রসু খাঁ- বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত,সমালোচিত এবং কুখ্যাত একটি নাম, তেমনি ‘সিরিয়াল কিলার’ শব্দ যুগলটিও আমাদের দেশে অন্তত নতুন।পশ্চিমা বিশ্বের এই বিশেষ ‘গুন’টিও আমরা অবশেষে অর্জন করলাম- সাবাশ!সাবাশ! পত্রিকা-ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া-চায়ের টেবিল সবখানে রসু খাঁ-ই এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। প্রতিদিনই তার নৃশংসতার বিভৎস সব কাহিনী বেরুচ্ছে আর আমরা আতংকে শিহরিত হচ্ছি। তার সব শিকারই নারী এবং হত্যার ধরণও একই- ধর্ষণ,শেষে খুন। সমাজবিজ্ঞানী- মনোবিজ্ঞানীরা এই মনোবৈকল্যের ব্যাখ্যা দিতে দিতে মুখে ফেনা তুলে ফেলছে,সাংবাদিকেরা খবরের ভেতরের খবর সংগ্রহ করতে চাদঁপুরের বিলে বিলে ঘুরে বেরাচ্ছে। এই নৃশংসতার বিচার চাইছে সবাই,আমিও চাই। তবে প্রশ্ন হলো, রসু খাঁ কি একজনই এই সমাজে ?
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সেঞ্চুরিয়ান মানিক,রিমা-পূর্ণিমা-সুতপারা অগোচরে প্রাণ দিয়ে প্রমাণ করে যাচ্ছে উদ্দেশ্য যাই হোক,বিধেয় একটাই- নারীর অবমাননা।কেউ করছে ভয়ংকর কোনো উপায়ে,কেউ লোকচক্ষুর অন্তরালে।‘বাংলাদেশ ডেমগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে ২০০৭’ বলছে, বাংলাদেশের ৬০% স্বামীই স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। ঘরে-বাইরে-কর্মক্ষেত্রে কোথাও নারী নিরাপদ নয়। মোবাইল ফোন,ইন্টারনেট,গোপন ভিডিও সব খানে টার্গেট একটাই -নারীর শরীর। না্রীকে রঙ মেখে সং সাজাও,আর ফর্সা করে তোলো,আরও সুন্দর করে তোলো দেহে-গড়নে-চলনে,তবে মননে নয় অবশ্যই। অতএব,খুন-নির্যাতন চলবেই এবং পুরুষের হাতে।
এর সাথে রাষ্ট্র যে নিজেই কখন রসু খাঁ হয়ে উঠেছে সেটা যেনো বেখেয়ালেই থেকে গেছে সবার। সিরিয়াল কিলিং চলছে এখন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়।একই সাজানো কাহিনী-একই ক্লাইমেক্স-একই উপসংহার।লাশের মিছিল বাড়ছেই।তথাকথিত নির্বাচনী ওয়াদা ভুলে সরকারের মন্ত্রীরা পর্যন্ত এখন ক্রসফায়ারের পক্ষে সাফাই গাইছে।মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে,২০০৪ সাল থেকে ২০০৭ সালের মে পর্যন্ত বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ড হয়েছে ১২৫২ জনের,আর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ৫৫৮ জনের কথা।
পরিশেষে একটি সংবাদ এবং একটি জিজ্ঞাস্য ।সংবাদটি হলো, ভয়ংকর খুনী রসুঁ খা-র একটাই মিনতি,তাকে যেন ক্রসফায়ারে দেওয়া না হয়,প্রচলিত আইনেই যেন তার বিচার হয়। আর জিজ্ঞাস্যটি হলো,তবে কে বেশী ভয়ংকর খুনী- রাষ্ট্র না ব্যক্তি??

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


