somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অস্থির, আস্ত শতক

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ৮:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুরো দেড় ঘন্টা বসে থেকেও কিছু লিখতে পারছি না। ঘটনা কি? এই প্রথম না, আরও বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলাম নিজেকে ধরে বেঁধে শতকীয় পোস্ট লিখানো। একটু লিখেই মন উঠে যায় পুরোপুরি। ড্রাফট সংরক্ষণ করে চলে যাই। পরে ফিরে আসলে নতুন করে লেখা শুরু করি।কেন যে লিখতে পারছি না... কারণও নির্দিষ্ট করতে পারছি না।হতে পারে অনেক কিছু লিখার আছে তাই। একশ একতম পোস্ট কি করব জানি, কিন্তু একশতম পোস্ট না।অথবা ব্লগের ইদানিংকালের পরিবেশ। পোলারাইজেশনের তুঙ্গে। পঁচানির তুঙ্গে। ব্লগারদের মনের 100% সেনসিটাইজেশন হয়েছে। আগে যতটা সহ্য ক্ষমতার সীমার ভিতর ছিল, এখন তাও নেই। একটুতেই ছ্যাৎ ছ্যাৎ ঠাশ বুম। অথবা আমার পড়াশোনা। এই প্রথম ব্লগানির চেয়ে পড়াশোনা টানছে বেশি!অথবা ক্যারিয়ার সংক্রান্ত অস্থিরতা। এজন্য অবশ্য ব্লগ দায়ী অনেকটাই। আমার মনের শান্ত সাগরটায় ঝড় তোলা খুব সহজ। গত বছর শুরু করার পরেই নিজের লাইন ঠিক পছন্দ হয় নি, এবার চরম অপছন্দ হচ্ছে। বিভ্রান্তিতে আছি বায়োইনফরমেটিশিয়ান হয়ে আমার মানুষদের জন্য সত্যিই কি করতে পারব তাই নিয়ে। জানি, সুযোগ সুবিধার দিক দিয়ে অনেকের চেয়ে ভীষণ ভাগ্যবান আমি। দায় এড়াবো কি করে? অনেক মাথা ঝাঁকানির পরে গতকালই ট্রানসফারের আবেদন ঠুকে দিলাম অবশেষে। ঠাস করে। মা এখনও জানে না।অথবা আইসকের ব্যস্ততা। সারা দিন স্টলে দাঁড়িয়ে চমৎকার নির্মল কিছু মানুষের সংস্পর্শে কাটানো।হতে পারে।আসলে এগুলো কারো জানার দরকার ছিল না। তবু বলে ফেললাম। কারণ ভার্চুয়াল ব্লগকে আমার ত্রিমাত্রিক অনুভূতিপ্রবণ বাস্তব জীবনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে রাখতে পারি নি এক মুহুর্তের জন্যও। দুর্বলতা দেখাতে নেই নাকি, মানতে পারি না! ব্লগের মন খারাপ বয়ে নিয়ে বেড়াই সারা দিন। কিংবা মন ভাল করা পোস্টগুলোর ফুরফুরে হাসি হাসতে থাকি মুখ টিপে--ক্লাসে, খাওয়ার টেবিলে, শাওয়ারে, ঘুমের আগে আর পরে, ট্রেইনে, বাসে। কিংবা প্রচন্ড রাগে জ্বলতে থাকি। সারাদিন যতবার মনে পড়ে চোয়াল শক্ত করে ফেলি। কখনও চোখ দিয়ে সত্যিকারের নোনা জল ফেলি। কেউ কেউ পারে কাজটা। মাথাকে ভাগ করে ভাচর্ুয়াল আর বাস্তবতা, দু'টো আলাদা ঘর বানিয়ে ফেলতে। দু'টোই ইনসুলেটেড। এক্সক্লুসিভ। সুনির্দিষ্ট। ামি যে পারি না! ব্লগের পোস্ট আর মানুষগুলোকে খুব দ্রুত টেনে বাস্তবে নামিয়ে ফেললাম। ব্যপারটা শুধু এমএসএন, ফোন পর্বে এখনও আছে, গ্রীল পার্টিতে যায় নি, যার একমাত্র কারণ--সিডনী থেকে আমিই মনে হয় একমাত্র ব্লগার! যাদের সাথে যোগাযোগ নেই ব্লগের বাইরে, তাদের সবাইকেও আস্ত এক একজন মানুষ বলে টের পাই। তাই বোধ হয় ঋণাত্মক মনোভবে মনে আষাঢ় জমে! চারিদিক অনেক ঋণাত্মক মনোভাবের সাগরে একটু পরিচ্ছন্নতা চাই। একটু আশা চাই। একটু স্বপ্ন চাই। ভার্চুয়ালিও মানুষেরা স্বপ্ন দেখতে পারে না, স্বপ্ন দেখার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে না। ভার্চুয়াল পৃথিবীকেও সাজাতে পারে না ইউটোপিক ভাবে, ডিস্টোপিয়ার প্রতি আজন্ম ভালবাসা ভুলতে পারে না। একেই দ্্বারহীন জাহান্নাম বানিয়ে অন্যের পা টেনে ভিতরেই রাখে।মুখের ভাষা মানুষের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষমতা। যাদের সব ধ্বংসের ক্ষমতা আছে মুখের ভাষা দিয়ে, তাদের অনেক গড়ার ক্ষমতা আছে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। যতটুকু সময় ধ্বংসে ব্যস্ত থাকে, তার একটুও যদি গড়নে থাকত! নিজের মনটা যে স্পঞ্জের মত। নিজের পরিবেশে যা কিছু আছে সব শুষে নেয় মন। একটু নাড়াচাড়াতে ওগুলোই বেড়িয়ে আসে। এতখানি সৃষ্টির ক্ষমতা নিয়ে আসা মানুষগুলো ধ্বংসশীল পরিবেশ থেকে বেড়িয়ে সৃষ্টি করতে পারছে না! এখানেই বেশির ভাগ ব্লগার আমার থেকে ভিন্ন প্রজন্মের। আগের প্রজন্মের মানুষ। হতাশা দেখে যে হতাশা শিখি!অস্থিরতা যাচ্ছে না!ব্লগারদের এক সময় সামনা সামনি দেখতে হবে, অবশ্যই। আর পাঁচ বছর পরেও আমি জানব খুব ভাল করে, আমার জীবনের এই সময়টার অনেকটুকু সামহোয়ারের সূত্রে পাওয়া অসামান্য কিছু মানুষ, ব্লগার, সুহৃদদের নিজ হাতে গড়ে দেয়া। বাস্তবের বন্ধুদের মতাই, এরা কেউ নিজের অজান্তেই আমার বট গাছ, চারিদিকে পুড়িয়ে দেয়া গনগনে তাপে ছায়া দেয় বলে। কেউ গন্ধরাজ গাছ। ছোট্ট শরীরে শ'য়ে শ'য়ে সুগন্ধী সি্নগ্ধ ফুল বয়ে বেড়ায়। কেউ কচু গাছ, চুলকানি দেয়, কিন্তু উপকারী। আগাছারও শেষ নেই, চরম বিরক্তিতে তুলে ফেলি ঝট পট। তবু জানি, ইকো সিস্টেমের ভারসম্যের জন্য ওগুলোও দরকার। খুব দরকার। গুছিয়ে লিখতে পারলাম না, মনের অস্থিরতা চাপতে পারছি না একদম। এভাবেই ঝাড়লাম অস্থির শতকীয় পোস্ট, সামহোয়ার ইনের বাগানের 19680 তম পোস্ট। বাগানের বট গাছ, কচু গাছ, গন্ধরাজ গাছ, আগাছা সবাইকে যার যার অবদানের অনুপাতে চরম কৃতজ্ঞতাসহ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:০৬
৪১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুগুল মিটে হঠাৎ ব্লগীয় আড্ডা (টেস্ট)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:৩৯

ব্লগের সবাই আশা করি ভালো আছেন। আজ বাংলাদেশের রাত ১০.৪৫ মিনিটে একটি ব্লগীয় আড্ডা'র আয়োজন করেছি। নিচে গুগল মিটের লিংক দিয়েছি। আপনারা সবাই আমন্ত্রিত। ইচ্ছা করলে, নিজের ভিডিও অফ রেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“জ্ঞাতি ভাইদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে তার দন্ত মোবারক আর আগের জায়গায় নেই।”

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:০৭

“জ্ঞাতি ভাইদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে তার দন্ত মোবারক আর আগের জায়গায় নেই।” ...বাকিটুকু পড়ুন

আখিরাত ঠিক করার পাশাপাশি দুনিয়ার রাজনীতিতেও ঢুকে পড়লেন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০৮


জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার দুই মাস পার হয়েছে। দেশের মানুষ একটু দম ফেলছে , চায়ের আড্ডায় যখন ভোটের উত্তাপ ফিকে হয়ে আসছে, ঠিক তখনই খবর এলো সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্মি এখনও ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেনা কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৫

“শেখ হাসিনার পতনের মূল কারণ ছিল চীনের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়া, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ভূরাজনৈতিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে, দেশের অভ্যন্তরে একটি পরিকল্পিত পরিবর্তন... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:০৩

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা, ভৌগোলিক প্রভাব এবং আধ্যাত্মিক প্রতিফলন

আমরা প্রতিদিন যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখি, সেটাকে এতটাই স্বাভাবিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×