ঈদের দিনের আনন্দটা ভাগাভাগি করে নেয়ার বাকি অংশে ছিল সাগর দেখা। আসলে ঠিক সাগর না, গিয়েছিলাম মোহনায়। সিডনী হারবারে। প্রথমে সার্কুলার কীতে অনেক্ষণ হাঁটলাম। সাগরকে প্রদক্ষিন, একান্ত ভক্তের মত। হারবার ব্রিজের এক পাশের পায়ের নিচেই হোটেল হায়াত এবং ছোট্ট একটুকরো সবুজ পার্ক। পার্কে প্লাম ট্রির এলোমেলো ছায়া। সোজা তাকালেই সাগরের বুকে উঁচু হয়ে আছে সাদা পাল তোলা অপেরা হাউজ। পিছনে বিশাল হারবার ব্রিজ। সাগরের বাতাস এলোমেলো করে দিতে চায়!
সার্কুলার কী-তে পয়সা উপার্জনের ধান্দায়া এখানে সেখানে মানুষ দাঁড়িয়ে গীটার বাজাচ্ছে বা কী-বোর্ড। শুনতে কি ভালো লাগে! হিন্দী সিনেমায় যখন নায়ক নায়িকা গানের মুডে আসে, তখন কোথা থেকে মিউজিক আসা শুরু করে এবং সবাই নাচা শুরু করে। ব্যাপারটা অনেকটা ওরকমই, আপনি হাঁটতে থাকবেন, হঠাৎ কোথা থেকে মিউজিক। মনে হবে কয়েক পাক নেচে নেই!
হাঁটাহাঁটির ফাঁকে বেশ কয়েকবার ফেরিতে উঠলাম। ফেরি, মানুষ চলার ফেরি কেবল। অনেকটা স্ট্রিমারের মত। ফেরির মুখটা চোখা, পানির দুরন্ত ঢেউ কেটে চলে ঝড় তুলে। দিনটা আবার একটু মেঘলা ছিল। কালো আকাশের ছায়া পড়ে পানিও কালো। আর বাতাসের দুলুনিতে ফেরি এদিক সেদিক দুলছে। ঢেউ কেটে চলছে যেই ঢেউয়ের পানির ছিঁটা রেইলিং ধরে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে থাকা আমার মুখে লাগছে। সাথে তীব্র বাতাস! কি যে ভালো লাগা!
আবার ফেরি থেকে নামা, উদ্দেশ্যহীন হাঁটা চলা, সেকেন্ডে সেকেন্ডে সিদ্ধান্ত বদল করে বেশ মজার একটা সময় কাটালাম। শেষ মেষ ঘরে ফেরাও হলো ফেরি দিয়ে প্যারামাটা পর্যন্ত এসে, যতদূর যায় ফেরি। প্যারামাটা নদীর একাংশ আবার ম্যানগ্রোভ। আমি কখনও সুন্দর বন যাই নি। কিন্তু শান্ত সবুজ জল কেটে আমাদের ফেরিটা যখন চলছিল ধীরে, দুই পাশে ঘন সবুজ বন আর মাটি থেকে উঁকি দেয়া শ্বাসমূল, নাকে মাতাল করা মাটির গন্ধের আহবান, তখন মনে হচ্ছিল সুন্দর বন বুঝি এমনই হবে!
অত:পর, কাল অব্দি বাসায় ঈদী মেহমান এসেছে। এখনও চলছে ঈদ!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




