খন্ডিত ঈদ কারণ মা বাবাকে ছাড়া এই প্রথম ঈদ। সামনে হয়তো আরও ঈদ আসবে, কিন্তু মা বাবা থাকলে পুরো ঈদটাই অন্য রকম হয়। আগের দিন মা আমাদের খাটিয়ে মেরে ফেলে আর কি। আর আমি, ঈদের আগের দিন উচ্চ পর্যায়ের খবরদারি ছাড়া এই মুরগি বের করছি, এই বৃষ্টিতে ভিজে আসছি, এই আইসিং সুগার মাপছি তো এই গান শুনছি। মানে বিশাল ছ্যাড়া ব্যাড়া। তবু শেষ মেষ রাঁধলাম চিকেনের রোস্ট, পাস্টা, আর টিরামিসু। টিরামিসু ইতালিয়ান খাবার। জটিল মজা। রেসিপিতে আছে স্পঞ্জ ফিংগার, মাসকাপোনে চীজ, কোকো, আইসিং সুগার, ডিম, কফি ইত্যাদি ইত্যাদি। এই প্রথম বানালাম এবং খারাপ হয় নি আসলে! এটাই একমাত্র আমার বানানো মিষ্টি। রাতে কলিংবেল। এক আন্টি পায়েস আর রসগোল্লা বানিয়ে বাসায় এসে হাজির! আমরা যেন খেতে পারি। বাঙালি আন্টি বলে কথা!
রাতে পাস্টা চুলায় দিয়ে আর্থসী মুভ্যিটা দেখছি। তখনই আরেক আন্টির ফোন। আঙ্কেল মাইলড হার্ট এটাক করেছেন, আন্টি হাসপাতালে যাচ্ছেন। তাই আন্টির বাসায় গিয়ে 1 থেকে 11 বছরের চার চারটা পিচ্চিকে দেখাশোনা করতে হবে। ছুটে গেলাম। তারপরে, সময় কাটলো পিচ্চিগুলোর কথা শুনে, খাইয়ে, ঘুম পাড়িয়ে। বাসায় আসতে আসতে রাত দেড়টা।
সকালে নামায পড়ার কথা ছিল আমাদের ইউনিতে। ইউনিভার্সিটি প্রতি বছর নামাযের আয়োজন করে। এবার বৃষ্টির জন্য আয়োজন করছে রাউন্ড হাউজে। রাউন্ড হাউজের বড় হল ঘরটায় এক পাশে মদের বার। উইনি বন্ধ বলে অবশ্যই বন্ধ। নামায হলো টিম্বার ড্যানস ফ্লোরে পাটি বিছিয়ে। তিনশ' মানুষ প্রায়ে। আমার পড়ার ইচ্ছা ছিল, কারণ জায়গাটা ইন্টারেস্টিং। উমার (রা) যে গীর্জায় নামায পড়েছেন, পবিত্রতা অপত্রিতার প্রশ্নে বিচলিত না হয়ে!
ইউনিতে নামায পড়তে হলে বাসা থেকে রওনা দিতে হতো সাড়ে পাঁচটায়। তারমানে সকালে উঠে গোসল করে, রেডি হয়ে, খেয়ে দেয়ে... রাতে দেরি করে শুয়ে আর সম্ভব হলো না। পাঁচটায় শুধু পাশের ঘর থেকে ফোন করে ভাইয়াকে জাগিয়ে দিলাম।
ভাইয়ার অনুরোধে উঠলাম বাসার ঐতিহ্য রক্ষার জন্য। কোন মতে ঢুলুঢুলু চোখে খেলাম সকালের প্রথম মিষ্টিটুকু এক সাথে। সাধারনত বাসার সবাই এক সাথে খাই। তারপরে মা সবার গায়ে পারফিউম লাগিয়ে দেয় এবং আমরা সবাই সবার সাথে কোলাকোলি করি। মা বাবা ছাড়া কোলাকোলি হলো আমাদের তিন জনের।
ভাইয়া চলে যাওয়ার পরে আমি আবার ঘুম।
(চলছে তো...)
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ১০:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



