এই তো আজ সকালের দিকে পাতাঝড়া শীর্ণ এক
মৃতপ্রায় গাছের দিকে তাকিয়ে খারাপ লাগছিল খুব।
কী মলিন হয়ে গেছে গাছটা। মানুষের মনও যেন এমনই।
পৃথিবীর ক্ষণিক সৌন্দর্যকে আগলে রাখতে চায় সে— সারাজীবন। কিন্তু তাই কি হয়? সময়ের স্রোতে সবকিছুই ধূসর হয়ে যায়। মলিন হয়ে যায়।
অবচেতন মনের এই ভাবনাটাই এফোঁড়-ওফোঁড়
করে দিচ্ছিল মনটাকে।
একটু আগে আমার কাছের এক বোন আমাকে একটা ছবি পাঠিয়েছে—বরফের চাদরে মোড়া পার্কের একটা ছবি। ছবিটাতে চোখ পড়তেই যেন ওটা বলা শুরু করল—চেপে রাখা ধূসর কষ্টগুলোর সাথে।
কল্পনা আমাকে টেনে নিল বরফ ঢাকা বিশাল এক
মাঠের মাঝে—দুহাত আকাশ পানে ছড়িয়ে হাঁটু গেড়ে বসে আছি। হাত বাড়িয়েছি সাহায্যের জন্য। কত
লগ্ন এমন পেরিয়ে গেছে। কিন্তু তারপরেও
প্রশান্তি ছিল। কখনো কখনো প্রশান্তিটা এত
নিবিড় ছিল যে, বেশ কিছুটা সময় পার না- হলে সেটা বোঝা যেত না।
কল্পনার টানে ঝাপসা হয়ে আসা চোখ আবার ফেরালাম ছবিটার দিকে। পার্কের মাঝে বরফের উপর
একলা একাকি বেন্চ। মনটা এখন অনেক শান্ত।
বুঝলাম, সবকিছুতেই শান্তিটা খুঁজে নিতে হয়।
গাছগুলোর মরণেও প্রশান্তি আছে।
প্রশান্তি আছে প্রতিটা মৌসুমেই। কাজেই
পরিবর্তনকে ভয় পাওয়ার কী আছে।
শান্তি আসার এখনো বাকি।
কোনো কিছু চলে গেলে শংকা কিসের।
ভয় কিসের জীবন পাতা ওল্টানোয়।
শান্তি আসার এখনো বাকি. . .
শান্তি আছে এখনো. . . . . . . . .
- - - ইয়াসমিন মোগাহেদ ॥
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০১৫ সকাল ৯:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




