শেষে মাথায় এখন একটা প্রশ্ন ঘুরতেছে।
চাকরি জীবনে আমি নিজে কেমন মানুষ?
সরল-সোজা?
নাকি, বাই*ঞ্চোদ টাইপের ত্যাঁদড়?
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্ত-গায়েব-গুম এবং পিওর ও শিওর লাভ

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬


৭ মাসে বাংলাদেশে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ !!!
এমন রোমহর্ষক, চমকে যাওয়া এবং অন্তরে কাপুনি ধরানোর মতো তথ্য বা কথা বার্তার কোনও মানে হয় ??!!
গরীব পরিবারের শিশুদের কথা বাদ দেই-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×