তারপরে শেষ বারের মত ফুচকা খেয়ে বাড়ি ফিরে ওকে ড্রইং রুমে বসিয়ে রেখে খুব তাড়াহুড়ায় র্যাপ করে দিলাম শার্টটা। হু, শার্টটা ওর জন্যই কিনেছিলাম। কিছুতেই বুঝতে দেয়া যেত না যে! তাই, একটু ঘুরিয়ে কথা বলেছিলাম। সাথে দিলাম একটা কার্ড। তাতে লেখা, 'কনগ্র্যাচুলেশনস'। ভিতরে কনগ্র্যাটসের কারণ লিখলাম, 'য়ু আর দ্যা বেস্ট ট্রান্সপোর্টার ইন দ্যা এনটায়ার য়ুনিভার্স। থ্যাংস ফর টিচিং মি হাউ টু ওয়াক অন ঢাকা স্ট্রীটস।' আর দিলাম এক গাদা ছবি। পুরো দুই মাস এক সাথে ঘুরা ঘুরির ফলস্বরূপ খুব মজার কিছু ছবি উঠেছে। এক একটা দেখে কত সুখ স্মৃতি মাথা চাড়া দিয়ে উঠে! ওই যে ওই ছবিতে আমি, মীরা আর কামরান ভাইয়া মাথা এক সাথে ঠেকিয়ে তিন জন তিন দিকে পা দিয়ে শুয়ে আছি নৌকার পাটাতনে, শীতলক্ষ্যার বুকে। সন্ধ্যালগ্নে। আর ঐ ছবিটা তোলা হয়েছে গাছের ডালে। আমি বোরখা পড়েছিলাম। উঠতে ইতস্তত করছিলাম, এক হাতে টেনে গাছে তুলেছে ভাইয়া। আর ওই ছবিটা... ও সিগারেটে সুখ টান দিচ্ছে। খাঁটি লম্পটের মত লাগছে। এর আগে শোনালে সিগারেট খাওয়ার মূল কারণ... জীবনে ষোড়শীদের আদরের অভাব!
প্রথমে একটু অবাক হয়েছিল র্যাপট গিফটটা পেয়ে। খুলে টুলে দেখি একদম গুম হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পাশে বসে আমার উচ্ছ্বল প্রশ্নের 'হু হা' মার্কা উত্তর দিয়ে উঠে গেল, 'আজকে যাই রে...'। এর কিছুক্ষন পরেই এসএমএস পেলাম, 'আপুরে, বুকটা ফাইট্টা যাইতেছিল, তাই চলে আসছি। এত মায়া দেস ক্যান, চলেই তো যাবি পরশু।' মায়া লাগল, আবার হাসিও পেল। আমার কাছে ধারে যারাই আসে, তাদের সাথে 'মায়া' কথাটা কেন যেন একটা বিশেষ মৌলিক শব্দ হয়ে যায়।
যার সাথে ব্যপারটা শুরু হয়েছিল, তাকে একবার ডিম আলুর ভর্তা বানিয়ে সুন্দর করে র্যাপিং পেপার আর রূপালী ফিতায় র্যাপ করে দিয়েছিলাম। দেখে মনে হবে মহা মূল্যবান কিছু। ক্রীসমাস গিফট টাইপের। ভেবেছিলাম হালকা ক্ষেপে টেপে যেতে পারে। ওমা, গিফট খুলে মুখের চেহারা দেখার মত হয়েছিল। কোন কথা বলে নি তখন। রাতে এস এম এস পেলাম: 'আমি খুব ভেবেও একটা ব্যপার বুঝতে পারি না কিছুতেই। উনিশ বছর বয়সের একটা মেয়ে পাগল হবে, ক্ষ্যাপাটে হবে, দুষ্টু হবে, কিন্তু এত মায়াবতী হবে কেন?'
সেই থেকে মায়া কথাটার অর্থই অন্যরকম হয়ে গেল। একটা ভিন্ন মাত্রায় অর্থবহ। শ্রীকান্তের 'কেন এত মায়ায় নিয়েছ জড়ায়ে' শুনে পেট থেকে হাসি পাক দিয়ে উঠে। ক্লীভল্যান্ড স্ট্রীটে ইন্ডিয়ান মিষ্টির দোকান 'মায়া' দেখে একা একাই হেসে ফেলি।
বর্তমানে আরও কিছু শব্দ, যেগুলো বিশেষ বিশেষ মানুষদের জন্য মারাত্মক রকমের বিশেষ অর্থবহ... 'খারাপ মানুষ', 'ছায়া', 'গুটুশ' এবং আরও অনেক! আরও কত শব্দের অর্থ পালটাবে কে জানে!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ ভোর ৬:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


