somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওসমানী খিলাফত ২য় পর্ব(যখন রাজ্য অন্ধকারাচ্ছন্ন)

২৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




কারাগারে খলিফা ওসমান ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ার পর দাউদ পাশা ও আরো তিনজন খলিফা কে বন্ধবের মতো জাগিয়ে তোলে। তারপর ওসমানের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে তারা।খলিফা যথেষ্ট শক্তিশালী ছিলেন। তাই খলিফা ওসমান বীরত্বের সাথে লড়তে থাকে তাদের সাথে।তারপর যুদ্ধের এক পর্যায়ে কুঠার দিয়ে আঘাত করা হলে শহীদ হয়ে যান খলিফা।এরপর ওসমানের একটি কান কেটে সুলতানা ভালিদেকে দেখানো হয়।সেদিনই সন্ধ্যায় সমাহিত করা হয় খলিফা কে( আল্লাহ্‌ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করুন)। রো'র ভাষ্যমতে, “প্রথম খলিফা যার ওপরে তারা হাত তুলেছিল; একটি দুর্ভাগ্যের চিহ্ন, যা তাদের পতন ডেকে আনে ।”
ওসমানকে হত্যা করার পরপরই জানিসারিস ও সিপাহিরা নিজেদের কৃতকর্মেরজন্য অনুশোচনায় ভুগতে থাকে। অযৌক্তিকভাবে যতটা দ্রুত উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল সবাই; সেরকমই যত্নের সাথে মৃত খলিফার জন্য অনুতাপ শুরু করে সবাই। প্রাথমিক জনরোষ স্তিমিত হওয়ার পরপরই অপদাৰ্থ খলুফার অধীনে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবার মনে শঙ্কা জাগে। ধীরে ধীরে সত্য উন্মোচিত হয় ও মুস্তাফা ওসমানের হত্যাকারীদের শাস্তির আদেশ দেন তিনি। কিন্তু তারপরই পাগলামীর বশে ওসমানের মৃত্যুর কথা ভুলে গিয়ে প্রাসাদের দ্বারে দ্বারে তাকে খুঁজতে থাকেন মুস্তাফা। রাজত্বে শাসনের ভার থেকে মুক্তি কামনা করলেও পনেরো মাস পর্যন্ত সুলতান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।অরাজকতা এতই বেড়ে যায় রাজ্যজুড়ে যে স্যার থমাস রো’র বাণী কাকতালীয় ভাবে সত্য হয়ে যায়ঃ “এর বেশি আমি কিছুই বলতে পারি না যে অসুস্থতা সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরে এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে ধ্বংস অনিবার্য। প্রতিদিন।আমরা পরিবর্তনের আশা করছি। জ্ঞানীরা জাহাজের হাল ধরতে প্রত্যাখ্যান করছে। আর বোকার দল সবাইকে নিয়ে যাচ্ছে পাথুরে রাস্তাতে। যদিও বা কোনো সমর্থ ব্যক্তি এর সুযোগ নিতে চায়; এর থেকে সহজ শিকার আর হয়।ফলে সরকারের কার্যকর হাত হিসেবে সক্রিয় হয়ে ওঠে একজন নারী সুলতানা ভালিদে। রাজকর্মচারীরা এ ব্যাপারে মতবিভক্ত থাকলেও পুত্রের সিংহাসনের চালক হয়ে উঠেন এই নারী। দুর্নীতির ক্ষেত্রে দাপ্তরিক পদসমূহ হয়ে ওঠেহাতের পুতুল।উপহার ও ঘুষ এই দুই শ্রেণীর অর্থ প্রদানের মাধ্যমে ক্রয় হতে থাকে কর্মপদ। মন্ত্রিপরিষদের সাথে ঘুষের মাধ্যমে পদোন্নতির ধুম পড়ে যায়। জানিসারিস ও সিপাহি উভয়ের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পায়।পাশা ওসমানের নামে সৈন্যরা হত্যাকারিদের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য দেয়। ফলে একের পর এক প্ৰধান উতির পরিবর্তন হতে থাকে।

দায়ুদ পাশার পরে আসেন হুসেন পাশা। পাচক হিসেবে জীবন শুরু করা হুসেন পরবর্তীতে মিশরের গভর্নর হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করে।হুসেন পাশা দুবারের প্রতিবারেই সিপাহিদের বিরুদ্ধে জানিসারিসদের ব্যবহার করে।জানিসারিসদেরকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা জানানোর অর্থে রেশন দিত । অবশেষে একদিন সুলতানের স্টোর খুলে ধরে জানিসারিসদের সামনে।ইচ্ছেমতো মাংস, মোমবাতি নেয়ার সুযোগ দেয়া হয় তাদেরকে। অন্যদিকে এর বিরুদ্ধে সিপাহিরা বিদ্রোহ করে যে সেরাগলিওতে সব স্বর্ণ ও রৌপ্যের জলযান গলিয়ে ফেলেছে। ইস্তাম্বুলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অবিরাম লুণ্ঠন,হত্যা, গৃহে আগুন দেয়া। যেন বা শহরটি কোনো বিদেশি শক্তি অবরোধ করেছে।এরপর জানিসারিস ও সিপাহিরা একত্রে সুলতানা ও হুসেনের বিপক্ষে শোর তুললে জনসমক্ষে জিজ্ঞেস করা হয় কাকে জনগণ প্রধান উজির হিসেবে চায়। এতে একমত না হলে সুলতানের নার্সের স্বামীকে প্রধান উজির পদে নিয়োগ দেয়া হয়। এবারের প্রধান উজিরকেও পদচ্যুত করা হয়। এরপর তৃতীয় প্রধান উজিরকেও সৈন্য প্রধানেরা দুর্নীতি করে পদচ্যুত করলে পুনরায় হুসেন পাশার আসার সুযোগ ঘটে প্রধান উজিরের পদে।

অবস্থা আরো খারাপ হয়ে পড়ে যখন এশিয়াতে বিদ্রোহ শুরু হয়।আর্জুরামের গভর্নর মহান মাহমুদ পাশা ছিলেন জানিসারিসদের জন্মশত্র এবংওসমানের এশিয়া অভিযানের উৎসাহদাতা। নিজের বাহিনী নিয়ে মধ্য ও পূর্ব আনাতোলিয়ার নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনে মাহমুদ পাশা।ইস্তাম্বুলে উলেমা সম্প্রদায় বিদ্রোহের চেষ্টা করলে আইন ও সামরিক জনগণ মিলে নতুন প্রধান উজির হিসেবে সং হিসেবে বিখ্যাত আলী গাশাকে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর অপ্রকৃতিস্থ মুস্তাফাকে সিংহাসন ত্যাগ করতে বললে, সাদরেই সিংহাসন ছেড়ে দেন মুস্তাফা।
চলবে...
আগের পর্বঃ
১ম পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৪২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫



আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। পরিচিত যারা কাজ করেন তেমন দু একজনের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×