somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টাই চাই

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র আত্মহত্যাপ্রবণতা রোধকল্পে।" ব্যাস, এইটুকুই। কোনো বর্ণণা নেই, আগেপরে কোনো গবেষণা নেই, শুধু একটা সত্য প্রকাশ্যে স্বীকৃত হলো যা সবাই জানত অথচ কেউ বলত না, বা বললেও অন্যরা শুনতো না, এমনকি যে এইকথা আগে বলেছে এবং পরেও বলবে, সেও না, তাকে বললেও সে শুনতো না।

এদিকে করিম সাহেব গুলশানের অফিসে ঢোকার মুখে গেটে দাঁড়ানো নিরাপত্তারক্ষী তার কোমর থেকে বেল্টটা কেড়ে নিল, যেমন বিমানবন্দরে জুতা খোলানো হয়। "স্যার, প্যান্ট সামলাইয়া ভিতরে যান।" করিম সাহেব হাত দিয়ে কোমর চেপে ধরে লিফটের দিকে হাঁটলেন। করিম সাহেবের সহকর্মী রহিম সাহেবের গলায় টাই নেই বলে শার্টের কলার এমনভাবে উড়ছে যেন, যা এতদিন এই কলারের আড়ালেই লুকিয়ে থাকত, কারণ টাই যে জিনিসটা আসলে লুকাত, সেটা লজ্জা না, সেই প্রায়দিনই অফিসের শেষে নারী সহযোগীর সাথে মালদ্বীপ যাওয়ার প্রস্তুতিপর্ব বা প্রতিশ্রুতিপর্বের বেহায়াপনাগুলো আজকে সবাই দেখতে পাচ্ছে ।

সেদিকে কোর্টকাচারিতে বিচারক সাহেব এজলাসে বসলে একদা যে কালো গাউনের নিচে টাই শোভা পেত, সেখানে এখন একটা ঢিলা রুমাল অথবা ফিলিস্তিনী গামছা কী একটা যেন ঝুলছে, তা সংহতি প্রকাশের অভিপ্রায়ে, নাকি নেহাত ফ্যাশনের খাতিরে, তা বিচারক সাহেব নিজেও ভালো বলতে পারবেন না, কারণ ন্যায়বিচার আর নিজের ভাবমূর্তির মধ্যে পার্থক্যটা তিনি অনেকদিন ধরেই ভুলে বসে আছেন; তাকে দেখতে অনেকটা জাঁদরেল জল্লাদের বদলে যেন কুইচ্চা মুরগীর কসাইয়ের মতো। কষে গামছা বেঁধে আসা আসামীপক্ষের উকিল যুক্তি দিলেন, "মাননীয় আদালত, আমার মক্কেল নির্দোষ, কারণ তার কোমরে বেল্ট থাকলে তিনি নিজেকেই ফাঁসি দিতেন, অন্যকে খুন করার সময় কোথায়।" বিচারক মাথা নাড়লেন, যুক্তিটা মন্দ না।

ওদিকে সচিবালয় পাড়ায় করিডোরে একজন সিনিয়র সচিব হেঁটে যাচ্ছিলেন, যার প্যান্ট প্রতি পাঁচ কদমে ছয় ইঞ্চি নেমে যাচ্ছিল। উনার পেছনে হাঁটতে থাকা সহকারী একহাতে ফাইল আর অন্যহাতে স্যারের কোমর সামলাচ্ছিলেন নিজেরটার তোয়াক্কা না করেই। তাকে দেখে মনে হতে পারে যে, এদেশে রাষ্ট্রযন্ত্র ও জনজীবন আসলে এভাবেই চলে—এক হাতে দলিলনথি সামলানো, আরেক হাতে খসে পড়া থেকে রক্ষার প্রয়াস।

সন্ধ্যায় টিভিতে এক টকশো বিশেষজ্ঞ বললেন, "টাই-বেল্ট নিষিদ্ধ করে আমরা আসলে উপসর্গ সারাচ্ছি, রোগ না।" উপস্থাপক জিজ্ঞেস করলেন, "তাহলে রোগটা কী?" বিশেষজ্ঞ চুপ করে রইলেন অনেকক্ষণ, তারপর বললেন, "চাকরি।"

পরদিন থেকে চাকরি নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলো, কিন্তু সেনাপতিকে লাথি মারতে চাওয়া আন্দোলনকারী গণপতিরা টাই-বেল্ট ছাড়া মিছিলে দাঁড়িয়ে বুঝলো যে, হাতে প্ল্যাকার্ড ধরলে প্যান্ট সামলাবে কে! আন্দোলনও তাই আর বেশিদূর গড়াল না। রাষ্ট্র নিশ্চিন্ত, ভাগাড় যথারীতি অক্ষত।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:০৮
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাকে দিয়ে সেলস হবে না

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৫৫

আমাকে বাংলাদেশের এক ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি তাদের সেলসে সহায়তা করার অনুরোধ করেছে। কোম্পানি ভালো, বাজে কোন রেকর্ড নেই। আমার কাজ হচ্ছে, আমার পরিচিত মানুষদের সাথে তাদের মার্কেটিং টিমের যোগাযোগ করায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×