somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের বাঁশিওয়ালা

১১ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলাদেশ নামক একটা দেশ ছিল । এই দেশ ছিল জনসংখ্যায় ভর্তি । অধিক জনসংখ্যা হল গাধার পাল । গাধার দল চালানোর জন্য নেতা কর্মী দরকার । তাই দেশে বহু নেতা কর্মী ছিল । এদের আকার আকৃতি পাহাড়ের মতন । মন হল বালি কনা । পরের টাকা খাওয়া হল এদের ধর্ম । গায়ের রং অন্ধকার ।এই অন্ধকার মুখের ছবিতে পথ ঘাট ভর্তি । দিনে দিনে এদের খাবারের পরিমান বাড়লও । গাধা জনগনের জীবন তখন যায় যায় । ঘরের বউ এর সোনা আর বাইরের প্রেমিকার হিরা সব নেতা নেত্রিরা নিয়ে যায় । বউ ও ব্যাজার , প্রেমিকা ও ব্যাজার । কি করা যায় , কি করা যায় । জনগন নিরুপায় । হাজার হোক গাধা জনগন ।

অবশেষে সবাই মিলে একদিন দেশের রাষ্ট্রপতির কাছে গেলো । মহা ঝামেলার পর তিনার দেখা মিল্ল । তিনি স্ত্রীদের নিয়ে বেস্ত ছিলেন এই জন্য বিলম্ব । সবাই মিলে রাষ্ট্রপতির পা ধরে বসলো । তিনি বয়স্ক মানুষ , পা গেলে তো বিপদ , পা পাবেন না । তিনি তো আর ভেড়া না ,যে কেউ একজন কচ করে পা কেটে নিয়ে গেলো আর পরদিন সকালে আরেকটা পা গজাবে । হাঁটি হাঁটি পা পা করে প্রকিতির ডাকে সাড়া দিবেন ।তা তো হবে না । তাকে খুড়িয়ে খুড়িয়ে যেতে হবে ।

~ বাবারা তোদের কি অভিযোগ ?
~ আর বলবেন না হুজুর আমাদের জীবন তো যায় যায় । আমাদের বউ ঘরে ঢুকতে দেয় না । পরকীয়ার প্রিয়া ছুতে দেয় না ।
~ কেন রে , ঘটনা কি ?
~ ঘটনা খুবই খারাপ । সোনা দানা হিরা সব নিয়ে যাচ্ছে । নেতা কর্মীদের জালায় তো আর জীবিত থাকতে পারলাম না হুজুর । আমাদের সংসার জীবন , পরকীয়া জীবন যায় বললেই চলে । আমরা তো বরবাদ হয়ে গেলাম হুজুর ।
~ কেন রে ? কুকুর আর চোর তাড়ায় না নাকি রে ?
~ না না । এরা তো কুকুরকেই উল্টা কামড় দেয় । কুকুর দেখে জাত তো একই । চেহারা ভিন্ন । কিসের এতো বিরোধ । করি বন্ধুত্ব ।
~ আহা হা হা । কি বিপদ কি বিপদ ? এখন উপায় ?
~ উপায় তো এখন আপনাকেই বের করতে হবে হুজুর । নইলে আমরা এদের বস্তায় করে ধরে এনে আপনার বাড়িতে ছেড়ে দেব । যখন কামড় দিবে বুঝবেন বেদনা ।
~ না না না , বাবারা । ঐ কাজ করিস না । আমি বয়স্ক লোক । এখন কামড় দিলে রক্ষা থাকবে না । এমনি আমার বউ রাতে মুখ ভার করে থাকে । তখন পরকীয়া করবে । আচ্ছা দাড়া দেখি একটা উপায় করতে পারি কি না । এখন তোরা যা । বউ বাড়ি একা রেখে আসছিস । কখন কোন কর্মী আসে , কর্ম শুরু করলে তো বিপদ ।

জনগন যার যার বাড়ি চলে গেলো । এই দিকে রাষ্ট্রপতি ভাবতে থাক্লেন । কি করা যায় ? কি করা যায় । কোন উপায় বের হল না । মাঝখান থেকে তার লুজ মোসান শুরু হল । বয়স হয়েছে । বেশি ভাবলে পেটে গণ্ডগোল দেখা যায় ।

তিনি যখন এই গণ্ডগোল দূর করতে তার বাগানে গেলেন । সেখনে গিয়ে তার দেখা হল এক লোকের সাথে । লম্বা চেহারা , নীল চোখ । নানা রঙের কাপড় দিয়ে বানানো পোশাক পরে আছে । কাঁধে একটা ঝোলা । রাষ্ট্রপতি হটাত গন্ধ পেলেন । তিনি ভাবলেন ঝোলা থেকে গন্ধ আসছে । পরে বুঝলেন তিনি এর উৎপাদক ।

~ সেই লোক কথা বলল ।
~ আমি তোমার চিন্তা দূর করে দিতে পারি ।
~ লুজ মসান দূর করবা তুমি ? গাছামো ঔষধ দিয়ে । না বাবা লাগবে না । আমি সিঙ্গাপুর যাবো । তখন চিন্তা দূর হবে ।
~এই চিন্তা না ।
~ তবে কোন চিন্তা ?
~ নেতা কর্মী দের ভাগানোর চিন্তা ।
~ আচ্ছা আচ্ছা । তাহলে তো ভালোই হয় । কি করে ভাগাবে ? ওদের মুখে কি লুজ মোসানের পদার্থ দিবে । গাড়ও হলুদ রং ।
~ সে আমার ব্যাপার ।
~আচ্ছা না হয় করলে । বিনিময়ে কি দিতে হবে ?
~ আপনার বউ এর সাথে পরকীয়ার স্বীকৃতি ।
~ আচ্ছা না হয় দিলাম । বউ তো অনেক কয়টা । নিও না হয় একটা। আমার বয়স হয়েছে । সবাই খুশি হয় না । তারাও খুশি হল । ক্ষতি কি তাতে । তো বাবা কাজ শুরু করবে কখন থেকে ?
~ এখন থেকে ।

এই কথা বলেই সেই লোকটা রাস্তায় নেমে পড়ল । তার ঝোলা থেকে একটা বাঁশি বের করলো । মোহিনী সুরে বাঁশি বাজলো । নেতা কর্মীরা ডাস্টবিন থেকে , ড্রেইন থেকে , ভাগাড় থেকে বের হয়ে আসলো । সে কি নাচানাচি । কি স্লোগান । সবাই মিলে বাঁশি ওয়ালার পিছু নিল । বাঁশি ওয়ালা তাঁদের নিয়ে এগিয়ে গেলেন । গিয়ে থামলেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে । বাঁশির সুর পরিবর্তন হল । এবার করুণ সুর । এই সুর সইতে না পেরে নেতারা নদীতে ঝাঁপ দিলেন । নদীর ময়লা পানি খেয়ে নেতা কর্মীদের জীবনাবসান ঘটলো ।

সেই দিন রাতে "৭২ টিভি" তে ঘোষণা হল নেতা কর্মীরা সব না ফেরার দেশে গিয়েছেন । কখন আসবে বলা যাচ্ছে না । আমাদের ও যেতে হবে । এখন বিদায় ।

বাঁশি ওয়ালা তার পরকীয়ার বৈধতা পেল । প্রেমিকা কে নিয়ে রাস্তায় হাঁটাহাঁটি শুরু করলো । সাথে বাঁশির সুর । গাধা জনগন সেই সুরে গান ধরল ।

"আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে
শাঁখে শাঁখে পাখি ডাকে
কতো শোভা চারি পাশে
আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে ।
আজকে মোদের বড়ই সুখের দিন
আজকে মোরা নেতার স্বপ্ন থেকে হয়েছি স্বাধীন
আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে "

(আধুনিক রুপকথা । কেউ বর্তমানের সাথে মিল পেলে তার জন্য নিজেই দায়ী থাকবেন । লেখক নির্দোষ । )
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×