Pk সিনেমাটা দেখেছেন?? হিন্দু ধর্মকে ধুয়ে একেবারে সাফা করে দিয়েছে। সেই তুলনায় মুসলিম ধর্মকে স্পর্শ করেনি ঠিক মত। জানেন কাশ্মীরের মানুষের দৈনিন্দন পারিবারিক আলাপে কি থাকে??? থাকে সেখানের অনিরাপদ জীবন আর ভারতীয় সেনাবাহিনীদের অত্যাচারের বিলাপ। জানেন ইজ্রাইলের বুদ্ধিজীবীরা কি নিয়ে আলাপ করে??? তারা গাজায় ইজ্রাইল সেনা দ্বারা মানুষ হত্যার প্রতীবাদ করে। জানেন রোমের নাস্তিকরা কি করে??? তারা খ্রিষ্টান ধর্মকে তুলোধুনা করে। জানেন আফগানী নারীরা কি পেতে উন্মুখ হয়ে থাকে?? একটু স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাওয়ার জন্য।
এখন যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয়, কেন কাশ্মীরের মানুষ খ্রিষ্টান ধর্মের সমালোচনা করে না? কেন রোমের নাস্তিকরা কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাদের সমালোচনা করে না?? কেন পিকে সিনেমায় ইহুদী ধর্মের সমালোচনা করা হল না??? তবে আপনি কি জবাব দিবেন??
*
মানুষ আসলে কোন বিষয় নিয়ে কথা বলে??? মানুষ সেই বিষয় নিয়েই কথা বলে যেটা সে বিলং করে। যেটা তার সমস্যা। যেটা তাকে কষ্ট দেয়। ভারতের মত হিন্দু প্রধান দেশে হিন্দু ধর্মের বাড়াবাড়ি ধরনের নিয়ম গুলো ভারতের মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তাই ভারতে পিকে নির্মাণ করা হয়েছে। পাকিস্তানের সমাজে ইসলাম ধর্মের বাড়াবাড়ির কারনে জন্ম নিয়েছে সালমান রুশদী। তেমন করে বাংলাদেশের নারীর প্রতি ধর্মের বৈষম্যের জবাব হিসেবে জন্ম নিয়েছে তসলিমা নাসরিন।
যে দেশের যেটা সমস্যা, সেখানকার এক্টিভিস্টরা সেই বিষয় নিয়েই কথা বলবে এটাই নিয়ম। বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ। এখানের সমস্যা গুলোও ইসলাম কেন্দ্রিক। তাই এখানের ব্লগারদের লেখা, শিল্প, সমালোচনা, জ্ঞান গুলো ইসলামকে ঘিরেই হবে। যেমন ইজ্রাইলের জ্ঞান গুলো ইহুদী ধর্ম কেন্দ্রিক।
*
বিষয়টা কি ক্লিয়ার কেন বাংলাদেশের ব্লগাররা শুধু ইসলামেরই সমালোচনা করে??? ভাই আমরা তো ব্যাবসা করতে আসিনি যে দাঁড়িপাল্লায় বাটখারা বসিয়ে মেপে মেপে দুইদিকে ব্যালেন্স করব। এগুলো রাজনীতিবিদদের কাজ, আমাদের না। আমার যারা লিখতে ভালোবাসি তারা অসঙ্গতি দেখলেই লিখি। আমাদের নিকট হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান,জেইন কোন কিছুই ইস্যু না। ইস্যু হল সমস্যা ও তার উৎপত্তিস্থল এবং সমাধান। এর মাঝে হিন্দু মুসলিম খোঁজা আপনাদের মত নাদানদের কাজ। আপনারা একজন মুসলিম হত্যা হয়েছে বলে একজন হিন্দু হত্যা করে সমতা বিধান করেন।
মায়ানমারে মুসলিম মরছে চল আমরা বৌদ্ধ মারি। এটা আপনাদের ইকুয়েশন। আমাদের ইকুয়েশন আমরা কোন হত্যার পক্ষেই না। মানুষ তার আপন স্বাধীনতা নিয়ে বেঁচে থাকুক।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


