ছোট বেলায় স্কুলের বইতে একটা গল্প পড়েছিলাম। একজন কৃষকের ৩ ছেলে খালি মারামারি করে। একদিন কৃষক বিরক্ত হয়ে তিন জনকে ডেকে তিনিটি লাঠি দিয়ে ভাংতে বলে। তিনজনই কৃতিত্বের সাথে লাঠি ভাঙা পরীক্ষায় পাস করল। এবার কৃষক আরও তিনটি লাঠি বান্ডেল করে বেঁধে ভাংতে দিলেন। এবার অনেক পরিশ্রম করার পরেও তিনজনের কেউই ভাংতে সমর্থ হল না। ইউনিটি শব্দটার মর্মার্থ এমনই।
-
গত এক বছররে এতগুলি ব্লগার খুন হয়ে গেল। কিন্তু সরকারের কোন হেলদোল নাই। যদি প্রশ্ন করি কারণ কি??
লক্ষ্য করে দেখেছেন কি, একটা খুন হওয়ার পরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ খুনিদের মধ্য থেকে সেই খুনের সমর্থন জানিয়ে খ্যামটা নিত্য শুরু হয়। বাংলাদেশের ৮০% মানুষ এই খুনের পক্ষে। এবং সেটা বলতে তারা কোন দ্বিধা করে না। কিন্তু যদি প্রশ্ন হয় যে সম মতাদর্শের আমরা কতজন প্রতীবাদ করেছি??? কি উত্তর দেবেন??
গত দুইদিনে আমি ইনবক্সে প্রচুর ম্যাসেজ পেয়েছি। তার মাঝে গালিগালাজ গুলো বাদ দিলে বাহবা দেওয়া ম্যাসেজের সংখ্যাও কিন্তু কম না। কিন্তু আমার লেখা গুলোর কমেন্ট বক্সে একটু চোখ বুলিয়ে আসুন। সেখানে খুনিরা যতোটা সংঘবদ্ধ সেই তুমুনায় আমরা কিন্তু সংঘবদ্ধ না। একটি লেখা পোস্ট হবার পরে তাদের পক্ষ থেকে যত প্রকারের গালি আর নোংরা ভাষা ব্যবহার করা হয় সেটা নিশ্চয়ই আপনাদের অজানা না। কিন্তু আপনারা যারা ইনবক্সে সহানুভূতি দেখানো ওয়ালারা তারা কিন্তু ঐ সকল কমেন্টের পাল্টা কমেন্ট হিসেবে কোন উত্তর করেন না। কারণ কি??? সুশীলতা??
আপনি আমি যতদিন সংঘবদ্ধ হতে না পারবো ততদিন এই খুনের বিচার হবে না। খুনের বিচার নির্ভর করছে ভোট ব্যাংকের উপরে। যেদিন আমি আপনি সংঘবদ্ধ হয়ে ভোট ব্যাংকের হিসাব উল্টে দিতে পারবো সেদিনই খুনের বিচার হবে। সরকার খুনের বিচার করে না, এর কারণ হল খুনের বিচার হলে সরকারের ভোটে কম পড়ে যাবে।
-
ঘুম থেকে উঠেই ইনবক্স খুলে দেখি আমাকে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। গতকাল আমাকে একজন বলেছিল- "পাবলিসিটি আর কত করবেন?? আপনি এমন কি বা ছিঁড়েছেন যে আপনাকে খুন করে হাত নোংরা করতে যাবে??"
হ্যা আমি কিছুই ছিড়িনি। যারা ছিঁড়েছে আমি তাদের সমর্থক । তাদের মৃত্যু আমাকে কষ্ট দেয়। আমি সেই কষ্টের কথাটা বেমালুম চেপে যেতে পারিনা বলেই মুখ ফুটে বলে ফেলি। আমি মানুষ হওয়ার চেষ্টা করছি। এগুলোই আমার অপরাধ।
আজ আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকি যে দেওয়া হবে এটা বহু আগে থেকেই জানতাম। আজ হুমকি এল, কাল হয়তো চাপাতি আসবে। এটাকেই নিয়তি ধরে নিয়েছি। কাল যদি সত্যি সত্যিই চাপাতি কোপে খতবিক্ষত হই তা হলে তিন ধরনের বক্তব্য হবে।
১। ও নাস্তিক ছিল। ওকে মারাটা ফরজ কাজ। (যদিও আমি ঘোরতর আস্তিক)। ও আল্লাহ্ রাসুল নিয়ে গালিগালাজ করেছে। ও হিন্দু ছিল। ও আল্লাহকে গালি দিয়ে চোটি বই বের করেছে। আমেরিকা টাকা দিয়ে সেই বই ছাপিয়ে দুনিয়া ছড়িয়ে দিয়েছে। ও হিন্দুদের (ভারতের) দালাল ছিল। এই জন্যই ভারত সরকার ওরে টাকা দিয়ে পেলে পুষে রাখছিল। যদিও আমার পড়ালেখার টাকা আসে আমার পরিবারের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম থেকে। মানুষ বিনা বিচারেই এই সব মিথ্যা বিশ্বাস করে খুনের সমর্থন জানাবে।
২। আহারে!! একজন মেধাবী ব্লগার খুন হল। ও অনেক ভালো লেখত। বেঁচে থাকলে আরও ভালো লেখা আমরা ওর কাছ থেকে পেতাম। ও ভালো সিনেমা বানাবে বলে বলেছিল। ভালো থাকিস আননন্দ। আমরা তোকে বাঁচাতে পারলাম না।
৩। আনন্দ কুটুম?? এই পোলাটা আবার কে???
-
এর পরে আবার বেমালুম সব সমান। সবাই সবার স্বার্থের ঘলাজলে মুখ লুকিয়ে বসে থাকবো। খুনি তার চাপাতিটা আবার ধার দেওয়া শুরু করবে পরবর্তী টার্গেটের জন্য। তাই অনুরধ করছি সবাইকে প্রতীবাদের আওয়াজটা তুলে ধরুন। অন্যথায় একটার পর একটা মেধা শুধু হারাতেই থাকবে আর আমাদের সামাজিক যোগাযোগের পাতাটা অর্থহীন কথায় দীর্ঘ হতে থাকবে।
আমি খুন হবার জন্য টাইম কাউন্ট করা শুরু করলাম। যদি সত্যিই কন্দিন সেই দিনটি সামনে এসে হাজির হয় তবে তার জন্য আমি কোন ধার্মিকে ব্লেম করব না। কারণ সে তো খুন করবে বলে প্রতিজ্ঞাই করেছে। কিন্তু আমাকে বাঁচানো যাদের দায়িত্ব ছিল, তারা কিন্তু মুখে কুলুপ এঁটে বসে ছিল। দ্যাটস ইট !!!


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

