somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের জংলা মুসলমান...!!! পর্ব-২

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম এবং বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবী করে!

-দাবী করে?!

জ্বি হ্যাঁ... কারণ তারা শান্তির ধর্মকে অশান্তির কাজে সবচেয়ে বেশী ব্যাবহার করে। আর তার মূল কারণ তাদের অতি উচ্চ ধর্মান্ধতা এবং ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা।

এদেশের মুসলিমদের বেশীরভাগই ‘শুইনা মুসলমান’। ‘আমার বাবা মুসলমান, তাই আমি মুসলমান’ এই নীতিতে তারা বিশ্বাসী। ইসলাম যে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা এবং যেকোন ধর্ম যে জানার,বুঝার এবং গবেষণার ব্যাপার এই বিষয়ে তাদের কোন ধারণাই নেই। তাই তারা তার আশেপাশের গুরুরুপি গরুদের কাছে যাই শুনে তাই অন্ধের মতো বিশ্বাস করে। আর তাদের এই অজ্ঞতাই উপমহাদেশে ইসলামের অধঃপতনের মূল কারণ।

এদেশের মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সমস্যা তাদের কুসংস্কারপ্রীতি এবং ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা। আর এজন্য সবচেয়ে বেশী দায়ী এদেশের তথাকথিত কিছু পীর ও আলেম-ওলামারা। যেমন-

** ছোটকাল থেকে আমাদের শিখানো হয়, ‘অন্য ধর্মের লোকদের সাথে উঠা-বসা কিংবা মেলামেশা করা যাবে না’

-সিরিয়াসলি?! ভাই, তাহলে ইসলাম টা প্রচার করবো কার কাছে?! আমাদের নবী ও সাহাবারা কি মুসলমানদের কাছেই ইসলাম প্রচার করেছিলেন?!

** যে কোন রহস্যময় ঘটনাকেই তারা সবই আল্লাহ্‌র ইচ্ছা বলে চালিয়ে দেয় এবং এর পিছনের কারণ কিংবা যুক্তি খোঁজার চেষ্টা করে না। ফলে ধর্মের যৌক্তিক ব্যাপারগুলোকেও তারা অযৌক্তিক বানিয়ে ফেলে।

** মুসলমান ব্যাতিত অন্য সবাইকে তারা শত্রু মনে করে। ধর্ম প্রচারে শত্রুতা নয়, বন্ধুত্বটাই সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন এই সহজ ব্যাপারটা তাদের উর্বর মস্তিষ্কে আঁটে না। শত্রু তাদেরই বলা হয় যাদের বধ করতে হয়। শান্তির পথে আনতে যে বন্ধুত্বকেই বেছে নিতে হবে এটা তাদের বুঝাবে কে!!

** বাঙালি মুসলমানেরা জীবিত প্রতিভাকে লাশে পরিনত করে, আর মৃত প্রতিভার কবরে আগরবাতি জ্বালে। আর এ কারনেই কয়েক যুগ ধরে ‘পীর’ কথাটা বললেই ‘ভণ্ড’ কথাটা আপনাআপনি চলে আসে, আর ‘ভণ্ড’ বললেই ‘পীর’ আসে। আজকালতো একটি ব্যবহার করলেই অন্যটি বোঝায়, দুটি একসাথে ব্যবহার করতে হয় না। ‘ভণ্ড পীর’ বলতে হয় না; ‘পীর’ বললেই ‘ভণ্ড পীর’ বোঝায়! পীরের প্রতি তাদের যেই ভক্তি, তার অর্ধেকও যদি ধর্মের প্রতি থাকতো তাহলে আজ মুসলমানদের এই অবস্থা হতো না।

** শান্তির কথা বলে নিজেরাই মন্দির ভাঙে, এমনকি মসজিদও ভাঙে! ‘লাকুম দ্বীনুকুম অলিয়াদ্বীন’ এই আয়াত টা যেন তারা কখনোই পড়েনি। তারপরও তারা দাবি করে তারা ধার্মিক, আর যারা ভাঙাভাঙিতে নেই তাদের বলে অধার্মিক বা নাস্তিক। বড় জেহাদ টাকে ভুলে গিয়ে তারা ছোটটা নিয়ে লাফালাফি করে। এরা বিধর্মীদের বুঝানোর পরিবর্তে হত্যার নির্দেশ দেয়!

** এরা ‘ফরযের খবর নাই, সুন্নত নিয়া টানাটানি’ এই নীতিতে ভয়ংকর ভাবে আসক্ত। ইসলামি ভ্রাতৃত্য বাদ দিয়ে এরা, কে কোথায় হাত বাধে, কে কোট-টাই পরে, তারাবী কয় রাকাত আর কে চেয়ারে বসে ভাত খায় এগুলা নিয়ে সারা বছর মারামারি করে!!

আমি বলছিনা যে সবাই এমন কিংবা সবক্ষেত্রে এমনটাই ঘটে। অনেক্ষেত্রে এগুলোর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেলেও বর্তমানে আমাদের সমাজে সংস্কারের চেয়ে কুসংস্কারের আধিক্যটাই বেশী। আর এর প্রধান কারণ আমাদের অসহনশীল আচরণ এবং ধর্মের প্রতি উদাসীনতা। তাই আসুন যে কোন ব্যাপারকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে যথাসম্ভব যাচাই করে পদক্ষেপ নিই।

বিঃদ্রঃ ইহা নিতান্তই আমার নিজস্ব চিন্তা-চেতনার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। আর যেহেতু, ম্যান ইজ মরটাল – মানুষ মাত্রই ভুল! তাই যে কোন প্রকার যৌক্তিক সংশোধনী গ্রহণযোগ্য।

চলবে...
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×