somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

সম্ভবত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই তারেক রহমান ভারতে যাচ্ছেন....

১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সম্ভবত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই তারেক রহমান ভারতে যাচ্ছেন, যদিও এখন পর্যন্ত সফরটি চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের সম্মতি আদায়- এক্ষেত্রে বাংলাদেশের 'কচিকাঁচা কুটনৈতিকদের' হারিয়ে ভারতীয় 'প্রবীণ কুটনৈতিকরা' জয়ী হয়েছে।

শেখ হাসিনার আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছিল, সেটা ছিল গভীরভাবে অসম। দিল্লির ইচ্ছা, অনিচ্ছা কিংবা নির্দেশই পালন করাই ছিলো ঢাকার নীতিনির্ধারণের অন্যতম প্রধান বিবেজ্য।
ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু বন্ধুত্ব আর নির্ভরশীলতা এক জিনিস নয়; সহযোগিতা আর অধীনতা এক জিনিস নয়।

শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে ভারত যেসব কৌশলগত সুবিধা পেয়েছে, তার বিনিময়ে বাংলাদেশ সমপরিমাণ দূরের কথা, যতসামান্য পরিমাণও সুবিধা পেয়েছে কি না- এই প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে পানি, সীমান্ত, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও নিরাপত্তার বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশা জমেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সেই পুরোনো সমীকরণ ভেঙে গেছে।

বাংলাদেশ এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে। জাতীয় সংসদে নির্বাচিত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা, জাতীয় স্বার্থ এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা- এই তিনটি বিষয় সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। আজকের বাংলাদেশ সেই জায়গায় নেই।

শেখ হাসিনা আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের যে একতরফা সুবিধাভিত্তিক ধারণা তৈরি হয়েছিল, সেটা যদি সত্যিই দিল্লির নীতিনির্ধারকদের মনে থেকে থাকে, তাহলে সেটা তাদের জন্য বড় ভুল হিসাব হবে।

বাংলাদেশ কারও শত্রু হতে চায় না। যদিও ভারত বাংলাদেশের বন্ধু নয়, ভারতও আমাদের শত্রু নয়। আমরা চাই স্থিতিশীল, বন্ধুত্বপূর্ণ, সহযোগিতামূলক এবং পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদার।

যে বাংলাদেশ একসময় ভারতের কাছে অনেক কিছু চেয়েও প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি- সেই বাংলাদেশ যদি আজ নিজের স্বার্থ ও মর্যাদাকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাকে বৈরিতা বলা যাবে না; এটাই হবে স্বাভাবিক সার্বভৌম রাষ্ট্রের আচরণ। আর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বুমেরাং হয় তখনই- যখন কোনো রাষ্ট্র তার প্রতিবেশীকে চিরকাল নিজের প্রভাববলয়ের অংশ মনে করে।

বাংলাদেশ ভারতের প্রতিবেশী- কারও পরিশিষ্ট নয়, কারও আশ্রিত নয়। বন্ধুত্ব থাকবে, সহযোগিতা থাকবে, প্রয়োজন হলে কঠিন আলোচনাও হবে- কিন্তু সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে।
এটাই নতুন বাস্তবতা, নতুন বন্দোবস্ত।

আমার মতামত হলো- তারেক রহমানের ভারত সফর হলে সেটা বাংলাদেশের জন্য আত্মসমর্পণের সফরও হওয়া উচিত নয়, আবার ভারতবিরোধী শক্তি প্রদর্শনের সফরও হওয়া উচিত নয়। এটা হওয়া উচিত সমমর্যাদার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্গঠনের সফর।

আমার মনে হয়, তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রধান দৃষ্টি থাকবে- তিনি কী নিয়ে দিল্লি যাবেন এবং কী নিয়ে ফিরবেন।
সৌজন্য, হাসিমুখ, করমর্দন- এগুলো কূটনীতির অংশ। কিন্তু সফরের মূল্যায়ন হবে বাংলাদেশ কী পেল, কীভাবে পেল এবং কোন মর্যাদায় পেল- সেটাই।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ভারতকে শত্রু বানানো বাংলাদেশের স্বার্থে নয়; আবার ভারতকে অভিভাবক বানানোও নয়।

বন্ধুত্ব চাই- কিন্তু মাথা নত করে নয়।
সহযোগিতা চাই- কিন্তু আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে নয়।
সম্পর্ক চাই- কিন্তু সমমর্যাদার ভিত্তিতে।
"সবার আগে বাংলাদেশ"- এটাই হতে পারে তারেক রহমানের ভারত সফরের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁশি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৪



হিম শীতল মাঘ মাসের রাত। ঘন কুয়াশার কারণে পাঁচ হাত সামনেও কিছু দেখা যায় না আর খালপাড়ের বাঁশঝাড়টা তো অনেক দূরে, বাতাস নেই তারপরও বিচিত্র কারণে বাঁশপাতার শব্দ শোনা যাচ্ছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে ওঠলাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের এই দিনে ১৯৭৫-এর শোকাবহ আগস্ট/ রক্তাক্ত দিবস॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১১



“আজ থেকে অনেকদিন পরে হয়ত কোন পিতা তার শিশুপুত্রকে বলবেন, জানো খোকা! আমাদের দেশে একজন মানুষ জন্ম নিয়েছিল যাঁর দৃঢ়তা ছিল, তেজ ছিল আর ছিল অসংখ্য দুর্বলতা। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×