somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শর্ট কাটে মজার রান্না

০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাসার কতর্্রী (হোক না সাময়িক) ঝামেলার পাশাপাশি মজাও আছে কিছু। ঝামেলা হচ্ছে, মানুষকে দিয়ে কাজ করানো। ব্যাকইয়ার্ডে ঘাস বড় হয়ে গিয়েছে, সিংকে হাড়ি পাতিল জমে আছে, কিন্তু যার করার তার ক্ষেত্রে হুমকি ধামকি বা ছোট খাট প্রলোভনেও কাজ হচ্ছে না

সুবিধাগুলোর একটা হলো রান্না নিয়ে যাবতীয় এক্সপেরিমেন্ট করা যায়। প্রতিদিন তো রান্না করতে ভালো লাগে না, কিন্তু রান্না যখন করা হয়, তখন যেন একই সাথে খুবই শর্ট কাট কিন্তু ঠিক সাধারনও না হয়, সেদিকে খেয়াল দেয়ার চেষ্টা করি। এর একটা কারণ আমি নিজেই। আমার না খেয়ে থাকার রেকর্ড আছে আটচলিশ ঘন্টা। খাওয়ার ব্যবস্থা করা ঝামেলা লাগে, তাই না খেয়ে কাটিয়ে দেই (তাই আমি বুঝবার পারি না মানুষ মোটা হয় ক্যামনে )। রান্না মুখে রুচলে অন্তত: স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য খাওয়া হয়!

রান্না এক: স্যুপ নুডুলস
ইনস্ট্যান্ট নুডুলস খেতে খেতে জিভ পঁচে যাওয়ার দশা। আলসেমী থাকলে আর উপায় না থাকলে ইনস্ট্যান্ট নুডুলস দিয়ে সুপ বানাই বটে, কিন্তু একটু অন্য ভাবে। প্রথমে নুডুলস ভেঙে একটা পাত্রে নেই। তারপরে একটা ডিম ভেঙে দেই। সাথে যাবতীয় প্যাকেট মশলা। এক চায়ের চামচ সরিষার তেল। ফ্রিজে বা হাতের কাছে যা সবজি আছে আছে সব কুচি করে কেটে ছেড়ে দেই: গাজর, শিম, আলু। তারপরে সব ডুবানো পানি এবং ভালো করে ঘুটে দিয়ে মাইক্রোওইভে দশ মিনিটের জন্য চালান।

এতেই হয়, কিন্তু রসনার তৃপ্তির জন্য আমি হালকা একটা টুইস্টের ব্যবস্থা করি ভিনেগার আর মরিচ দিয়ে। মরিচ লাল হওয়া ভালো, কিন্তু শুকনা নয়। কাঁচা মরিচ ভালো লাগলে সেটাই সই, কিন্তু লাল মরিচে অন্য রকম একটা ঘ্রাণ থাকে, যেটা ভিনেগারের সাথে যায়। তো মরিচ কুচি করে কেটে একটা বাটিতে নিয়ে ভিনেগারে ডুবিয়ে রাখি নুডুলস হওয়ার আগ পর্যন্ত। স্যুপ নুডুলস হয়ে গেলে এই বস্তু সসের মত ব্যবহার করে খাই। তৃপ্ত রসনা!

রান্না দুই: ডিম ভাজি
মা বলে, আমাকে প্রথম বার ডিম খাওয়াতেই আমি বমি করে ফেলে দিয়েছিলাম। আমি কিছুতেই ডিমের গন্ধ সহ্য করতে পারি না আজও। তাই সিদ্ধ ডিম বা পোচ করা ডিমের কুসুম আমি কখনও (আমার বিশ বছরের জীবনে কখনও) শুধু খাই নি। আমি তাই রান্নার সময় ডিম থেকে ডিমের গন্ধ সরানোর সব রকম চেষ্টা করি। ডিম পারত পক্ষে তরকারি হিসেবে খাই না, কিন্তু একেবারেই উপায় না থাকলে, চলে।

প্রথমে পেঁয়াজ কাটি এক আঙ্গুল সমান মোটা করে। টমোটো কাটি বেশ চিকন করে। তারপরে তেলে (আপাতত সরিষার তেলের ঝাঁঝ আমার খুব ভাল্লাগছে, ইদানিং ডিম ভাজিতেও সরিষার তেল ব্যবহার করি) পেঁয়াজ ঢেলে দিয়ে নরম হতে দেই। নরম হয়ে আসলে শুকনো মরিচ গুঁড়ো (গুঁড়ো মরিচ অর্থ্যাৎ মরিচ পাউডার না কিন্তু) দেই ইচ্ছামত। তারপরে কিছুক্ষন নাড়া চাড়া। তারপরে প্রথমে কিছুক্ষন টমেটো ঢেলে নাড়াচাড়া, আর তারপরে ডিম দিয়ে আরও নাড়াচাড়া। ওহ, লবণ দেই কোন এক ফাঁকে!

ভলা!

রান্না তিন: শর্ট কাটে ভুনা খিঁচুরি

অত্যন্ত উপকারী খাদ্য। পুষ্টিগুণ হিসেবে বলছি না। বাসা ভর্তি ক্ষুধার্ত মানুষ কিন্তু তরকারি রান্না নেই। খিঁচুরি দিয়ে ভালো রকমের চোখে ধূলি দেয়া যায়।

আমি খিঁচুরি রান্না করি রাইস কুকারে। যদি জিজ্ঞাসা করেন একই রকম মজা হয় কি না, তাহলে বলবো, চুলার চেয়েও বেশি মজা হয়।

প্রথমে চাল ডাল ধুয়ে নিবেন 3:2 অনুপাতে। তারপরে নিম্নোক্ত উপাদানগুলো 'পরিমান মত' ঢেলে ভালো মত ঝাকানাকা করুন:
পেঁয়াজ কুঁচি
আদা বাটা, রসুন বাটা
তেল, লবন
হলুদ আর মরিচ পাউডার
এলাচ, দাড়চিনি

এরপরে, যদি স্টকে সবজি থাকে তো সব ঢেলে দিন কুচি করে (এটা পরেও করতে পারেন, যখন চাল ফুটে উঠবে)।

ভালো করে নেড়ে চেড়ে বসিয়ে দিন! মনে থাকলে একটু পর পর এসে নাড়া দিয়ে যান।

যাক, পেয়ে গেলেন তিন তিনটা সহজ কিন্তু উইথ টুইস্ট রান্নার প্রণালী। রান্না করে সবাইকে নিয়ে (বা একা একা) হালুম হুলুম খান...
ওহ, রান্না মজা না হইলে এর দায় লেখকের না, আপনারে দিয়ে মিয়া রান্নাই হবে না
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৫৭
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ খোকার অভিমান

লিখেছেন ইসিয়াক, ২০ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৬


খোকা খাবে মুড়ি মুড়কি, মা দিলো খই
এই নিয়ে অশান্তি, ব্যাপক হই চই।

বাবা যাচ্ছে হাটে, খোকা পিছু ছোটে
বকা খেয়ে ঘরে ফিরে কাঁদছে মাথা খুঁটে। 

কত কাজই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: বালির নীল গোলকধাঁধা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:১২



কুয়ালালামপুর অপারেশনের ঠিক সাতদিন পর। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের ‘নগুরা রাই’ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন একটি প্রাইভেট চার্টার্ড বিমান ল্যান্ড করল, তখন বালির আকাশ জুড়ে গোধূলির রক্তিম আলো।

বিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

যদি কামের কাম না হয়, সংখ্যা দেখলে বিগাড় ওঠে

লিখেছেন অপলক , ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২২



বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। এতেই রুগিরা সেবা পায়না, অপরিচ্ছন্ন, লোকবল নেই, যন্ত্রাংশ নষ্ট, ওষূধ নেই, ১৫০০ শষ্যাবিশিষ্ট করে লাভ কি? সেবা নিশ্চিত হবে না...

এখন ডাক্তাররা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি কার জন্য বাঁচো? কীভাবে এ-আই দিয়ে কভার সং তৈরি করি?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩

প্রথমত, এ-আই দিয়ে গান তৈরি করা অনেক সহজ। আপনি নিজে কোনো লিরিক না লিখে, কোনো সুর তৈরি না করেও এ-আই-তে প্রম্পট দিয়েই গান তৈরি করে ফেলতে পারেন। তবে সেটা আপনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশবাড়ীর মূর্তি বিতর্ক, ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালে কি অন্য কোনো নীলনকশা?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:১৪

সাম্প্রতিক ভূরাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সমীকরণে হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারবা অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ফাটল ও অননুমোদিত কাঠামোর মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×