আমাদের বোধের জায়গা গুলো কি ধীরে ধীরে ভোতা হয়ে যাছে না আমরা একেবারেই অনুভূতি শূণ্য হয়ে পড়েছি? প্রতিদিনের নির্লজ্জ অভ্যস্ততায় কোনো দহনেও কি পুড়ে না আমাদের হৃদয়,শত আঘাতেও কি হয় না কোনো অনুরণণ…সত্যিই কি,কী জানি?গত ২ রা সেপ্টেম্বর তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ সহ যে নেতারা আহত হয়েছেন তার প্রতিবাদে তবে কেনো সারা দেশ গর্জে উঠছে না!পুলিশের নির্বিচার লাঠির বাড়ি,ন্যক্কারজনক হামলা,নেতাদের আহত করা……অথচ কি নির্বিকার আমাদের সরকার,কি নিরাসক্ত আমাদের তথাকথিত সুশিল সমাজ!!
কিসের জন্যে এই বিক্ষোভ মিছিল,কিসের জন্যে এই সোচ্চার প্রতিবাদ? নিজের জন্যে? নিজের দলের জন্যে? কোনো স্বার্থসিদ্ধির জন্যে? কোনো উপায়ে টু পাইস কামানোর জন্যে?না, এরা কেউ লকলকে জিহবা নিয়ে কোনো লাভের গুড় খেতে আসেনি, সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রেও লিপ্ত হয়নি।এরা মিছিল করেছিল নিজের দেশের জন্যে,নিজের মাতৃভূমির জন্যে,নিজের দেশের অমূল্য তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষার জন্যে। অথচ ‘স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি’ নামধারী বর্তমান সরকার দেশের সম্পদ-বন্দর-স্বাধীনতা কি অনায়াসে বিদেশী বেনিয়াদের কাছে বিকিয়ে দিচ্ছে!!জনগণের বিশ্বাসের কি নির্মম প্রতিদান!!সেই কথাটাই এখন মনে পড়ে গেল ‘একবার রাজাকার তো আজীবন রাজাকার,কিন্তু একবার মুক্তিযোদ্ধা মানে আজীবন মুক্তিযোদ্ধা নয়’।গণতন্ত্রের বুলি আওড়ানো তথাকথিত গণতান্ত্রিক দলটি দেশপ্রেমের অগ্নিপরীক্ষায় পাশ মার্কও তুলতে পারল না-অবশ্য এটাই এই দলের শ্রেণীগত চরিত্র।আর তাদের পক্ষের দেশ উদ্ধারকারী দালাল বুদ্ধিজীবীরা(নাকি কুবুদ্ধি-)এখন মুখে কুলুপ এটেছে,তারা এখন উপভোগ করছে হিরন্ময় নিরবতা। বাহ,বাহ । আমদের আওয়ামী প্রিয় বামপন্থীদের সরকারী এই আতিথেয়তা মনে থাকবে তো!ওদিকে বিএনপি-জামাত জোটের কথা না বলাই ভালো। চোর-ছ্যাচ্চোর আর চিন্হিত দেশদ্রোহীদের কাছে কি আর আশা করা যায়? ক্ষমতায় থাকলে তারাও একই রূপ দেখাত নিশ্চিতভাবে। শুধু এইটুকু বলতে চাই, বাঁধা দিয়ে-পিটিয়ে-ভয় দেখিয়ে দেশের জন্য এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, এই আবেগী মিছিল থামানো যাবে না,দমানো যাবে না। আনু স্যার সহ সকল জাতীয় বীরদের উদ্যেশ্যে নাজিম হিকমত এর কবিতার কিছু লাইন…
‘তোমার বীভৎস হাত দুটো ক্ষতের উপর চাপা
যতক্ষণ না ফিনকি দিয়ে রক্ত ছোটে
দাঁত দিয়ে ঠোঁট দুটো কামড়ে ধরে
দারুন যন্ত্রণা সহ্য করো।
……………
লড়াইতে প্রাণ দিচ্ছে আমাদের লোকগুলো
অথচ বাচঁবার কথা তো তাদেরই-
আমাদের লোকগুলো মরছে কাতারে কাতারে
যেনো গলায় গান,হাতে নিশান নিয়ে
ছুটির দিনে তারা বেরিয়েছে মিছিলে
কী অল্প বয়স
কিন্তু কী বুকের পাটা!
………………
রক্তের নদী উজিয়ে আমাদের নিশানা
দাঁত আর নখ দিয়ে ছিনিয়ে নিতে হবে জয়-
কিছুই আমরা ক্ষমা করব না।।’

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


