somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অজান্তা

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেলা শেষে সূর্য পশ্চিম আকাশে তার তীব্রতা হারিয়ে আস্তে আস্তে নিদ্রার মত ঢলে পড়ছে।সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়তেই কালো মেঘে আকাশ ছেয়ে গেল।থেকে থেকে দমকা বাতাস জানালার পথে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ছে। মাঝে মাঝে আকাশে মেঘের ভয়ঙ্কর গর্জন সাথে বিদ্যুৎ চমক।কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হল মুষল ধারায় অঝোর বৃষ্টি।
-
বৃষ্টির কোনো বিরাম নেই।সন্ধা হওয়ার সাথে সাথেই ঝড়ের প্রকোপও বৃদ্ধি পেয়েছে।সন্ধার অন্ধকার, বৃষ্টি আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দে কানে তালা লাগার উপক্রম।হঠাৎ বাসা থেকে বিদ্যুৎ চলে গেল।অন্ধকারে একা বসে আছে শামীম।
-
বাহিরে অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরছে।পাতা থেকে টুপটাপ পানি ঝরছে।আর স্মৃতির দৃশ্যপট গুলো আস্তে আস্তে শামীমের চোখে ভেসে উঠছে।আজ কার কথা যেন শামীমের ভীষন মনে পড়ছে।কাকে যেন শামীম অনেক মিস করছে।হ্যা,অজান্তা।অজান্তার কথা খুব মনে পড়ছে শামীমের।মনে পড়ছে সেই দিনটার কথা,যেদিন শামীম আর অজান্তা একসাথে বৃষ্টিতে ভিজেছিল।বিকেলে পার্ক থেকে ফেরার পথে কি যে বৃষ্টি।অজান্তার কাছে ছাতাছিল।কিন্তু শামীম খুলতে বারণ করেছিল।বলেছিল,চল দুজন একসাথে বৃষ্টিতে ভিজি,এমন একটা দিন হয়ত আর কখোনো পাবনা।সত্যিই সেই দিনটার মত দিন শামীম আর কখনো পায়নি।সেই দিনটা অনেক মধুর ছিল।সেই দিনটার কথাই আজ খুব মনে পড়ছে শামীমের।
-
অজান্তার সাথে শামীমের প্রথম দেখা হয় তার নাহার আপুর বিয়েতে।গায়ে হলুদে দেখেছে,বিয়েতে দেখেছে,চোখে চোখ পড়েছে, কিন্তু কোনো কথা হয়নি।কথা হয়েছিল বিয়ের তৃতীয় দিন রাতে।অজান্তাসহ অনেকে মিলে টিভি দেখছিল।সবাই টিভি দেখছে দেখে শামীমও গেল।সে দাড়িয়ে ছিল।অজান্তা ডাক দিয়ে বলল___
-
_____ভাইয়া, আপনি দাড়িয়ে আছেন কেন? বসেন!!!
-
___না আমি বসব না,আমি বাড়িতে যাব।
-
_____আপনি কি বাচ্চা যে,এত তাড়াতাড়ি বাড়িতে যাবেন???
-
___জি না,,,আমি বাচ্চা না,,,বাড়ি খালি তো তাই তাড়াতাড়ি যেতে হবে।
-
_____ও আচ্চা যান।গুড নাইট!!!
-
শামীম অজান্তার কাছাকাছি গিয়ে জিজ্ঞেস করল,,,
-
___আপনি এফবি ইউজ করেন?
-
_____না,,,আর আমি আমার এফবি আইডি সবাইকে দিই না।
-
___ও তাই তো,,,অবশ্য আপনার এফবি আইডিতো শুধু একজনের জন্য।
-
_____আপনি কিসব আজে বাজে বকছেন?আজে বাজে কথা একদম বলবেন না।
-
তারপর শামীম অজান্তার কানের কাছে গিয়ে "গুড নাইট " বলে চলে আসছিল।
-
এটা ছিল অজান্তার সাথে শামীমের প্রথম কথোপকথন। তারপর?
তারপর আর কি?
আসা যাওয়ার পথে শামীমের সাথে দু একটা কথা হয়।এর বেশি কিছু না।
-
মজার বিষয় ছিল,অজান্তারা যেদিন চলে আসছিল সেদিন আসার সময় অজান্তা তার এফবি আইডি শামীম কে দিয়ে আসছিল।যদিও ঔ দিন রাতের পর শামীম আর কখনো অজান্তার কাছে তার এফবি আইডি চায় নি।
-
তারপর দিনের পর দিন অজান্তার সাথে এফবিতে চ্যাটিং,,, চ্যাটিং করতে করতে ভাললাগা,,,ভাললাগা থেকে ভালবাসা,,,শামীম কখন অজান্তাকে ভালবেসে ফেলেছে সে নিজেই বুঝতে পারেনি। তারপর তার ভালবাসার অভিব্যাক্তি ঘটালো।অজান্তা একসেপ্ট করল।খুব ভালোই চলছিল তাদের প্রেম। কিন্তু তা বেশি দিন স্থায়ী হল না।অজান্তা একসময় শামীম কে এড়িয়ে চলতে শুরু করল।শামীমের কল ঠিকমত ধরতো না,,,ধরলেও আগের মত হাসিখুশি ভাবে কথা বলত না।মেসেজ এর আ্যনসার দিত না,,,দিলে অনেক দিন পর দিত,,,এভাবে।
-
অজান্তা শামীমকে এড়িয়ে চলতে চায়,এটা শামীম বুঝত।কিন্তু কেন এড়িয়ে চলতে চায় সেটা বুঝত না বা জানত না।একদিন শামীম শুনল।জানল।অজান্তা বলেনি,,,অন্য একটা অপরিচিত এফবি আইডি বলেছিল।সেটা হয়ত অজান্তার 'ই ছিল বা তার কোনো রিলেটিভ এর।সে বলেছে,অজান্তা ব্লাড ক্যান্সার এ আক্রান্ত। যেটা কিছুদিন আগে ধরা পড়েছে।তাই অজান্তা শামীম কে এড়িয়ে চলে।
-
শামীম অজান্তাকে অনেক বোঝাতে চেয়েছে, কিন্তু অজান্তা বোঝেনি।তার এক কথা "আমাকে ভুলে যাও "।অজান্তা যে শামীমকে ভালবাসত না,তা নয় কিন্তু।অজান্তা শামীম কে অনেক ভালবাসত,আর ভালবাসত বলেই এ কথা বলত।আজ আর অজান্তা বেছে নেই।অজান্তা অনেক দূরে চলে গেছে।না ফেরার দেশে চলে গেছে।
-
অজান্তার কথা ভাবতে ভাবতে শামীমের চোখে জল চলে এল।কখন যে সন্ধা পেরিয়ে রাত হয়ে গেছে শামীম টেরই পায়নি।মায়ের ডাকে সম্বিত ফিরে পেল শামীম।বৃষ্টি থেমে গেছে।প্রকৃতি তার স্বাভাবিক রূপে ফিরে এসেছে।শুধু শামীম স্বাভাবিক হতে পারেনি।তার মনের কোণে শুধু একটি নাম বারবার তাকে অতীততে ফিরিয়ে নেয়।আর তা হচ্ছে___অজান্তা! অজান্তা! অজান্তা!
-
_____অন্তু
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:১১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মিনি পোস্ট!

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৬

ইদানীং ব্যস্ততার কারণে সামুতে আসা হয়না। মাঝে মাঝে ঢু মারলেও লগইন করা হয়না।
আজ একটা ভাবনা মনে উদয় হওয়ায় সবার সাথে শেয়ার করতে এলাম-

জামায়াতের একজন সংসদ সদস্য সংসদে দাড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৯


সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

এই বাংলাদেশের পলিমাটিতে ইতিহাস খুব ভয়ংকর।

এখানে কখনো কখনো নদী শুধু পানি বহন করে না- বহন করে রক্তের স্মৃতি।
গাছ শুধু ছায়া দেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুরআন থেকে মাদ্রাসার ছাত্রের বিস্ময়কর বিদ্যুৎ আবিস্কার :-ls

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫২

চারিদিকে বিদ্যুতের জন্য ত্রাহি ত্রাহি অবস্থার মধ্যে মাদ্রাসার এই ছাত্রটি কুরআন গবেষণা করে আমাদের জন্য ফ্রি বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। বিজ্ঞান পড়েননি, পড়েছেন কুরআন-হাদিস! সেই মাদ্রাসাছাত্রই বানালেন মাধ্যাকর্ষণ দিয়ে বিদ্যুতের যন্ত্র!

অবেশেষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×