somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল যেখান থেকে বাংলাদেশ একবিন্দু সুবিধাও পায়নি ভবিষ্যতেও পাবেনা। এই প্রকল্পটির জন্য ভারতের এক্সিম ব্যাংক থেকে ১৬০ কোটি ডলার বা প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা ঋণ নেয় সরকার শর্তথাকে যে, কোন কারণে স্থাপনার ধ্বংস হয়ে গেলেও পুরোটাকা বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হবে ভারত কোন দায় নেবেনা অথচ দুই দেশের শেয়ার ৫০:৫০। ভারত লাভের ৫০ শতাংশ নেবে কিন্তু ক্ষতির ৫০ শতাংশ নেবেনা।

প্রকল্পটির ৫০ শতাংশের মালিক বাংলাদেশ হলেও স্থাপন, পরিচালনা ও বিদ্যুৎ বিক্রি সবকিছুরই একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল ভারতীয়দের হাতে। প্রকল্পের মাটি ভরাট থেকে শুরু করে সব কার্যক্রম করে ভারত সরকার। লোকবলও নেওয়া হয় ভারত থেকে। যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও নদী ড্রেজিং থেকে সব কাজই এককভাবে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান করেছে। মোংলা বন্দর জেটি থেকে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার নৌপথটিতে ‘ড্রেজিং করপোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠান নামমাত্র কাজ করে ১১৯ কোটি টাকা তুলে নেয়। দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, এসব কাজে বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণপর্যায়ে প্রায় দুই হাজার ভারতীয় নাগরিক কাজ করেছে। নামে মাত্র কয়েকজন বাংলাদেশি প্রকৌশলী কাজের সুযোগ পেয়েছিল প্রকল্পটিতে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে অবস্থানকালীন ভারতীয় নাগরিকদের খাবার-দাবার থেকে শুরু করে তাদের ব্যবহারের যাবতীয় সরঞ্জমাদিও ভারতীয় ঠিকাদার সরবরাহ করত। হাজার হাজার লোকের এ বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যে প্রকল্পের আশপাশে একটি টং দোকানও গড়ে তুলতে পারেনি কোনো বাংলাদেশি।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মধ্যে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যাওয়ার কথা থাকলেও মানহীন যন্ত্রপাতির কারণে শুরুতেই হোঁচট খায়। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে আসার কয়েকদিনের মধ্যে এটি বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন কারণে গত এক বছরে ৩০ বার বন্ধ হয়েছে।

০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের সঙ্গে সঙ্গে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ভারতীয় নাগরিকরাও পালিয়ে যান। তাদের পলায়নের পর ভারতীয় নাগরিকদের উচ্চ বেতনের বিষয়টি সামনে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে উচ্চ বেতনের ৯ জন ভারতীয় কর্মকর্তা এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ করতেন। ভারতীয় নাগরিকদের উচ্চ বেতন ও অর্থ লোপাটের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য দুদক থেকে উদ্যোগ নেওয়ার পর চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি কাউকে না জানিয়ে তারাও সবাই পালিয়ে যায়।

বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভারতীয়দের বাড়তি বেতন-সুবিধায় অসম চুক্তিটি এতোটাই ভায়ানক ছিল যে সমমানের একজন বাংলাদেশি প্রকৌশলীর বেতনের চেয়ে ভারতীয় একজন প্রকৌশলী বেতন নিয়েছে ২৫ গুণ।

তাই তো ড্রাকুলা হাসিনা বলেছিল, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।


বিস্তাতির এখানে দেখুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি : ভারসাম্যের লক্ষ্যে বাংলাদেশে উৎপাদন ও রপ্তানি কৌশল

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:০২


ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও নিকটতম বাণিজ্য অংশীদার। ভৌগোলিক নৈকট্য, দীর্ঘ সীমান্ত, পরিবহন সুবিধা এবং পরস্পর-নির্ভরশীল উৎপাদনব্যবস্থার কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

//১৫ ই আগস্ট ১৯৭৫ ও জীবনের সমীকরণ//

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৯

নিশ্ছিদ্র পরিকল্পনার পর নিখুঁতভাবে তা মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা হলো, অতঃপর আশানুরূপ অথবা আশাতীত ফলাফলও এলো। আপাতদৃষ্টিতে সমীকরণের রাইট হ্যান্ড সাইড আর লেফট হ্যান্ড সাইট হয়ে পরলো কেমন যেন ভারসাম্যহীন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভবত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই তারেক রহমান ভারতে যাচ্ছেন....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

সম্ভবত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই তারেক রহমান ভারতে যাচ্ছেন, যদিও এখন পর্যন্ত সফরটি চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের সম্মতি আদায়- এক্ষেত্রে বাংলাদেশের 'কচিকাঁচা কুটনৈতিকদের' হারিয়ে ভারতীয় 'প্রবীণ কুটনৈতিকরা' জয়ী হয়েছে।

শেখ হাসিনার আমলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর কারা মিষ্টি বিতরণ করেছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১৬


যদি কোনোদিন টাইম ট্রাভেল মেশিন আবিষ্কার হয়, পঁচাত্তরের ঘটনা নিজের চোখে দেখার চেষ্টা করতাম। সে সময় কিছু মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছিল বলে শোনা যায় । আমি তাদের কাছ থেকে মিষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০২



আজ জাতীয় শোক দিবসের।
জাতির পিতাকে আজকের দিনে স্বপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো। আজ শেখ মুজিবের ৩২ নম্বরের ভাঙ্গা বাড়িতে একজন গিয়েছেন শ্রদ্ধা জানাতে। তার হাতে ফুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×