
কারাগারে খলিফা ওসমান ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ার পর দাউদ পাশা ও আরো তিনজন খলিফা কে বন্ধবের মতো জাগিয়ে তোলে। তারপর ওসমানের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে তারা।খলিফা যথেষ্ট শক্তিশালী ছিলেন। তাই খলিফা ওসমান বীরত্বের সাথে লড়তে থাকে তাদের সাথে।তারপর যুদ্ধের এক পর্যায়ে কুঠার দিয়ে আঘাত করা হলে শহীদ হয়ে যান খলিফা।এরপর ওসমানের একটি কান কেটে সুলতানা ভালিদেকে দেখানো হয়।সেদিনই সন্ধ্যায় সমাহিত করা হয় খলিফা কে( আল্লাহ্ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করুন)। রো'র ভাষ্যমতে, “প্রথম খলিফা যার ওপরে তারা হাত তুলেছিল; একটি দুর্ভাগ্যের চিহ্ন, যা তাদের পতন ডেকে আনে ।”
ওসমানকে হত্যা করার পরপরই জানিসারিস ও সিপাহিরা নিজেদের কৃতকর্মেরজন্য অনুশোচনায় ভুগতে থাকে। অযৌক্তিকভাবে যতটা দ্রুত উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল সবাই; সেরকমই যত্নের সাথে মৃত খলিফার জন্য অনুতাপ শুরু করে সবাই। প্রাথমিক জনরোষ স্তিমিত হওয়ার পরপরই অপদাৰ্থ খলুফার অধীনে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবার মনে শঙ্কা জাগে। ধীরে ধীরে সত্য উন্মোচিত হয় ও মুস্তাফা ওসমানের হত্যাকারীদের শাস্তির আদেশ দেন তিনি। কিন্তু তারপরই পাগলামীর বশে ওসমানের মৃত্যুর কথা ভুলে গিয়ে প্রাসাদের দ্বারে দ্বারে তাকে খুঁজতে থাকেন মুস্তাফা। রাজত্বে শাসনের ভার থেকে মুক্তি কামনা করলেও পনেরো মাস পর্যন্ত সুলতান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।অরাজকতা এতই বেড়ে যায় রাজ্যজুড়ে যে স্যার থমাস রো’র বাণী কাকতালীয় ভাবে সত্য হয়ে যায়ঃ “এর বেশি আমি কিছুই বলতে পারি না যে অসুস্থতা সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরে এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে ধ্বংস অনিবার্য। প্রতিদিন।আমরা পরিবর্তনের আশা করছি। জ্ঞানীরা জাহাজের হাল ধরতে প্রত্যাখ্যান করছে। আর বোকার দল সবাইকে নিয়ে যাচ্ছে পাথুরে রাস্তাতে। যদিও বা কোনো সমর্থ ব্যক্তি এর সুযোগ নিতে চায়; এর থেকে সহজ শিকার আর হয়।ফলে সরকারের কার্যকর হাত হিসেবে সক্রিয় হয়ে ওঠে একজন নারী সুলতানা ভালিদে। রাজকর্মচারীরা এ ব্যাপারে মতবিভক্ত থাকলেও পুত্রের সিংহাসনের চালক হয়ে উঠেন এই নারী। দুর্নীতির ক্ষেত্রে দাপ্তরিক পদসমূহ হয়ে ওঠেহাতের পুতুল।উপহার ও ঘুষ এই দুই শ্রেণীর অর্থ প্রদানের মাধ্যমে ক্রয় হতে থাকে কর্মপদ। মন্ত্রিপরিষদের সাথে ঘুষের মাধ্যমে পদোন্নতির ধুম পড়ে যায়। জানিসারিস ও সিপাহি উভয়ের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পায়।পাশা ওসমানের নামে সৈন্যরা হত্যাকারিদের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য দেয়। ফলে একের পর এক প্ৰধান উতির পরিবর্তন হতে থাকে।
দায়ুদ পাশার পরে আসেন হুসেন পাশা। পাচক হিসেবে জীবন শুরু করা হুসেন পরবর্তীতে মিশরের গভর্নর হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করে।হুসেন পাশা দুবারের প্রতিবারেই সিপাহিদের বিরুদ্ধে জানিসারিসদের ব্যবহার করে।জানিসারিসদেরকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা জানানোর অর্থে রেশন দিত । অবশেষে একদিন সুলতানের স্টোর খুলে ধরে জানিসারিসদের সামনে।ইচ্ছেমতো মাংস, মোমবাতি নেয়ার সুযোগ দেয়া হয় তাদেরকে। অন্যদিকে এর বিরুদ্ধে সিপাহিরা বিদ্রোহ করে যে সেরাগলিওতে সব স্বর্ণ ও রৌপ্যের জলযান গলিয়ে ফেলেছে। ইস্তাম্বুলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অবিরাম লুণ্ঠন,হত্যা, গৃহে আগুন দেয়া। যেন বা শহরটি কোনো বিদেশি শক্তি অবরোধ করেছে।এরপর জানিসারিস ও সিপাহিরা একত্রে সুলতানা ও হুসেনের বিপক্ষে শোর তুললে জনসমক্ষে জিজ্ঞেস করা হয় কাকে জনগণ প্রধান উজির হিসেবে চায়। এতে একমত না হলে সুলতানের নার্সের স্বামীকে প্রধান উজির পদে নিয়োগ দেয়া হয়। এবারের প্রধান উজিরকেও পদচ্যুত করা হয়। এরপর তৃতীয় প্রধান উজিরকেও সৈন্য প্রধানেরা দুর্নীতি করে পদচ্যুত করলে পুনরায় হুসেন পাশার আসার সুযোগ ঘটে প্রধান উজিরের পদে।
অবস্থা আরো খারাপ হয়ে পড়ে যখন এশিয়াতে বিদ্রোহ শুরু হয়।আর্জুরামের গভর্নর মহান মাহমুদ পাশা ছিলেন জানিসারিসদের জন্মশত্র এবংওসমানের এশিয়া অভিযানের উৎসাহদাতা। নিজের বাহিনী নিয়ে মধ্য ও পূর্ব আনাতোলিয়ার নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনে মাহমুদ পাশা।ইস্তাম্বুলে উলেমা সম্প্রদায় বিদ্রোহের চেষ্টা করলে আইন ও সামরিক জনগণ মিলে নতুন প্রধান উজির হিসেবে সং হিসেবে বিখ্যাত আলী গাশাকে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর অপ্রকৃতিস্থ মুস্তাফাকে সিংহাসন ত্যাগ করতে বললে, সাদরেই সিংহাসন ছেড়ে দেন মুস্তাফা।
চলবে...
আগের পর্বঃ
১ম পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




