somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাছের কাঁটা ও সুই

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটকালে বিকেলে মাঠে তো বটেই, এমনকি গ্রীষ্মের দুপুরগুলোতে প্রখর রোদে তপ্ত পিচের রাস্তাগুলোতেও আমরা ঘুরে বেড়াতাম খালি পায়ে। এতেই অভ্যস্ত ছিলাম আমরা। বরং সেন্ডেলেই একেবারেই অভ্যস্ত ছিলাম না। মা'র চাপাচাপিতে কখনো স্যান্ডেল পরে বের হলে বেশিরভাগ সময়ই ঘরে ফিরতাম সেগুলো বাইরে হারিয়ে। হয়তো তা ফুটবলমাঠে গোল-বার হয়েছিল, অথবা মাংসচুরি খেলার মাংস, দাড়িয়াবান্ধার অতিরিক্ত দাগের অংশ। কিংবা হয়তো স্লিপারের সিঁড়িতে দোল খাবার জন্য, দোলনার রেলিঙে পা আটকে বাঁদুরের মত ঝুলে থাকার আগে কোথাও খুলে রেখেছিলাম...! ওখানেই থাকত স্যান্ডেল জোড়া, কেউ নিয়ে যাবার আগ পর্যন্ত। আর ঘরে ফেরার পর, হাত-পা ধুয়ে পড়তে বসলে ঘুমে যখন বুজে আসত চোখ, সেই সময় মনে পড়ত স্যান্ডেল-জোড়ার কথা এবং তা হারিয়ে ফেলার ফল স্বরূপ সম্ভাব্য মারের কথা।

এভাবে খালি পায়ে ঘোরাফেরা করতাম ব'লেই, বোধ করি, তখন পায়ের চামড়া বেশ পুরু হয়ে উঠেছিল আমাদের, যেমনটা হয় ঢোল কিংবা তবলা বাদকদের হাতের তালু ও আঙ্গুলে। তাই উত্তপ্ত দুপুরগুলোতে তপ্ত পিচ গ'লে পায়ের পাতায় লেগে গেলেও, পুড়ত না চামড়া; বা পুড়লেও কিছু এসে যেত না। বাসায় ফিরে হাতপা ধোয়ার সময় দেখতাম সেগুলো, বিচ্ছিন্নভাবে গোড়ালি ও আঙ্গুলের কাছে লেগে আছে চামড়ায়। ঘষে ঘষে তোলার চেষ্টা করতাম সেগুলো। এবং বেশিরভাগ সময় সফল হতাম না। মাঝেমাঝেই আমরা বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতাম পায়ে পিচগুলোর অবস্থা নিয়ে। কেউ কেউ আমাকে বুদ্ধি দিয়েছিল কেরোসিন দিয়ে ডলে দেখবার জন্য। কাজ হত। কেরোসিন প্রয়োগে আমার পায়ের গোড়ালি দুটো হয়ে উঠত লালচে হলুদ।

তবে পায়ের পাতার চামড়া যত শক্তই হোক না কেন, মাছের কাঁটা ফুটত ঠিকই, প্রায়ই। পায়ের পাতায় বেঁধা এসব যন্ত্রণাদায়ক কাঁটা নিয়ে আমি দিনের পর দিন চলতাম, প্রায় নির্বিঘ্নে। তীব্র অস্বস্তি, কখনো যন্ত্রণা সহ্য ক'রেও অস্বীকার করতাম সেগুলোর অস্তিত্ব। খেলাধুলাও চলত নিরবচ্ছিন্নভাবে।

কাঁটা নিয়ে এমন বাড়াবাড়ি রকম লুকাছাপার পেছনে অবশ্য যৌক্তিক কারণ ছিল। কারণটি হচ্ছে, মা-বাবা যদি কাটার অস্তিত্ব সম্পর্কে টের পেয়ে যেত, তবে আমার পা নিয়ে তারা দুজন একাট্টা হয়ে ভয়ংকর সব কাণ্ডকারখানা শুরু ক'রে দিত। যেমন, তাদের একজন শক্ত ক'রে চেপে ধরত আমাকে, পায়ে এবং আরেকজন একটা তীক্ষ্ণ সুই আগুনে পুড়িয়ে এনে মনের সুখে খোঁচাখুঁচি শুরু করত। একসময় ঠিকই, রুদ্ধশ্বাস অপারেশন, চিৎকার-চ্যাঁচামেচি শেষে তারা বের ক'রে আনত দীর্ঘদিন ধ'রে আমার পায়ের চামড়ার ভেতর, মাংসের গভীরে বসবাস করতে থাকা মাছের কাটা।

কাটা খুঁজে পাওয়া গেলে অবশ্য আমি নিজেও খুশি হতাম অনেক। কিন্তু যদি খুঁজে না পাওয়া যেত, তবে এই অত্যাচার চলতে পারত দীর্ঘকাল ধ'রে, থেমে থেমে, নিয়মিত বিরতিতে। আমার খুঁড়িয়ে হাঁটা সনাক্ত করতে পারলেই তারা শুরু করত উত্তপ্ত সুঁই নির্ভর কাটা খোজার আয়োজন, তারপর স্যান্ডেল পরার জন্য চাপাচাপি এবং অবশেষে সেগুলো হারিয়ে গেলে মারামারি।

বাচ্চাদের পায়ে কাটা বেঁধা একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হলেও এলাকায় বসবাসকারীরা মাছ খেয়ে তার উচ্ছিষ্ট নিশ্চয়ই ঠিক স্থানে ফেলত না। যদিও অবশেষে বিঁধতে উন্মুখ কাটাগুলো তাদেরই বাচ্চাদের পায়ে পায়ে ফিরে আসত ঘরে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×