somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন সাবেক শিবিরের আত্মকাহিনী -২১ (ঢাকা মেডিকেলের রোমান্টিক দিনগুলি)

২৫ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেডিকেলে ক্লাস শুরুর পরপরই একটা সাহিত্য পত্রিকা বের করেছিলাম। পত্রিকা বলা ভুল হবে। এ-ফোর সাইজের পাতার এপিঠ-ওপিঠ, তিন ভাজ করা। ১৯৮৮ সালের কথা। তখন কম্পিউটার এতো চালু হয়নি। আমি একটা কবিতা লিখেছিলাম। মেডিকেলের পড়াশোনা ভালো লাগতো না, তাই নিয়ে। কবিতাটা পরে শিবিরের একটা সাহিত্য সভায় পড়েছিলাম। সে সময়কার একজন তরুণ কবি খুব নির্দয়ভাবে তার সমালোচনা করেছিলেন। বলেছিলেন, আবেগ তাকলেই কবিতা হয় না। শিখাও একটা লিখেছিল। নাম দিয়েছিল, ‍‍‌'আমি মুসলিমা গেরিলা'। এটা নিয়ে তাকে নাকি অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল। আমাদের ইয়ারের কয়েকজনও কবিতা দিয়েছিল।

কবিতাপত্রটির খসড়া হাতে লিখে তৈরী করার পর সেলিম রেজা ভাইকে দেখালে তিনি খুব উৎসাহ দিলেন এবং বললেন টাইপ করতে হবে না, হাতের লেখাই সুন্দর দেখাচ্ছে। ফটোকপি করে প্রকাশ করেছিলাম। ভালোই সাড়া পড়েছিল। আমাদের ব্যাচে একটা মেয়ে ছিল, স্কার্ফ পরতো মাথায়। সে প্রায়ই আমার হাতের লেখার প্রশংসা করতো। তখন বুঝিনি যে এই প্রশংসার অন্য অর্থ থাকতে পারে।

ব্যাচের আরেকটা মেয়ে একদিন আমাকে একটা ব্যতিক্রমী উপহার দেয়। সেটি ছিল নিক্যাপ বা প্যাটেলা। হাটুর জয়েন্টের সামনের দিককার তিনকোনা ছোট হাড়টা। পড়ার সুবিধার জন্য সে হাড়টির বিভিন্ন অংশ রঙ্গির কালি দিয়ে একে দিয়েছিল। কয়েকদিন পর সে জানালো যে, ফজলে রাব্বী হলে আমার রুমে গিয়েছিল, কিন্তু আমাকে পায় নি। তখন রেটিনা কোচিং সেন্টার নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকতাম। দিনের বেলা খুব কমই হলে থাকতাম। কিছুদিন পরে সে খুব রাগ করে তার দেয়া উপহার ফেরত চাইলো। আমি অবাক হয়েছিলাম, উপহার সে দিলই বা কেন, আর রাগ করে ফেরত চাইলোই বা কেন? তার এই উপহার দেয়া, আমার রুমে আমাকে খুঁজতে যাওয়া, রাগ করা - এসবের যে অন্য মানে থাকতে পারে তা বুঝিনি।

আরেকজনের ব্যাপারও বুঝতে পারিনি। আমাদের ব্যাচের আরেকটা মেয়ে। ববছাট চুল। সে প্রায়ই গল্প লিখে আমাকে দিতো মন্তব্য করার জন্য। আমি ভাবতাম যেহেতু একটা সাহিত্য পাতা প্রকাশ করেছি, তাই সে আমাকে সাহিত্যের ভালো সমঝদার ভাবে। সেবার ঈদে মিলাদুন্নবীতে আমরা ট্রাফিক সিগন্যালে দাড়িয়ে গাড়ীতে কলেমার স্টিকার লাগিয়েছিলাম শিবিরের পক্ষ থেকে। সে আমার কাছ থেকে অনেকগুলো স্টিকার চেয়ে নেয় এবং জানায় যে তার এবং পরিচিত অনেকের বাসায় সে স্টিকারটি লাগিয়েছে। এসবের যে অন্য মানে থাকতে পারে, তা তখন বুঝিনি। সে এখন চোখের ডাক্তার হয়েছে। আমি চশমা নিয়েছি প্রায় দশ বছর হলো। মাঝে মাঝে মনে হয় তার কাছে চোখ দেখাতে যাই। কিন্তু, যাওয়া হয় নি।
৯টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামুর ঈদ কবে?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬




সবাইকে ঈদ মুরাবক!

ঈদ কেমন গেলো? পুরো রমজানের দুআা কতটুকু কাজে লেগেছে? বৃষ্টি ভেজা, বজ্রপাতে কোনো ভোগান্তি হয়েছে : প্রিয়জন সব ঠিকঠাক আছে? আহত বা নিহত হয়েছে?? ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-৩

লিখেছেন অর্ক, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৪৫



সারাজীবন আমি মানবতা, সত্য, শুভ, সুস্থ, সুন্দরের চর্চা করে এসেছি। আমার উপর শতভাগ আস্থা রাখতে পারেন। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে আমি কিছু বলি না, দাবি করি না। এই যুদ্ধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইহুদীদের ষড়যন্ত এবং আমেরিকার খনিজ সমৃদ্ধ ভূমী দখলের লীলাখেলা।

লিখেছেন রাশিদুল ইসলাম লাবলু, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪২



র্দীঘদিন ধরে ইহুদীরা মুসলিমদের সন্ত্রাসী পরিচয় তকমা দিয়ে বিশ্ব দরবারে ঘৃন্য জাতি সত্ত্বাতে পরিনত করার অপেচেষ্টায় রত ছিলো। মুসলমান মানেই সন্ত্রাসী প্রথমেই ধারনা দিতে তৈরি করা হল আল কায়দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯১

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৩৯

প্রিয় কন্যা আমার, আজ ইদের দিন!
একমাস ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সিয়াম সাধনা করেছে। রমজান মাস মূলত সংযমের মাস। ফাজ্জা কাউকে আমি দেখিনি সংযম করতে। রমজান মাসে সবাই বিলাসিতা করেছে। খাওয়া দাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি সত্যিই দেখি, নাকি যা বিশ্বাস করি কেবল সেটাই দেখি ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:২৯


গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কমলা বেগম ঈদের সকালে গোরুর মাংস রান্না করতে বসেছিলেন। গতবছর কোরবানির ঈদে মানুষের বাড়ি থেকে চেয়ে আনা মাংস, মাসের পর মাস পাশের বাড়ির ফ্রিজে থাকা, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×