
ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র
অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।
এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা, আর নৈতিক আশ্রয়
আচার নয় কেবল, নয় কঠিন বিধান
অস্তিত্বের মানচিত্র, জীবনের দিশান।
বাংলার সমাজজুড়ে ধর্মের প্রভাব
পরিবার গোষ্ঠীর আছে নীরব দাবী
নিজের বিশ্বাস নয়, তবু মানতে হয়
সমাজের প্রত্যাশা টানে বহু লয়।
ডিজিটাল দুনিয়ায় ধর্ম ছড়ায় দ্রুত
ভিডিও, বয়ান, কোটসে ভরা তাবত
সত্য আর বিভ্রান্তি মিশে এক স্রোতে
উত্তেজনা জাগে তরুণের চিত্তপটে।
চাকরি আর ভবিষ্যৎ সবই অনিশ্চিত
চাপের ভারে মন হয় ক্ষতবিক্ষত
প্রার্থনার নীরবতায় মিলে কিছু শান্তি
বিশ্বাস দেয় সাহস, দেয় মানসিক শক্তি।
অনেকে খোঁজে ধর্মে নৈতিক পাঠ
সততা, সংযম, পাপের বিরুদ্ধে হাত
মাদক, অনাচার থেকে ফিরে কিছু প্রাণ
ধারণার বদলে বদলায় জীবনের গান।
ভোগের আধুনিকতা, সম্পর্কের ক্ষয়
একাকীত্ব বাড়ে, কমে মানুষের সয়
এই ভাঙনের মাঝে ধর্মের স্থির ঘর
ভোগের ঢাল হয়, দেয় স্থায়িত্বের ভর।
ধর্মীয় গোষ্ঠীতে মিলে কিছু আপনজন
বন্ধুত্ব, সহযোগিতা, আর সমবেদনের ধন
পাড়া শহর দল ভেঙ্গে গেলে সামাজিক বাঁধন
এই কমিউনিটিই হয় উঠে নিরাপদ আশ্রয়ন।
কখনো ধর্ম হয় প্রতিবাদের ভাষা
রাজনীতি আর সমাজ বদলের আশা
কিছু তরুণ দেখে এতে কালের রূপান্তর
বিশ্বাসের শক্তিতে চায় ভাঙতে অন্তর।
বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতা, অর্থের ভয়
বিশ্বাসযোগ্য কাঠামো খোঁজে হৃদয়
ধর্ম দেয় স্থিরতা, নৈতিক দিকনির্দেশ
অস্থির কালের মাঝে এক দৃঢ় বিশ্বাস।
একটি কারণ নয় এ বহু স্রোতের যোগ
সমাজ, মন, প্রযুক্তি, সংস্কৃতির ভোগ
ঝোঁকটি কেবল উন্মাদনা নয় আজ
ধর্মীয় পরিচয়, নিরাপত্তা, নৈতিকতার সাজ।
গবেষনার ভিতর ধর্ম সংখ্যার বয়ান
বাংলার জনপদ জুড়ে ধর্ম এক গভীর সুর
সংস্কৃতি ও সমাজে তার নিরব নকশা ভরপূর
মুসলিম সংখ্যার দেশে তরুণ প্রজন্ম আজ
ধর্ম বিশ্বাসের দিকে কেন? এটি গবেষণারই কাজ।
কলেজের উঠোনে, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে
ধর্মের আকর্ষণ কেন প্রশ্ন ওঠে অন্তরে
পরিসংখ্যান বলে কথা, নীরব সংখ্যার গান
বিশ্বাসের প্রকৃতি খোঁজে সমাজবিজ্ঞানের মান।
কিছু দিন আগে আমারী হাত ধরে
২৫৪ জন উত্তরদাতা জনতাকে ঘীরে
এক পরিমান ও গুনগত অন লাইন
জরীপধর্মী গবেষনার কথা করব বর্ণন।
তরুণ প্রান মুসলমান এর বয়ানকৃত
গবেষণার আয়নায় উঠে এল পরিচয়বান
দর্শন ও অনুভবে বিশ্বাস গভীর হয়
কিন্তু আচরণের পথে নিয়মিততা নয়।
বিশ্বাস আছে দৃঢ়, আছে ভাবের আবেশ
কিন্তু প্রতিদিনের চর্চা হয় কিছুটা শেষ
ধর্ম যেন মনে মনে থাকে, আচরণে কম
এই দ্বন্দ্বই আধুনিক শিক্ষার নীরব নিয়ম।
কলেজ ভার্সিটির ১৫০ তরুণের বিশ্লেষণ
বলে দেয় ধর্ম মানে আচার নয়, আশ্রয়ণ
চাপের সময়ে বিশ্বাস দেয় মানসিক বল
উদ্বেগের ঘন ঘোরে জাগে স্থিরতা অটল।
ধর্মে মিলে সমর্থন, মিলে সামাজিক হাত
একাকীত্বের অন্ধকারে জ্বলে সম্পর্কের ধাত
ছাপ্পান্য দশমিক এক শূন্য শতাংশ বলে
পরিচয় ও আচরণে ধর্ম প্রভাব ফেলে।
কেউ বলে আদর্শ আলাদা, আচরণ ভিন্ন
কেউ আবার দ্বিধায় পথ কি সত্যি চিহ্নিত?
সংবাদ পত্রে আর জরিপে উঠে আসে ছবি
কেউ বলে ধর্ম বাড়ছে, কেউ বলে ফাকি সবি।
তবে ধর্মচর্চা আর ধর্মান্ধতা এক নয়
এই বোধে যুক্তি আসে প্রশ্নের সহায়
তরুণেরা আজ মানে না অন্ধ অনুসরণ
বিশ্বাসকে ছেঁকে নেয় প্রশ্নেরই কারণ।
দর্শনে তারা দৃঢ়, নীতিতে অবিচল
তবে আচরণে ভাঙে আধুনিক স্রোতের ঢল
এই অসামঞ্জস্যই সময়ের প্রতিচ্ছবি
শিক্ষা, প্রযুক্তি, সমাজ সব মিলিয়ে ছবি।
ধর্ম দেয় শান্তি, দেয় জীবনের মানে
নৈতিক নিয়ন্ত্রণ রাখে আচরণের টানে
চাপ, বিচ্ছিন্নতা, উদ্বেগের কালে
বিশ্বাস হয় নোঙর, ভাসমান জালে।
তবু প্রশ্ন জাগে ধর্ম আর আধুনিকতা
সংঘাত না কি সংলাপ এই দ্বিধার কথা
এই প্রশ্নই গড়ে দেয় নতুন চেতনা
আকর্ষণ ও সংশয় দুই পথের রচনা।
মূল কথা একটাই, গবেষণা বলে স্পষ্ট
ধর্ম তরুণের কাছে মানসিক কাঠামো সৃষ্ট
পরিচয় দেয়, দিকনির্দেশ, সহায়তার হাত
যদিও আচরণে সমান নয় তার প্রভাব।
এমতাবস্থায় করণীয় পথ একটাই জানি
শিক্ষায় চাই সমন্বয়, বিশ্বাস আর জ্ঞানী
ধর্মের সাথে যুক্তি, আর চিন্তার স্বাধীনতা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নৈতিক সংহতি।
আরও বড় গবেষণা, বিশ্ব ভৌগোলিক ধারা
তরুণ যেন বেছে নেয় ভবিষ্যৎ সহায়ক সারা
বিশ্বাস আর বিজ্ঞানের মিলন সেতুতে দাঁড়িয়ে
বাংলার তরুণ গড়ুক আগামী নিশ্চিন্তে পা বাড়িয়ে।
ভবিষ্যত শিক্ষানীতির পথনকশা
তরুণের সামনে আজ দুই পথ মুখোমুখি
এক পথে ধর্মজ্ঞান, অন্য পথে বিজ্ঞানী
একটি শেখায় নীতি, মানবিকতার ভাষা
অন্যটি দেয় দক্ষতা, কর্মেরই আশা।
কিন্তু ভুল বোঝাবুঝিতে পথ দুটি আলাদা
একটিকে কর্মহীন, আরেকটিকে ধর্ম সাধনা
ফলে তরুণ দ্বিধায় পড়ে ভবিষ্যৎ ভাবনায়
একটি ধরতে গিয়ে হারায় অন্য সম্ভাবনায়।
সমাধান একটাই সংযোগের নীতি চাই
ধর্ম মানে মূল্যবোধ, কর্মবিমুখ নয় তাই
বিজ্ঞান মানে উদ্ভাবন, শূন্য নয় মানবতা
দুয়ের মিলনেই গড়ে ওঠে পূর্ণ সক্ষমতা।
মাদ্রাসা ও সাধারণ সমমানের শিক্ষা সেতু
ক্রেডিটে খুলুক পথ, ভাঙুক সব ভেদাবেদ
ইসলামিক স্টাডিজে কোরান, বাস্তবে প্রযুক্তি
শিক্ষা হোক বহুমুখী, বাস্তবেরই যুক্তি।
নীতির সাথে থাকুক ক্যারিয়ারমুখী পাঠ
বুদ্ধিমত্তায় নৈতিকতা, অর্থে ইসলামি হাত
বায়োইথিক্সে বিজ্ঞান, পরিবেশে জলবায়ু দায়
মিডিয়ায় থাকুক ধর্মচেতনা সময় যা চায়।
একই প্রাঙ্গণে থাকুক ল্যাব আর মসজিদ
ডিজিটাল গ্রন্থাগার, গবেষণার পাদপিঠ
স্টার্টআপ, ইনোভেশন, ভাবনার মিলন
এই হোক শিক্ষাঙ্গনের নতুন গঠন।
শিক্ষককেও বদলাতে হবে সময়ের টানে
মাদ্রাসায় প্রযুক্তি, আর গবেষণার জ্ঞানে
আর সাধারণ শিক্ষায় নৈতিক সংবেদন
সংস্কৃতি-বিশ্বাস বোঝার গভীর অন্বেষণ।
একটি জাতীয় ডিজিটাল শিক্ষা-মঞ্চ চাই,
ধর্ম-বিজ্ঞান-ক্যারিয়ার এক স্রোতে বয়ে যায়
সার্টিফিকেট, মেন্টর, দিকনির্দেশনার আলো
তরুণের ভবিষ্যৎ হোক স্পষ্ট ও ভালো।
প্রতিটি ক্যাম্পাসে থাকুক পরামর্শ কেন্দ্র
যে বোঝে বিশ্বাস, বোঝে বাজারের যন্ত্র
ইন্টার্নশিপে খুলুক হালাল ও প্রযুক্তির দ্বার
স্কিল-ব্রিজ, গড়ে তুলুক সুযোগের ভাণ্ডার।
ধর্ম বনাম বিজ্ঞান হোক এই দ্বন্দ্বের অবসান
পাঠ্যবই, মিডিয়ায় হোক স্পষ্ট ঘোষণা প্রাণ
দুই টিই মানবকল্যাণের সমান্তরাল পথ অবিরত
একটি নৈতিক শক্তি, অন্যটি কর্ম সংস্থানে ব্রত।
পরিবার, সমাজ, মসজিদ সবাই হোক সাথে
সংলাপ গড়ে উঠুক কমিউনিটির হাতে
স্বল্প মেয়াদে নীতি ও প্রশিক্ষণ, মধ্যমে রূপান্তর,
দীর্ঘমেয়াদে গড়ে উঠোক দক্ষ সৎ-নেতৃত্বের স্তর।
শেষ কথা একটাই তরুণ চায় দিশা
সংঘাত নয়, সংযোগই রাষ্ট্রের শিক্ষা
ধর্ম হোক নৈতিক শক্তি, বিজ্ঞান কর্মধারা
এমিলনেই গড়ে উঠুক মানবিক বাংলাদেশ সারা।
ফুটনোট
নীতিনির্ধারকের পথ আমরা ঠিক করতে পারি না
কিন্তু চিন্তা স্পষ্ট করা, দিকদর্শন সেতো দেয়ায় যায়
নৈতিকতা আর বাস্তবতার মাঝে হাত মেলানো
এই কাজটাই করেছি, নিঃশব্দে, ধীরে, ভালোবাসায়।
ইতিহাস বলে প্রথমে আসে লেখা, কবিতা, প্রবন্ধ, সংলাপ
তারপর আসে নীতি, আসে বাস্তবায়নের প্রকৃত রূপ
এ পথচলায় ভ্রান্তি কমে, ভরে কলেজ/ভার্সিটির তরুণের মন
শিক্ষক, অভিভাবক, নীতিনির্ধারকের ভাবনায় আসে নতুন ।
নীতিনির্ধারকদের কাছে কঠিন এক প্রশ্ন রেখে যাই
কথাগুলি যেন ছুঁয়ে যায়,যুদ্ধ নয়, ভাবনার স্পন্দন
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যেন গড়ে ওঠে ধীরে নয় অচিরে
চিন্তাশীল মানুষদের হাতে, আশার সঙ্গে, বিশ্বাসের সুরে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



