somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটা ওয়েব লগ: এলোমেলো ভাবনা

১৪ ই আগস্ট, ২০০৬ রাত ১২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাসায় কাজ ভাগাভাগি করা আছে। ভাইয়া বাথরুম ধোয়া, খাওয়ার পরে বাসন পত্র মাজা, আমার কাজ ঘর ঝাড়া মোছা, রান্নাবান্না আর মীরা বেগমের বহুবিধ কাজ যেমন গাড়ি ধোয়া, সবার ফুট ফরমাশ খাটা, অভিমান করা।

আমার আরেকটা কাজ হল আমাদের ঘর আর বাথরুমের বিন পরিষ্কার করা। সুতরাং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার একটা বিরাট দায়িত্ব আমার, আর এই দায়িত্ব পালনের সময় মহা বিরক্তি নিয়ে একটা জিনিস আবিষ্কার করলাম। পরিচ্ছন্নতার কোন শেষ নাই! যতই বিন পরিষ্কার করি, ততই যেন ময়লা হয়। সেদিন কি যত্ন করে বিন পরিষ্কার করে বিন ব্যাগ রেখে টিপ টপ করে গেলাম... পরের দিনই আবার যেই সেই। দলা পাকানো টিসু্য, কাগজ, চুল, চকলেটের খোসা কত কি! প্রতি সপ্তাহে একই কান্ড। একই।

রান্না করার সময়ও এই ব্যপারটা বিরক্ত লাগে। এক একবার সারা সকাল খরচ করে খুব যত্ন নিয়ে রান্না করি। ওমা, আমার পাঁচ ঘন্টার ফসল শেষ করতে পনের মিনিটও লাগে না!

এই যে ক্রমাগত সৃষ্টি আর ধ্বংসের প্রক্রিয়া... ক্রমাগত ঝাড়া মোছা... আবার ময়লা জমা.... চক্রের মত, চক্র থেকে কোন বের হওয়া নেই... এটা জীবনের সব দিকে এত বেশি সত্য কেন?

এই সেদিন মাত্র প্রথম সেমিস্টার শেষ করে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছিলাম। মনে হয়েছিল অনন্ত: কালের জন্য ছুটি! চার চারটা সপ্তাহ! কি দ্রুতই না চলে গেল চার সপ্তাহের বসে থাকা... নতুন সেমিস্টার শুরু হয়ে গেল। শুধু তাই না, ইতিমধ্যে তিন সপ্তাহ চলে গেল। এই জিনিসটা আমি বুঝে পাই না। ছুটির তিন সপ্তাহ তো আরও ধীরে কেটেছে! এই তিন সপ্তাহ কোন দিক দিয়ে কাটল?

পুরো সেমিস্টার মোট চৌদ্দ সপ্তাহের। তিন সপ্তাহ গেল মানে পুরো সেমিস্টারের পাঁচ ভাগের এক ভাগ পড়াশোনা শেষ হয়ে গেছে! কি ভয়ংকর কথা বার্তা! আমার মৌলিক পড়াশোনা এখনও ওরকম হয় নি। কেবলই লেকচারে যাওয়া আসা। তাই পড়াশোনা জমে স্তুপ হয়ে যাচ্ছে... উঁচু হচ্ছে। এই স্তুপের ব্যপারটা এমন, স্তুপ ভেঙে সমান করার কাজটা উপর থেকে না, নিচ থেকে শুরু করতে হয়। স্তুপ শুরু হওয়ার ভিত্তিপ্রস্তরটা আগে সরাতে হয়, তারপরে দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ জিনিসটা। স্তুপ পাহাড়ের আকার ধারণ করলে তখন ঝামেলা হয়, প্রথম রাখা বস্তুটা পর্যন্ত পেঁৗছানোটাই কঠিন হয়ে পড়ে। পেঁৗছানো গেলেও, সেটা ধরে টান দিলে পাহাড়ে ধ্বস নেমে নিজেরই চেপ্টা হতে হয়!

অমনটা যেন না হয়, তাই দরকার নিয়মিত পরিষ্কার, যেন স্তুপ না জমে। আর স্তুপ জমলেও পাহাড় না হয়। এই জিনিসটা আমাকে দিয়ে হয় না। নিয়মিত ঝাড়ামোছা। করলে খুব করে করি, না করলে নেই। ট্যান কার্ভ যে! বাসার কাজে ফাঁকিবাজি করলে তখন মা টাইট দেন, কিন্তু নিজের পড়াশোন্টুনির ব্যপারে অবহেলা করলে, স্তুপ জমতে দিলে, কে ঝাড়বে? এক সময় দেখি পড়াশোন্টুনি রাগ করেছে... আমাকে অসহায় করে ফেলে রেখে কই চলে যায়!

আমার ব্রেইনে প্রবেশ পথটা বেশি প্রসস্ত না। এক সাথে, পাশাপাশি রেখে বেশি জিনিস ঢুকানো যায় না। সংখ্যা নিয়ন্ত্রন করে খুব অল্প সময়ে অল্প জিনিসগুলো ভাল মত ঢুকানো যায় বটে, কারণ ওই রাস্তা চিপা হলেও গতিবেগ কয়েক শ কিলোমিটার। বাসায় আমার বদনাম আছে, কিছু করার সময় অন্য দিকে একেবারেই খেয়াল থাকে না। অটো রেসপন্সের অংশ হিসেবে হু হা করি। এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে আমার ছোট বোন যে কতবার কত কিছু আদায় করে নিয়েছে! ব্লগিং করার সময় স্রেফ ব্লগিং করি। খুব মনযোগ দিয়ে। নাওয়া খাওয়া ভুলে। পড়াশোনা করার সময় শুনতে পাই না আশে পাশের মানুষকে। বিরক্ত হয়ে চিৎকার করলে তখন ঘোর ভাঙে। অনেকে গান শুনতে শুনতে পড়তে পারেন। আমি সত্যিই বুঝি না সেটা কি করে সম্ভব। গান শোনার সময় কাজ করা যায় নাকি? গভীর মনযোগ দিয়ে সুরের বাঁক, ইনস্ট্রুমেন্টের আলাদা আলাদা ধারা, এগুলো লক্ষ্য করতে হয়। পুরো গানটায় ডুবে যেতে হয়। তখন আর কিছুতে ডুবা কি করে সম্ভব? আবার পড়াশোনার সময় খুব প্রিয় গানটা চলতে থাকলেও মনে হয়, ধুরু, কি প্যানপ্যানানি!

আমার কম্পু ব্যাটা ঝামেলা করছে। তাই গত দুই দিন ব্লগে আসা হয় নি। এতে একটা কাজ হয়েছে, আমার ব্রেইনের প্রবেশ পথ থেকে ব্লগ নামের বিশাল মালগাড়িটা একটু সরে দাঁড়িয়েছে। তাতেই টের পেলাম, এই বস্তুটা আসলেই আমার হাইওয়েতে বড় সড় ধরনের গোলযোগ সৃষ্টি করছিল। পিছনে স্তুপ জমে গেছে, তিন তিনটা সপ্তাহের স্তুপ! পাহাড় হয়ে উঠানোর আগেই আমার নামা উচিৎ!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রিয় কন্যা আমার- ৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০



প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা তোমার স্কুল বন্ধ। তুমি তোমার নানা বাড়ি গেছো। এবার অনেকদিন থাকবে নানা বাড়ি। নার্সারি থেকে কেজি ওয়ানে উঠলে। বেতন বেড়েছে। খরচ বেড়েছে। আমি নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×