somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুষারকন্যার গ্রীষ্মদেশে এক একটা দিন.........২৭তম পর্ব

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৫:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুরোনো দিনের কথা, যা কেবলই পেছন থেকে টেনে ধরে। আবার তারাই যেন চালিকা শক্তি সম্মুখে এগোবার......হয়তো সেকারনেই আনন্দ থেমে আছে এক জায়গায়।



লেখাপড়া কিংবা চাকুরী চলাকালীন সময়ে অনেক বাধা পার হতে গিয়ে আনন্দ শিখেছে অনেক কিছু। হারিয়েছি কি তা সে জানে না, জানতে চায়ওনা। কিন্তু পেয়েছে অনেক কিছু। এটাই ওর ভালো কিংবা মন্দ দিক। হিসাবের খাতাটাতে কেবল পাওয়ার হিসাব, না পাওয়ার হিসাবটা করেনা বলেই, উচ্চাকাক্ষা আনন্দের মাঝে কাজ করেনা কোনদিন।যা পেয়েছে তাতেই খুশি, সন্তুষ্ট। অনেক বেশি পাবার আশা করতে সে চায়না।

মাঝে মাঝে আনন্দের মনে হয়, কোনদিন হয়তো জানতও না এতো কিছু ছিল আনন্দের চারপাশটায়, যদিনা নিজের শহর-বাড়ি-পরিবার থেকে দুরে আসার সুযোগ হতো। আনন্দ বাড়ি থেকে বের হয়েছিল বহুদিন আগে। আন্ডারগ্রেড করতে হয়েছিল, নিজের শহর থেকে ভিন্ন একটা শহরে। সেই থেকে হোষ্টেল জীবনের শুরু আর আনন্দের অচেনা, একলা পথ চলার শুরু।

যেদিন প্রথম হোষ্টেলে যাবার কথা ছিল, তার আগের রাতে আনন্দের মা আনন্দকে অনেক কথা বলেছিলেন।এমন কথা কোনদিন তিনি বলেননি এর আগে।তাই হয়তো আজো কানে বাজে কথাগুলো।

**************************************************

আজ থেকে প্রায় পনের বছরেরও বেশি সময় আগের কথা।তখন বাসার সবাই ঘুমিয়ে পরেছিল, কেবল বড় ভাই কম্পিউটারে কাজ করছিল।কোন একটা কারনে মায়ের ঘরে গিয়েছিলাম। দেখি মা, বিছানার পাশের চেয়ারটায় চুপচাপ বসা। হঠাৎ করেই বললেন অনেক কথা, যেন জমেছিল কথাগুলো ।

এখনো মনে পরে। মায়ের বক্তব্যের মূল কথা ছিল- "আমার আগামীর দিন গুলো নিয়ে, একবারের জন্যও তিনি অতীতকে টানেননি, আমার সেদিনকার পরিনতির জন্য"

আমার পরিবারে আমিই ছিলাম একমাত্র, যার লেখাপড়ার ফলাফল ভালো না হওয়ার কারনে সবাইকে অনেক বেশি সমস্যায় পরতে হয়েছে। তবু আমার মা সেটা বলেননি একটি বারের জন্যও। বললেন অনেক কথা খুব গোছানো ভাবে। যার মূল ছিল- হোষ্টেলের জন্য, আমার এই বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়াই শেষ, আমার কোনদিনই ফেরা হবেনা এই পরিবারে । আর এখন থেকে আমার নিজের একটা নিজস্ব জগৎ হবে, যেখানে যেকোন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমার নিজেকেই, পরিবারের অনুমতি নেবারও হয়তো সুযোগ থাকবেনা,। আর পরিবার থেকে দুরে থাকার কারনে হয়তো অনেক জবাবদিহিতা থাকবেনা, অনেক স্বাধীনতা থাকবে তবে যেকোন ঘটনার ফলাফলেরন দায়িত্বভারও আমারই, আমার নিজের ভাগ্য সেদিন থেকে আমার নিজে হাতে গড়া, তাই এর সব দায় হবে আমার।

সেকারনেই সেদিন থেকে আমি স্বাধীন, কিন্তু দায়িত্বের সাথে সেই স্বাধীনতা উপভোগ করার যে আদেশ আমার মা দিয়ে ছিলেন তা আমার পিছু ছাড়ে না। দেশ-বিদেশ হাজার শহর, বন্দর ঘুরে বেড়িয়ে আজো তাই আমি কেবলই নিষ্ঠার সাথে দায়িত্বপালনের চেষ্টায় তৎপর। ভয় হয় কেবল নিজের মনটাকে নিয়ে, সব চিন্তার শেষেও যে সে কেবলই বাঁধ ভাঙ্গতে চায়, কিন্তু পারেনা দায়িত্ব এড়াতে ।

**************************************************
এ্যলেন চলে গেল। বহু দুর। হয়তো আর কোনদিন দেখা হবেনা। একটা ছোট্ট চিঠি আর অল্প সময়ের কিছু কথা, কিছু সময়ের জন্য পথচলা। ছোট্ট একটা রেস্টুরেন্টে বসে দুকাপ চা সাথে কিছু স্নেকস্‌ শেষ হতে যে সময়টুকু লাগে তাই হয়তো শেষবারের মতো দেখা হবার স্মৃতি হয়ে থাকবে।

ওল্ডসিটিতে জেটির কাছে, ওর সাথে দেখা হয়েছিল। দিনের শেষে শহরের মানুষগুলোর মাঝে ছিল ঘরে ফেরার ব্যস্ততা। আর আমার? দায়িত্বের সাথে স্বাধীনতাকে অপঃব্যবহার না করে, মাকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সদা ব্যস্ত এক সন্তানের তৎপরতা ছিল কেবল ঘরে ফিরবার । যেখানে নিজের ইচ্ছা, আবেগ, ভালোলাগার চাইতেও অন্য অনেক কিছুর গুরুত্ব বেশি।

ভালো থেকো বন্ধু। ভালো থেকো







সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ২:৩৭
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরাও পারবো.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১৩

আমরাও পারবো.....

ইদানিং সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন এক জোশ উঠেছে-
“বাংলাদেশকেও ইরান, পাকিস্তান বা উত্তর কোরিয়ার মতো সামরিক শক্তিধর হতে হবে- তাহলে আমাদের দিকে কেউ চোখ রাংগাতে পারবে না!”
শুনতে দারুণ লাগে। বুকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্য পশ্চিম দিকে উঠে:)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:২০


আমাদের দেশে রাজনীতিতে নেতা যাই বলে তার কর্মীরা সেটাকে সঠিক মনে করে। সেটা নিয়ে দ্বিমত করে না। এখন ধরুন নেতা মুখ ফসকে বলে ফেলেছে “সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠে।” তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডেঙ্গু আবার ধেয়ে আসছে তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি সমন্বিত কার্যক্রম রূপকল্প

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪১


লেখাটির উপক্রমনিকা
মাস কয়েক আগে সামুর পাতায় ব্লগার কলা বাগান ১ এর একটি গুরুত্বপুর্ণ লেখা প্রকাশিত হয়েছে । লেখাটিতে থাকা মুল কথাগুলি ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টি বিলাস - ০১

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৪ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:০৪



তখন কলেজে পড়ি, তেজগাঁও কলেজ। আমরা বলতাম গোয়াল ঘর। সেই হিসেবে আমাকে গোয়াল ঘরের প্রাণী বলা চলে।

তো একদিন গোয়াল ঘরে যাওয়ার জন্য বাসা (উত্তর বাড্ডা) থেকে বেরিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমোশনাল মাশরাফি?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ১৪ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:০১

একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটে “নড়াইল এক্সপ্রেস” ছিল এক আবেগের নাম। মাঠে আগুনঝরা স্পেল, ভাঙা হাঁটু নিয়েও লড়ে যাওয়া এক যোদ্ধা, আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান এক কণ্ঠ। মানুষ বিশ্বাস করতো— এই মানুষটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×