somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেন চলে গেলে দূরে . . .

১৭ ই মার্চ, ২০১৫ দুপুর ১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই পৃথিবীতে মানুষ ভালোবাসার কাঙ্গাল । আমিও তার ব্যতিক্রম নই। স্কুল জীবনে যখন কোন বান্ধবী বলত যে আমাকে মিস করেছে, যখন কোনো বান্ধবী আমাকে উপহার দিয়েছে, আমার জন্য স্পেশাল আয়োজন করে বাসায় দাওয়াত দিয়েছে তখন আনন্দে অশ্রু বন্যা বয়ে যেত।

অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ার সময় এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী দুনিয়া থেকে বিদায় নিল, আমার গগন বিদারী চিতকারে পরিবারের সবাই স্তম্ভিত। স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লেগেছিল।

খুব রেস্ট্রিকটেড এরিয়া আর রেস্ট্রিকটেড ফেমিলিতে বড় হওয়ার কারনে খুব নিরিবিলিতে কেটেছে সময়। চাইলেই কথা বলার জন্য সহজে কাউকে খুজেঁ পাওয়া যেতনা। তাই যখন কেউ বেড়াতে আসত আমাদের বাসায়, খুব সহজে তাকে বিদায় দিতে চাইতাম না। চলে যাওয়ার পর কয়েকদিন পর্যন্ত চোখের জলে ভাসাতাম। কিছুদিন চারদিকে শূন্যতা অনুভব করতাম ।

খুব শখ করে একটি টিয়ে পাখি এনেছিলাম পুষবো বলে। পাখির যত্ন-আত্নি করতে গিয়ে নিজের যত্নের কথাই ভুলে গিয়েছিলাম। কোথাও বেড়াতে পর্যন্ত যেতাম না পাখি একা থাকবে বলে।
সেই পাখি ছয়মাস পর উড়ে চলে গেল কোথায় আর পেলাম না। আবারো চোখের জলে ভেসেছিলাম অনেকদিন ।

এরকম আরো যে কতবার এই হৃদয় ভাঙ্গলো, তার ইয়ত্তা নেই।

আবার যখন কেউ ভুল বুঝে তখনো ভীষণ কষ্ট হয়। বাবা-মা, ভাই-বোন যখন ভুল বুঝে অভিমান করে তখন এই আমিই লুকিয়ে লুকিয়ে চোখের জলে ভাসি।
সম্পর্ক গুলো সবসময় আমার কাছে অনেক বড়। তাই এই সম্পর্কের মাঝে কাটা ফুটলে কষ্টটা একটু বেশিই লাগে।

কারো ভালো ভার্সিটিতে চান্স না পাওয়া, ভালো প্রতিষ্ঠানের জব না পাওয়ার বেদনা -

এই সকল কষ্ট গুলো আসলে একটা নির্ভরশীল ব্যাপার ।
অজস্র ভগ্নহৃদয় আমাদের চারপাশে, আমরা সবাই কমবেশি।

"কেন সবাই চলে যায়, সবকিছু চলে যায়? কেন এই হারানোর দুঃখগুলো আমাদেরকে এত বেশি পোড়ায়?" ---
এরকম কিছু কথা ইয়াসমিন আপুর লেখায় পড়ার পর আবিষ্কার করলাম পরিষ্কার!

সুবহানাল্লাহ! আমি আসলে সবসময়েই আমার সুখ-দুঃখ অন্যের হতে ছেড়ে দিতাম। আমার সুখ শান্তির কন্ট্রোল দিয়ে রেখেছিলাম এমন কিছু জিনিসের কাছে -- যা নশ্বর। যে/যারা ক'দিন পরে হয়ত নষ্ট হয়ে যাবে, মরে যাবে। সেগুলো পেলে, তারা ঠিক থাকলে আমার জীবন ঠিক। তারা বিগড়ে গেলে -- আমিও শেষ!!

অথচ যিনি এই সবকিছুর মালিক, তার কথা আমার মনেই থাকেনি। যিনি আমাকে অজস্র জিনিস দিয়ে ঋণী করে রেখেছেন, তার কাছ থেকে হয়ত দু'একটা জিনিস না পেতেই মন খারাপ হয়ে গেলো। অথচ তিনি আমার জন্য প্রতিটি মূহুর্তই সাজিয়ে রেখেছেন।

আরো অদ্ভূত একটা জিনিস হলো -- এই চলে যাওয়া, হারিয়ে যাওয়া, না পাওয়ার ভেতর খুব বেশি সুন্দর একটা জিনিস আছে।

একটু অবাক লাগলো?
প্রতিটি বন্ধন ছিঁড়ে যাবার কষ্টের মধ্যে আসলে আমাদের একটা রিমাইন্ডার আছে। আমরা যখন আমাদের আল্লাহকে ছেড়ে একটা
চাকুরিকে অনেক দাম দিতে থাকি। অন্য কোন নশ্বর (যা নষ্ট হয়ে যায় একসময়) মানুষকে বা সৃষ্টি বস্তুকে তাঁর চাইতে বেশি করে ভালোবাসায় ডুবে যেতে নিই, ভুল পথে পরিচালিত হই -- তখন আল্লাহ আমাদের রিমাইন্ডার দেন। এর ফলে, আমরা যেন আমাদের সুখী-দুখী হবার ক্ষমতা অন্য কারো উপর ছেড়ে না দিই -- যেন ফিরে আসি আবার তাঁর কাছে। আল্লাহর সাথে আমাদের যেই সম্পর্ক -- সেইটা কি কোনদিন নষ্ট হবার?

আজো তিনি আমাদের রব, আমাদের প্রিয়তম -- অনন্তকাল কেবল তিনিই আমাদের সবচাইতে কাছের বন্ধু হয়ে থাকবেন। তার সাথে সম্পর্কের কথা ভুলে আমরা কোথায় যাই?

অনেকের হাতে আল্লাহ এই জগতে কিছু ক্ষমতা দেন সাময়িক সময়ের জন্য। যেমন হয়ত রাস্ট্রের একটা গুরুত্বপূর্ণ পদে কেউ আছেন -- তার চারপাশে চাটুকারের অভাব হয়না যারা তার সাথে সম্পর্ক তৈরি করে কিছু পাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে থাকে। এই ক্ষমতা সেই লোকেরও বেশিদিন থাকে না, চাটুকারদের কথা তো বাদই দিলাম। অথচ যার হাতে সব ক্ষমতা, যিনি আসমান জমিনের সবকিছুকে কন্ট্রোল করেন -- তার কাছে কি চেয়েছি আমরা অমন করে? অথচ তার একটুখানি প্রিয় হতে পারলে আমরা এই পৃথিবীতেও পাবো তার ভালোবাসায় হৃদয়ে আনন্দের স্পর্শ, অনন্তজগতে কেবলই প্রশান্তি।

প্রেম ভালোবাসার চিন্তায়, একটা মেয়ের কাছে ভালো হতে, তাকে কাছে পেতে কত কিছুই না করে একটা ছেলে। তাকে পাওয়া না পাওয়াতেই জীবন যেন সবকিছু। না পেয়ে অনেকে পাগল হয়ে সেই মেয়েকেও মারে, নিজেও মরে। অথচ এই মানুষটাক পাবার পরের দিনই সেই মেয়েটি মরে যেতে পারে, হয়ত সে নিজেই মরে যেতে পারে। অথচ সে একটা সম্পর্ককে সবচাইতে বেশি দামি মনে করে জীবনের ক্ষতি আনলো। অর্থহীন একটা কাজ, অর্থহীন সেই অনুভূতি।

এভাবে আরেকটা সৃষ্টির কাছে নিজের সুখ দুঃখ ন্যস্ত করে আমরা সবসময়েই জটিল করে চলেছি আমাদের জীবন। অথচ আল্লাহ বলেই দিয়েছেন, তিনি কাউকে সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না। নিজ থেকে আমরা বোঝা মাথায় নিয়ে ফেললে আবার তাঁর কাছে ফিরে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।

ভেবে দেখুনতো, আপনার হৃদয়ে কি অনেক কষ্ট? অনেক না পাওয়ার বেদনা? আপনার কাছ থেকে কি কিছু হারিয়ে গেছ? চলে গেছ? হাত ফসকে কেউ/কিছু চলে গেছে?
ভেবে দেখুনতো, সেই জিনিসটা থাকলেও কতদিন থাকতো আপনার কাছে? ১০বছর? ২০ বছর?

এমন কিছু হারালে বুঝবেন, এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয়া হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে --
হয়ত আসল রিলেশন ছেড়ে ভুল কিছুতে আমরা জড়িয়ে পড়ছিলাম। আল্লাহ আমাদের ভালো চান, তাই একটা ঝাড়া দিয়ে দিলেন। এমন broken heart দের উত্তম ঔষধ হলো --
সেই মহান আর প্রিয়তম অন্তরতম জনের কাছে ফিরে যাওয়া - তার কাছে মনের কষ্ট খুলে বলা -- যিনি এই বিশ্বজাহানের সমস্ত ক্ষমতা ধারণ করেন, যিনি রাহমানুর রাহিম।
যার কাছে তার বান্দা অনুতপ্ত হয়ে ফিরে গেলে তিনি যারপরনাই খুশি হন।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার সেই বাণীটি আমাদের মনে আছে তো? --

" যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।"
-- [সূরা আর রা'দ, আয়াতঃ ২৮]

অনুপ্রেরণা:

- "সুন্দর জীবনের স্বপ্ন" ব্লগ
- [ Why do people have to leave each other :: Yasmin Mogahed- Click This Link ]

- [ People leave each other but do they return? :: Yasmin Mogahed- Click This Link ]
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১৫ দুপুর ২:৩৭
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিএনপি একটি বেঈমান আর গাদ্দারদের দল।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫০

‘বিএনপি ৭৫এর যোদ্ধাদের রক্ষা করেনি, ২৪ এর যোদ্ধাদেরও রক্ষা করবে না।’ ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×